অবকাঠামো সংকটে জাবিপ্রবি ব্যাহত শিক্ষা, অপেক্ষায় প্রকল্প

জামালপুর প্রতিনিধি, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ১১ অক্টোবর ২০২৬, ১৭:২৯
অ- অ+

শিক্ষা ও গবেষণায় বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও তীব্র অবকাঠামো সংকটে ধুঁকছে জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (জাবিপ্রবি)। শ্রেণিকক্ষ, আবাসন, পরিবহন ও ল্যাব সংকটের কারণে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে- ১ হাজার ৫৭৩ কোটি ৫০ লাখ টাকার একটি মেগা উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন পেলেই কাটবে এসব সংকট।

২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় দেশের ৪৪তম এই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়টি। জামালপুর শহর থেকে প্রায় ১১ কিলোমিটার দূরে মেলান্দহ উপজেলার গোবিন্দগঞ্জে ১৬ একর জমির ওপর এর অবস্থান। প্রতিষ্ঠার নয় বছর পেরিয়ে গেলেও ময়মনসিংহ বিভাগের একমাত্র বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়টির কার্যক্রম এখনও চলছে পুরনো ফিশারিজ কলেজের অবকাঠামোর ওপর নির্ভর করেই। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮টি বিভাগে মোট ১৩০০ শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। এর বিপরীতে শিক্ষক রয়েছেন ৫৮ জন এবং কর্মকর্তা-কর্মচারী আছেন ৯০ জন।

বিশাল এই শিক্ষার্থী সংখ্যার বিপরীতে আবাসিক হলে আসন রয়েছে মাত্র ৩৫০টি। ফলে মাত্র ৫ থেকে ১০ শতাংশ শিক্ষার্থী হলে থাকার সুযোগ পান। বাধ্য হয়েই অধিকাংশ শিক্ষার্থীকে থাকতে হয় দূরে জামালপুর শহরের বিভিন্ন মেসে। এতে আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীদের ওপর বাড়তি চাপ পড়ছে। শহর থেকে ক্যাম্পাসে যাতায়াতের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থাও অত্যন্ত অপ্রতুল।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের ৩য় বর্ষ ২য় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী সারোয়ার হাসান সজীব জানান, ক্যাম্পাসে যাতায়াতের বাসের সংখ্যা কম হওয়ায় অনেক সময় ওঠার জায়গাই মেলে না। বাস মিস করলে নির্ধারিত সময়ে ক্লাসে বা পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সম্ভব হয় না। যাতায়াতে যানজট ও দূরত্বের কারণে ৮টায় ক্লাস থাকলে ভোর ৬টায় উঠতে হয়।

ব্যবস্থাপনা বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী অপি আজাদ শর্ণা বলেন, লাইব্রেরিতে সকাল ৯টার পর আর বসার জায়গা পাওয়া যায় না। এতে অনেক দূর্ভোগ পোহাতে হয়।

আবাসন ও পরিবহনের পাশাপাশি রয়েছে তীব্র শ্রেণিকক্ষ ও ল্যাব সংকট। বিশ্ববিদ্যালয়ের চাহিদা অনুযায়ী ৭০টির বেশি শ্রেণিকক্ষ প্রয়োজন হলেও বর্তমানে রয়েছে মাত্র ৩০ থেকে ৩২টি। বাধ্য হয়েই ল্যাবরেটরি গুলোকে শ্রেণিকক্ষ হিসেবে ব্যবহার করতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইইই বিভাগের চেয়ারম্যান মো. সিজার রহমান বলেন, আমাদের শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে আমরা ল্যাবকেই ক্লাসরুম হিসেবে ব্যবহার করে পাঠদান চালিয়ে নিচ্ছি।

ফিশারিজ বিভাগের চেয়ারম্যান ও ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাদীকুর রহমান জানান, প্রতিটি বিভাগে বর্তমানে তিনটি করে শ্রেণিকক্ষ রয়েছে। সংকট মেটাতে বিভাগগুলো নিজেদের মধ্যে শ্রেণিকক্ষ শেয়ার করে কোনোমতে পাঠদান অব্যাহত রেখেছে।

তবে এসব সংকট নিরসনে একটি মেগা উন্নয়ন প্রকল্পের দিকে তাকিয়ে আছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার সারোয়ার জাহান বলেন, সম্পূর্ণ বিষয়টি এখন ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা)-এর ওপর নির্ভরশীল। ১ হাজার ৫৭৩ কোটি ৫০ লাখ টাকার এই প্রকল্পটির ফাইল বর্তমানে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে গেছে। আশা করছি খুব দ্রুতই এটি প্রি-একনেক এবং পরে একনেক সভায় অনুমোদনের জন্য যাবে। এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলেই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান সব সমস্যার দ্রুত সমাধান হবে বলে আমরা আশাবাদী।

শিক্ষার্থী ও সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত এই মেগা প্রকল্পটি অনুমোদন ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি পূর্ণাঙ্গ ও আধুনিক উচ্চ শিক্ষার বিদ্যাপীঠ হিসেবে গড়ে তোলা হোক।

(ঢাকা টাইমস/১১অক্টোবর/এসএ)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
সেবার মান আরও বাড়ানো গেলে চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার প্রবণতা কমবে: রাষ্ট্রপতি
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের মাস্টার প্যারেড অনুষ্ঠিত
দুর্গাপূজায় চলবে তিন জোড়া বিশেষ ট্রেন, সময়সূচি প্রকাশ
রবীন্দ্রনাথের ছবিতে কালি: আয়াসসহ ৪ জনের রিমান্ড