ক্ষমতা ও সুযোগ-সুবিধা ছেড়ে পদত্যাগ, কেন ব্যতিক্রমী এই সিদ্ধান্ত?

ক্ষমতাসীন দলের কাছ থেকে পাওয়া সব সুযোগ-সুবিধা পরিত্যাগ করে স্বেচ্ছায় সাহসের সঙ্গে দল ছেড়ে চলে যাওয়া সহজ কোনো কাজ নয়। সংখ্যায় বিরল ও কম হলেও দেশের স্বার্থে এ রকম দু-একজন সাহসী মানুষ সমাজে না থাকলে দেশ অচিরেই অতল গহ্বরে ডুবে যেতে বাধ্য।
সকল ক্ষেত্রে নৈরাজ্য ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, খুন, ধর্ষণ, সড়ক দুর্ঘটনা, মানুষের জমি দখল, ঘুষের রেট বৃদ্ধি, সরকারি সব ধরনের ট্যাক্স-ভ্যাট ও নবায়ন ফি বৃদ্ধি, সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের গলায় কাঁটার মতো বিঁধিয়ে দেওয়া—ইত্যাদি ছাড়া চারদিকে তেমন কোনো সুখবর নেই।
ড. আসাদুজ্জামান রিপনের মতো শিক্ষিত কিংবা গয়েশ্বর, দুদু, আমান, মিলন, আলম, খোকন, আলাল, সোহেল, হেলাল ও জুয়েলের মতো শত শত শিক্ষিত, ত্যাগী ও সৎ মানুষকে ঘরে বেকার বসিয়ে রেখে, তাঁদের উপস্থিতি ও যোগ্যতা দেখেও না দেখার ভান করে, ইংরেজি বা বাংলা পড়তে পারেন না—এমন কিছু লোককে রাষ্ট্রযন্ত্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বসিয়ে দেশটাকে পিছিয়ে দেওয়ার এক প্রতিযোগিতা চলছে সর্বত্র।
দেশের এগিয়ে যাওয়ার গতি যদি ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার হতে পারত, তাহলে মাত্র ১০ কিলোমিটার গতিতে দেশকে এগিয়ে নিয়ে রাষ্ট্রযন্ত্রের পুরোটা ব্যবহার করে এই ১০ কিলোমিটারকেই নজিরবিহীন উন্নয়নের গতি বলে প্রচার চালানো হচ্ছে বিগত প্রায় ৪৫ বছর ধরে।
দেশটার এমন একটি গর্তে ডুবে মরার মতো পরিস্থিতিতে ক্ষমতাসীন দলের পদধারী নেতা হওয়া সত্ত্বেও সাহস করে পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়া অবশ্যই হাজারো অবক্ষয়ে ডুবে থাকা দেশের জনগণের জন্য সত্যের পক্ষে সাহস করে অবস্থান নেওয়ার ক্ষেত্রে কিছুটা হলেও অনুপ্রেরণা জোগাবে।
(বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি সাহাবুদ্দিন লাল্টুর ফেসবুক পোস্ট এটি)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













