বেঙ্গল স্যু ইন্ডাস্ট্রিজে ঝুলল বন্ধের তালা, বেকার দুই হাজার শ্রমিক

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩০
অ- অ+

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরের পরিচিত শিল্পপ্রতিষ্ঠান বেঙ্গল স্যু ইন্ডাস্ট্রিজ স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের ব্যাংকিং জটিলতা ও আর্থিক সংকটের কারণে কারখানাটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রায় দুই হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন। একই সঙ্গে প্রায় পাঁচ মাসের বেতন-ভাতা বকেয়া থাকায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন অনেক শ্রমিক।

রায়পুর উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের রাখালিয়া এলাকায় অবস্থিত কারখানাটি প্রায় দুই দশক ধরে পরিচালিত হয়ে আসছিল। চলতি বছরের ১৫ মে কারখানার ফটকে স্থায়ীভাবে বন্ধের নোটিশ ঝুলিয়ে দেয় মালিকপক্ষ।

শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাদের অনেকেই পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। কারও বাবা নেই, কারও স্বামী নেই। দীর্ঘদিন কাজ ও বেতন না থাকায় সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা। কয়েক মাস ধরে অনেকের ঠিকমতো দুবেলা খাবারও জুটছে না বলে জানান শ্রমিকরা।

তবে পুরুষ শ্রমিকদের কেউ কেউ বিকল্প কাজে যুক্ত হতে পারলেও সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নারী শ্রমিকরা। তাদের অনেকেই নতুন কাজের সুযোগ পাচ্ছেন না।

সোনাপুর এলাকার শ্রমিক সুমি আক্তার বলেন, পুরুষ শ্রমিকদের অনেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে কাজ পেলেও যুবতী ও মধ্যবয়সী নারীরা কোথাও কাজ পাচ্ছেন না। বিসিক শিল্পনগরীতেও যোগাযোগ করেও কোনো ব্যবস্থা হয়নি। বিশেষ করে বিধবা ও একার আয়ে চলা নারীদের টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. মাসুম, হাবিবুর রহমান ও মানিক হোসেন জানান, শ্রমিকরা জমানো সামান্য টাকা দিয়ে এতদিন কোনোভাবে দিন পার করেছেন। কিন্তু এলাকায় নতুন কাজের সুযোগ সীমিত হওয়ায় তাদের অনেকেই এখন চরম সংকটে পড়েছেন। পাশাপাশি স্থানীয় শ্রমবাজারে মজুরিও তুলনামূলক কম।

কারখানাটির স্বত্বাধিকারী টিপু সুলতান ও সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার (প্রশাসন) বিপ্লব পাল বলেন, ‘বিগত ২০ বছর ধরে লাভ-ক্ষতির হিসাব মিলিয়ে আমরা কারখানাটি চালিয়ে আসছিলাম। ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি সুবিধা বন্ধ হয়ে যাওয়া ও ব্যাংকিং জটিলতার কারণে আমরা নিরুপায় হয়ে পড়েছি।’

তারা আরও বলেন, ‘সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের অনুরোধ, ব্যাংকিং সুবিধা পুনরুজ্জীবিত করে লে-অফ তুলে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হোক।’

প্রতিষ্ঠানটি পুনরায় চালুর জন্য সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন রায়পুর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মারুফ বিন জাকারিয়া। তিনি বলেন, ‘হাজারো পরিবারের সচ্ছলতা এই কারখানার ওপর নির্ভরশীল ছিল। এটি বন্ধ হওয়ায় বিরাট একটি জনগোষ্ঠী বেকার হয়ে পড়েছে। কর্মসংস্থান রক্ষায় সরকারের দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।’

রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান কাউছার বলেন, ব্যাংক সুবিধাজনিত সংকটের কারণেই কারখানাটি বন্ধ হয়ে গেছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন। শ্রমিকদের বকেয়া বেতন নিয়ে কয়েক দফা বৈঠক করে সমাধানের চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত মালিকপক্ষ কারখানাটি স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে।

(ঢাকাটাইমস/৪ অক্টোবর/আরজেড)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
বান্দরবানে তুমব্রু সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ৪ লাখ ২০ হাজার ইয়াবা জব্দ
যানজট নিরসনে বৃত্তাকার সড়কের নির্মাণকাজ দ্রুত করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
World Teachers Day and the Hope for Universal Quality Education
মদিনায় ড্রোন হামলায় বাংলাদেশের তীব্র নিন্দা