এ বছর ৩৩ হাজার পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা, পর্যাপ্ত নিরাপত্তার আশ্বাস আইজিপির

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ১১ অক্টোবর ২০২৬, ১৭:০৮
অ- অ+

এ বছর সারা দেশে প্রায় ৩৩ হাজার পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা উদ্‌যাপিত হবে। পূজা নির্বিঘ্নে ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উদ্‌যাপন নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির।

রবিবার দুপুরে পুলিশ সদর দপ্তরের হল অব প্রাইডে শারদীয় দুর্গাপূজা ২০২৬ উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তাবিষয়ক সভায় সভাপতিত্বকালে তিনি এ কথা বলেন।

আইজিপি বলেন, দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রাক্‌-পূজা, পূজা চলাকালীন এবং প্রতিমা বিসর্জন ও পূজা-পরবর্তী সময়—এই তিন পর্যায়ে নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে পূজাকেন্দ্রিক পুলিশের নিরাপত্তা কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

তিনি বলেন, পূজাকে কেন্দ্র করে কোনো মহল বা গোষ্ঠী যাতে সামাজিক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে না পারে, সে জন্য সবাইকে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে। এ ক্ষেত্রে কমিউনিটি পুলিশিং ও বিট পুলিশিংয়ের মাধ্যমে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

আইজিপি আশা প্রকাশ করেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রতিবছরের মতো এবারও দুর্গাপূজা নিরাপদ ও আনন্দঘন পরিবেশে উদ্‌যাপিত হবে।

গুজব ও অপপ্রচারে নজরদারি

সভায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর পোস্ট, অপপ্রচার, গুজব বা ছবি প্রকাশের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টাকারীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে মাঠপর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় বিভিন্ন ধর্মের গণ্যমান্য ব্যক্তি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা এবং নিয়মিত পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের জন্যও পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সভায় জানানো হয়, দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, সে জন্য পুলিশ সতর্ক রয়েছে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে অথবা নিকটস্থ থানায় যোগাযোগ করতে পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের নেতাদের অনুরোধ জানানো হয়।

সিসিটিভি ও স্বেচ্ছাসেবক রাখার আহ্বান

পূজা চলাকালে পূজামণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা সচল রাখা, মণ্ডপ ও প্রতিমা বিসর্জনস্থলে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা এবং বিকল্প বিদ্যুতের জন্য স্ট্যান্ডবাই জেনারেটর রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি মণ্ডপে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের নেতাদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় পোশাকধারী ও সাদাপোশাকের পুলিশের পাশাপাশি সোয়াট, ক্রাইম রেসপন্স টিম (সিআরটি), কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি), ক্রাইম সিন ভ্যান এবং বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট প্রস্তুত থাকবে।

দুর্গাপূজা উপলক্ষে পুলিশ সদর দপ্তরসহ অন্যান্য পুলিশ ইউনিটে সার্বক্ষণিক মনিটরিং সেল চালু থাকবে বলেও সভায় জানানো হয়।

সভায় ছিলেন বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা

সভায় পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ, বিভিন্ন পূজা উদ্‌যাপন ফ্রন্ট, রমনা কালীমন্দির, রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশন এবং মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রমেশ দত্তসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা সভায় অংশ নেন। ঢাকায় পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের প্রধান ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি, জেলার পুলিশ সুপার এবং নৌ পুলিশের পুলিশ সুপারেরা ভার্চ্যুয়ালি সভায় যুক্ত হন।

সভায় উপস্থিত নেতারা দুর্গাপূজা উপলক্ষে নেওয়া নিরাপত্তাব্যবস্থা সম্পর্কে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং সরকার ও পুলিশ প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানান।

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের জেলা সভাপতি মাহবুব আলী খান মারা গেছেন
অবকাঠামো সংকটে জাবিপ্রবি ব্যাহত শিক্ষা, অপেক্ষায় প্রকল্প
কায়দা করে বাঁচার জন্য আ.লীগ-ছাত্রলীগ এখন জামায়াত হয়ে যাচ্ছে: রাশেদ খাঁন
চাঁদপুরে মাদকসহ ২০ জন ও কিশোর গ্যাংয়ের ৭০ সদস্য আটক