ইতালি পাঠানোর প্রলোভনে লিবিয়ায় পাচার ও নির্যাতন, গ্রেপ্তার ২

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ১৫:৩৩| আপডেট : ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ১৬:১৪
অ- অ+

ইতালিতে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে টাকা নেওয়ার পর এক যুবককে মিশর হয়ে লিবিয়ায় পাচার এবং সেখানে আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগে করা মামলায় মানবপাচার চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

গ্রেপ্তার দুজন হলেন–মো. আতিকুর রহমান টমাস (৩২) ও মো. বদিউল আলম ভূঁইয়া ওরফে বেলাল (৫৪)।

গত সোমবার বিকাল পাঁচটার দিকে ঢাকার বিমানবন্দর থানার আশকোনা হাজি ক্যাম্পের সিভিল এভিয়েশন ওয়েলফেয়ার মার্কেটের সামনে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

মঙ্গলবার সিআইডির সংবাদ এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

সিআইডি সূত্রে জানা যায়, নোয়াখালীর সেনবাগের বাসিন্দা ওই যুবক প্রায় তিন বছর সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন। দেশে ফেরার পথে বিমানে এক সহযাত্রীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। ওই সহযাত্রীর মাধ্যমে তিনি মানবপাচার চক্রের এক সদস্যের সঙ্গে পরিচিত হন। চক্রের সদস্যরা তাকে লিবিয়া হয়ে নিরাপদে ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখান। এ জন্য ১২ লাখ টাকার বিনিময়ে তাকে ইতালি পাঠানোর চুক্তি করা হয়।

চুক্তি অনুযায়ী, গত ৫ এপ্রিল ওই যুবক ঢাকার আশকোনার একটি অফিসে পাসপোর্ট জমা দেন এবং অগ্রিম ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা দেন। ৭ এপ্রিল তাকে প্রথমে ভারতের নয়াদিল্লি এবং পরে শ্রীলঙ্কার কলম্বোয় পাঠানো হয়। সেখানে প্রায় ১৬ দিন অবস্থানের পর বিভিন্ন অজুহাতে তার পরিবারের কাছ থেকে ধাপে ধাপে আরও টাকা নেওয়া হয়। পরে তাকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ হয়ে মিশরের কায়রোতে পাঠানো হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, কায়রো বিমানবন্দর থেকে চক্রের এক সদস্য ওই যুবককে একটি বাসায় নিয়ে প্রায় পাঁচ দিন আটকে রাখেন। পরে পূর্বের চুক্তির কথা বলে তার কাছে আরও ৬ হাজার মার্কিন ডলার দাবি ও গ্রহণ করা হয়। এভাবে নগদ টাকা, বিকাশ ও ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ওই যুবক ও তার পরিবারের কাছ থেকে মোট প্রায় ১২ লাখ ৬৭ হাজার টাকা নেওয়া হয়।

এরপর ওই যুবককে গাড়িতে করে মিশর থেকে দুর্গম মরুভূমি ও পাহাড়ি সীমান্ত অতিক্রম করে লিবিয়ায় নেওয়া হয়। সেখানে চক্রের সহযোগী হিসেবে পরিচিত এক ব্যক্তি তাকে একটি কথিত ‘গেম রুমে’ আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

পরে লিবিয়ার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালিয়ে অন্যদের সঙ্গে ওই যুবককেও আটক করে কারাগারে পাঠায়। কারাগারে থাকা অবস্থায় তাকে মুক্ত করার কথা বলে পরিবারের কাছে আরও ৬ লাখ টাকা দাবি করা হয়।

পরে লিবিয়া পুলিশ তাকে আটক করে গত ৭ জুলাই বাংলাদেশে ফেরত পাঠায়। দেশে ফিরে তিনি বাদী হয়ে গত ৫ অক্টোবর বিমানবন্দর থানায় মামলা করেন। মামলাটি মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬-এর বিভিন্ন ধারায় করা হয়।

মামলাটির তদন্তভার পাওয়ার পর সিআইডি তথ্য-উপাত্ত যাচাই এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে। পরে অভিযান চালিয়ে এজাহারনামীয় আসামি মো. আতিকুর রহমান টমাস ও মো. বদিউল আলম ভূঁইয়া ওরফে বেলালকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সিআইডি জানিয়েছে, গ্রেপ্তার দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলাটির তদন্ত চলছে।

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির একক প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমিন
রাজশাহী প্রেসক্লাব ও সদস্যদের জড়িয়ে অপপ্রচারের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি
রামেবি উপাচার্যকে জোর করে পদত্যাগ করানোর অভিযোগে বিএনপি নেতা গ্রেপ্তার
পে-স্কেল বাস্তবায়নে আরেক ধাপ এগোল সরকার, দপ্তরে দপ্তরে গেল গুরুত্বপূর্ণ চিঠি