ইয়েমেন যাওয়ার পথে নৌকাডুবি, ১৫ শিশুসহ নিহত অন্তত ১০৯

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ১১ অক্টোবর ২০২৬, ১৭:৪৯
অ- অ+

পূর্ব আফ্রিকার দেশ জিবুতির উপকূলে নৌকাডুবিতে অন্তত ১০৯ জন অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১৫টি শিশু রয়েছে। এ ঘটনায় আরও প্রায় ১১৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। উন্নত জীবনের আশায় জিবুতি থেকে ইয়েমেনের উদ্দেশে যাওয়ার সময় অভিবাসীদের বহনকারী একটি নৌকা ডুবে গেলে হতাহতের এই ঘটনা ঘটে।

সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড বলছে, রোববার (১১ অক্টোবর) জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) এই তথ্য জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, গত ৮ ও ৯ অক্টোবরের মধ্যবর্তী রাতে জিবুতি থেকে ইয়েমেনের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া ওই নৌকাটি ডুবে যায়। এতে ৩৫০ জন যাত্রী ছিলেন। বেঁচে ফেরা ব্যক্তিদের বরাতে সংস্থাটি জানায়, জিবুতির ওবক শহরের উত্তরে নৌকাটি উল্টে যায়।

বিবৃতিতে জিবুতিতে আইওএমের মিশনপ্রধান আলেক্সান্দ্রে কোয়িসাক বলেন, ‘এটি প্রাণহানির এক ভয়াবহ ঘটনা। যারা বেঁচে ফিরেছেন, যারা স্বজনদের হারিয়েছেন এবং যারা এখনো তাদের স্বজনদের কোনো খোঁজ পাচ্ছেন না, তাদের সবার প্রতি আমাদের সমবেদনা।’

তিনি জানান, জরুরি সহায়তা দিতে আইওএমের কর্মীরা জিবুতির কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘটনাস্থলে কাজ করছেন।

কোয়িসাক বলেন, ‘এই মর্মান্তিক ঘটনা অভিবাসীদের এই পথে চলাচলের ভয়াবহ ঝুঁকির কথা আবারও মনে করিয়ে দেয়। অর্থনৈতিক উন্নতি ও সুযোগের আশায় বাব আল-মান্দেব প্রণালি পেরিয়ে ইয়েমেনে এবং পরে উপসাগরীয় দেশগুলোতে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন এসব অভিবাসীরা।’

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, উদ্ধার করা ১০৯টি মরদেহের মধ্যে ৫২ জন পুরুষ, ৪২ জন নারী ও ১৫টি শিশু রয়েছে। শিশুদের মধ্যে ৯ জন মেয়ে এবং ৬ জন ছেলে। এছাড়া নৌকাডুবির ঘটনায় ৮০ জনের বেশি মানুষ বেঁচে গেছেন। তারা সবাই ইথিওপিয়ার নাগরিক।

আইওএম বলেছে, ‘দারিদ্র্য, নিরাপত্তাহীনতা ও জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব অনেক মানুষকে এই বিপজ্জনক যাত্রায় নামতে বাধ্য করছে। অথচ একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অস্থিতিশীলতাও বাড়ছে।’

ইয়েমেনে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার ও ইরানের সমর্থনপুষ্ট হুতি মিলিশিয়াদের মধ্যে বর্তমানে তীব্র লড়াই চলছে। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সংঘাতের সঙ্গে যুক্ত হয়ে হুতিরাও আঞ্চলিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে।

আইওএম জানিয়েছে, নৌকাডুবির পর জীবিত উদ্ধার হওয়া ৬৪ জন ব্যক্তিকে ওবক শহরের একটি অভিবাসী কেন্দ্রে সহায়তা দেয়া হচ্ছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘নিখোঁজ ব্যক্তিদের বেঁচে থাকার আশা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। জিবুতির কর্তৃপক্ষ এখনো তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।’

আইওএমের তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ সেপ্টেম্বর থেকে ইথিওপিয়া থেকে জিবুতিতে ২০ হাজারের বেশি মানুষের সীমান্ত পার হওয়ার ঘটনা শনাক্ত করেছে সংস্থাটি।

সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, ২০২৫ সালে ইয়েমেন যাওয়ার সময় সমুদ্রপথে ৯০০ জনের বেশি অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে অথবা তারা নিখোঁজ হয়েছেন। একই সময়ে এই পথে যাত্রার চেষ্টাকারীর সংখ্যা ১৮ শতাংশ বেড়েছে।

এর আগে চলতি বছরের মার্চে আরেকটি নৌকাডুবিতে ৯ জনের মৃত্যু হয় এবং ৪৫ জন নিখোঁজ হন। বার্তা সংস্থা এএফপিকে চলতি সপ্তাহে আইওএমের মুখপাত্র কেনেডি ওমন্দি ওকোথ বলেন, এই পথে যাত্রার চেষ্টাকারীদের অধিকাংশই ইথিওপিয়া বা সোমালিয়ার নাগরিক।

তিনি বলেন, তাদের অনেকেই শেষ পর্যন্ত জিবুতিতে আটকা পড়ছেন।

এমন অবস্থায় আইওএম দাতা সংস্থা ও সহযোগীদের প্রতি জিবুতির তৎপরতায় আরও সহায়তা দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে। এর মধ্যে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান এবং জীবন রক্ষাকারী জরুরি সহায়তা জোরদার করার বিষয়টিও রয়েছে।

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
সরকার জুজুর ভয় দেখিয়ে গণভোটের রায় ও নিত্যপণ্যের সংকট অস্বীকার করছে: মিয়া গোলাম পরওয়ার
শাহজালাল বিমানবন্দরে ২ কোটি ৭০ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার ও হীরা জব্দ
ভারতে পালিয়ে যাওয়ার দুই বছর পর দেশে ফিরল রোটনের মরদেহ
সেবার মান আরও বাড়ানো গেলে চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার প্রবণতা কমবে: রাষ্ট্রপতি