দেশের ১০ জেলায় নদ-নদীর পানি বেড়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, সতর্কতা জারি

অনলাইন ডেস্ক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ২৯ জুন ২০২৬, ১০:৩২
অ- অ+

উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও টানা বৃষ্টির কারণে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে শুরু করেছে। দেশের উত্তর, উত্তর-পূর্ব ও উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় ১০টি জেলায় বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে সতর্কতা জারি করেছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সিলেট, সুনামগঞ্জ, নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, রংপুর, গাইবান্ধা, শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে।

সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার ৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় পানির উচ্চতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। একইসঙ্গে সুরমা-কুশিয়ারা অববাহিকার নদীগুলোর পানিও বাড়ছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা, সুনামগঞ্জের মারকুলি পয়েন্টে কুশিয়ারা এবং নেত্রকোনার কলমাকান্দা পয়েন্টে সোমেশ্বরী নদী সতর্কসীমায় প্রবাহিত হচ্ছে।

ব্রহ্মপুত্র-যমুনা অববাহিকার নদীগুলোর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় বৃদ্ধি পেয়েছে এবং আগামী পাঁচ দিন এই প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। ১ থেকে ৩ জুলাইয়ের মধ্যে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়ার বিভিন্ন পয়েন্টে পানি সতর্কসীমা স্পর্শ করতে পারে।

রংপুর বিভাগের তিস্তা, দুধকুমার ও ধরলা নদীর পানি স্থিতিশীল থাকলেও আগামী তিন দিনে পানি বাড়ার পূর্বাভাস রয়েছে। এতে নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, রংপুর ও গাইবান্ধার নিম্নাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

কুড়িগ্রামে দুধকুমার নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছেছে। ফলে ইতোমধ্যে নদীতীরবর্তী কয়েকটি এলাকায় পানি প্রবেশ করেছে এবং ফসলি জমি তলিয়ে গেছে।

ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের সারিগোয়াইন, যাদুকাটা, সোমেশ্বরী, মনু, খোয়াই ও ধলাই নদীর পানি আবারও বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এতে শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনার নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিনে রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগ এবং ভারতের মেঘালয়, আসাম, অরুণাচল ও পশ্চিমবঙ্গে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। উজানের এই বৃষ্টিপাত দেশের নদীগুলোর পানি বৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের ২৪৮টি পর্যবেক্ষণ স্টেশনের মধ্যে ১২৭টিতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে, ৬৯টিতে কমেছে এবং ৫২টিতে অপরিবর্তিত রয়েছে। বর্তমানে একটি স্টেশনে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র নদীসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

(ঢাকাটাইমস/২৯ জুন/আরজেড)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
দুধকুমারের পানি বিপৎসীমার ২৬ সেন্টিমিটার উপরে, পানিবন্দি ২০ গ্রাম
বৈষম্যহীন ও দক্ষ শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য: ড. মাহদী আমিন
নতুন প্রজন্মকে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে: শিক্ষামন্ত্রী
প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকার এনজিওগুলোর সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করতে চায়: ববি হাজ্জাজ
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা