নোয়াখালী বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘সমুদ্রবিজ্ঞান’ বিভাগ চালু

নোয়াখালী প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ০২ ডিসেম্বর ২০১৬, ২২:৪২ | প্রকাশিত : ০২ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০:১৬

নদীমাতৃক বাংলাদেশের সুবিশাল সমুদ্রসীমা নানা প্রাকৃতিক সম্পদে পরিপূর্ণ। এখানে রয়েছে জীব-বৈচিত্র, মৎস্য ও খনিজ সম্পদের অপূর্ব ভাণ্ডার। কিন্তু দক্ষ মানবসম্পদের অপ্রতুলতায় এর সঠিক ব্যবহার হচ্ছে না। এদেশে ওশনাগ্রাফি (সমুদ্রবিজ্ঞান) বিষয়ে সম্ভাবনাময় চাকরির বাজার থাকলেও উচ্চশিক্ষার অভাবে এর সুফল ভোগ করা যাচ্ছে না। এমন পরিস্থিতি বিবেচনায় এনে দেশে সমুদ্রবিজ্ঞান বিষয়ে পঠন-পাঠন ও গবেষণার সুযোগ সৃষ্টির পাশাপাশি এদেশের আর্থ সামাজিক চাহিদা পূরণে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ‘ওশনাগ্রাফি’ নামে একটি নতুন বিভাগ চালু করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন সম্প্রতি উপকূলের ক্যামব্রিজ নামে খ্যাত নোবিপ্রবিতে এই বিভাগটি চালুর অনুমোদন দেয়। বৃহস্পতিবার উপাচার্যের সভাপতিত্বে তাঁর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের এক জরুরি সভায় এ বিভাগে  প্রথমবারের মতো চলতি শিক্ষাবর্ষ (২০১৬-২০১৭) হতে স্নাতক (সম্মান) শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তি নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বিজ্ঞান অনুষদের অধীন ‘বি’গ্রুপের এ বিভাগটির আসন সংখ্যা ৩০।

এছাড়া মুক্তিযোদ্ধা ও উপজাতি কোটায় যথাক্রমে ২ ও ১ জন করে শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাবেন। 

বর্তমান চাকরির বাজারে সম্ভাবনাময় যেসব ক্ষেত্র রয়েছে তার মধ্যে সমুদ্রবিজ্ঞান অন্যতম। এ বিষয়ে পড়াশুনা করে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ফিশারিজ কোম্পানি, রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট, নৌবিষয়ক ও সমুদ্রবিষয়ক গবেষণামূলক প্রতিষ্ঠানে ক্যারিয়ার গড়তে পারবে ছাত্র-ছাত্রীরা।

গতানুগতিক চাকরির বাইরে পরিবেশ অধিদপ্তর, আবহাওয়া অধিদপ্তরের ফিশারিজ শাখা, ইউএনডিপিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোতেও এ বিভাগ থেকে পাশ করা শিক্ষার্থীদের কাজের সুযোগ তুলনামূলক বেশি। তাছাড়া শিক্ষার্থীরা চাইলে দেশের বাইরেও এ বিষয়ে ক্যারিয়ার গড়তে পারবে।

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের  উপাচার্য প্রফেসর ড. এম অহিদুজ্জামান এ বিষয়ে ঢাকাটাইমসকে বলেন, স্বাধীনতার মাত্র তিন বছরের মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সমুদ্র আইন প্রণয়ন করেছিলেন। আর তারই কন্যা শেখ হাসিনার চেষ্টায় আন্তর্জাতিক আদালতের এক রায়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ এক লাখ ১১ হাজার বর্গকিলোমিটার সমুদ্র এলাকার সার্বভৌমত্ব লাভ করে। সুবিশাল এ সমুদ্র এলাকায় থাকা অঢেল সম্পদ সম্পর্কে জ্ঞান আহরণ করে শিক্ষার্থীরা  দেশের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার স্বার্থে সমুদ্র সম্পদকে যেন কাজে লাগাতে পারে, সে লক্ষ্যকে সামনে রেখে  নোবিপ্রবিতে ওশনাগ্রাফির মতো এমন গুরুত্বপূর্ণ একটি বিভাগ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

উপাচার্য আরও বলেন, নতুন এ বিভাগ চালুর মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা দেশকে সেবা করার সুযোগ পাবে। এ বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য অন্যান্য দেশগুলোতে  রয়েছে বৃত্তির অফুরন্ত সুযোগ। ভাল ফলাফলধারীদের নরওয়ে, ডেনমার্ক ও ‘ইরাসমাস’ বৃত্তি লাভের সুযোগ রয়েছে। এছাড়াও থাইল্যান্ডের এশিয়ান ইনিস্টিটিউট অব টেকনোলজি এবং যুক্তরাজ্য, ভিয়েতনাম, সুইডেনসহ বিভিন্ন দেশে বৃত্তি নিয়ে এমএস-পিএইচডি করার সুযোগ রয়েছে ওশনাগ্রাফিতে গ্রেডুয়েটদের।

(ঢাকাটাইমস/০২ডিসেম্বর/প্রতিনিধি/ইএস)

সংবাদটি শেয়ার করুন

শিক্ষা বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিক্ষা এর সর্বশেষ

এই বিভাগের সব খবর