রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলা: ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত ফ্লাইট স্থগিত করল বিমান বাংলাদেশ

সৌদি আরবের রিয়াদে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলা ও নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে ঢাকা থেকে রিয়াদগামী সব ফ্লাইট ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।
আজ সোমবার (১২ অক্টোবর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় উড়োজাহাজ সংস্থাটি।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, রিয়াদ বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় বাংলাদেশ সময় ও তারিখ অনুযায়ী ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা থেকে রিয়াদগামী বিমানের সব ফ্লাইট স্থগিত থাকবে। ফ্লাইটের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত ও নতুন সময়সূচি যথাসময়ে জানানো হবে। সাময়িক অসুবিধার জন্য যাত্রীদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে তাদের সহযোগিতা কামনা করেছে বিমান কর্তৃপক্ষ।
ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক হামলার কারণে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। গত শনিবার বিমানবন্দরে হামলায় বহু মানুষ হতাহত হওয়ার পর রবিবারও সেখানে হামলার ঘটনা ঘটে।
সৌদি কর্তৃপক্ষের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, রবিবারের হামলায় একজন নিহত ও ১১ জন আহত হন। এর আগের দিনের হামলায় ১২ জন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হয়েছিলেন। এতে বাংলাদেশিরাও রয়েছেন।
হামলার পর বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও কার্যক্রম চালুর উপযোগিতা যাচাই করতে বন্ধের সময় বাড়িয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। কবে বিমানবন্দর পুরোপুরি চালু হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময় জানানো হয়নি।
এই পরিস্থিতিতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থার ফ্লাইটও বাতিল করা হয়েছে। রিয়াদ বিমানবন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ঢাকা-রিয়াদ রুটে বিমানের ফ্লাইট চলাচলও অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকবে।
সৌদি আরবের বিমানবন্দরে বিধিনিষেধের কারণে সোমবার পর্যন্ত মোট ৫১টি ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে। এর মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট ১২টি এবং ট্রানজিট ফ্লাইট ৩৯টি। ফ্লাইট স্থগিত হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন প্রায় ৫ হাজার ৪১৮ জন যাত্রী।
সোমবার কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থেকে রিয়াদ যাওয়ার উদ্দেশে বিমানবন্দরে এসেছিলেন শহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘বিমানবন্দরে আসার পর কর্তৃপক্ষ জানায়, ফ্লাইট বন্ধ। কখন ফ্লাইট চালু হবে, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ কিছু বলেনি।’
ঢাকার নবাবগঞ্জের সৌদিপ্রবাসী ইসলাম শিকদার আট বছর ধরে রিয়াদের একটি কোম্পানিতে চাকরি করেন। তিনি বলেন, ‘শনিবার (১০ অক্টোবর) আমার রিয়াদের ফ্লাইট ছিল। বিমানবন্দরে এসে জানতে পারি, ফ্লাইট বাতিল হয়ে গেছে। বিমানবন্দরের ভেতরে যোগাযোগ করার পর কর্তৃপক্ষই শিডিউল পরিবর্তন করে দিয়েছে।’
শহিদুল ইসলাম ও ইসলাম শিকদারের মতো আরও অনেক প্রবাসীকে ফ্লাইট স্থগিতের কারণে ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে যেতে না পেরে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তারা। কবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে এবং ফ্লাইট চলাচল পুরোপুরি চালু হবে, তা নিয়ে অপেক্ষায় রয়েছেন যাত্রীরা।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













