সামরিক সক্ষমতা বাড়াচ্ছে ইরান, নতুন হামলার শঙ্কায় ইসরাইল

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় ক্ষয়ক্ষতির পর সামরিক সক্ষমতা পুনরুদ্ধারে কাজ করছে ইরান। দেশটির সামরিক প্রস্তুতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ইসরাইল।
ইরান সামরিক শক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে সক্ষম হলে দেশটিতে নতুন করে হামলা চালানোর বিষয়টি বিবেচনায় নিতে পারে তেল আবিব।
বুধবার (২১ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্ট।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠন এবং নতুন করে সামরিক প্রস্তুতি নেওয়ার বিষয়ে পাওয়া গোয়েন্দা তথ্য পর্যালোচনা করেছেন ইসরাইলের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরানের সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধির কিছু ইঙ্গিতও পেয়েছেন তারা। এসব প্রস্তুতি সম্পন্ন হলে ইরানের যুদ্ধ করার সক্ষমতা বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আপাতত ইরানের সঙ্গে নতুন করে সংঘাতে জড়াতে আগ্রহী নন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আলোচনার বিষয়ে অবগত কর্মকর্তারা। দেশটিতে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করতে চান তিনি। নতুন করে যুদ্ধে জড়ালে ইসরাইলে জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, যা নির্বাচনী পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলবে।
তবে ইরানের সামরিক তৎপরতার পরিবর্তনের ওপর পরিস্থিতি নির্ভর করছে। নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের মতে, পরিস্থিতির অবনতি হলে আত্মরক্ষার যুক্তিতে ইরানে সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে ইসরাইল। ফলে নির্বাচন সামনে থাকলেও সম্ভাব্য হামলার বিষয়টি পুরোপুরি বাদ দেওয়া হচ্ছে না।
এদিকে ইরানকে ঘিরে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার মধ্যে সোমবার আকস্মিক সফরে ইসরাইল যান যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী পিট হেগসেথ। দক্ষিণ ইসরাইলের ওভদা বিমানঘাঁটিতে তিনি নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেন। এতে ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ, জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান শমুয়েল বেন এজরা এবং জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ইরানের পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনায় নতুন করে অভিযান চালানোর সম্ভাবনাও দুই দেশের আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তবে বৈঠকের বিষয়ে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কিংবা পেন্টাগন আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য দেয়নি।
হেগসেথের সফরটি আগাম ঘোষণা ছাড়াই অনুষ্ঠিত হয়। জেরুজালেমের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বা তেল আবিবের সামরিক সদর দপ্তরের পরিবর্তে দক্ষিণ ইসরাইলের একটি বিমানঘাঁটিতে বৈঠক আয়োজনের বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
ইরানের সামরিক সক্ষমতা পুনরুদ্ধারের অগ্রগতি এবং দুই মিত্র দেশের নিরাপত্তা আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা তৈরির আশঙ্কা বাড়ছে। তবে ইসরাইল কবে বা আদৌ ইরানে নতুন হামলা চালাবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













