‘আমাগো আর ভালোবাসা, মা-বাপের আদরই পাই না’

ইমতিয়াজ উল ইসলাম, ঢাকাটাইমস
  প্রকাশিত : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ১৪:০৭| আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ১৪:২৭
অ- অ+

সাগর, কালা হাসান, পুষ্পা, নিপা ও তানিয়া শত শত দর্শনার্থীদের মাঝে ওরা ছিন্নমূল শিশু হিসেবেই পরিচিত। সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ এলাকা জুড়ে ওদের অবাধ বিচরণ। এ ধরনের শত শত শিশু রয়েছে এই এলাকায়। ওরা ফুল, পানি, বেলুন ও ময়ূরের পাখনা বিক্রি করে বেড়ায় সৌধ চত্বরের এদিক-ওদিক। এই সৌধ এলাকাতেই ১৪ ফেব্রুয়ারি ভালোবাসা দিবসে ভালোবাসার তকমা লাগিয়ে যখন কপোত-কপোতীরা ঘুরে বেড়ায় ওরা তখন পেটের তাগিদে ছুটে তাদের পিছু পিছু।

‘আপা ফুল ন্যান, পানি ন্যান, বেলুন ন্যান’ কথার বুলিতে থাকে ওদের নানা বায়না। অনেকেই তুচ্ছ তাচ্ছিল্যে করে তাড়িয়ে দেয় ওদের। তবে কেউ কেউ আবার দয়া করে সাহায্যও করেন।

শুধুই কি পেটের তাগিদের জন্য? না কি ভালোবাসা দিবসে চোখের সামনে সেজেগুজে ঘুরে বেড়ানো দর্শনার্থীদের প্রিয়জনের প্রতি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশও ওদের নাড়া দেয়? নাড়া দিলেই বা কি? ভালোবাসা তো দূরের কথা দু-বেলা দু-মুঠো খাবারও এসব ছিন্নমূল শিশুদের জোটে না।

ভালোবাসা দিবসে অন্যদের মত এই প্রতিবেদকও বসন্তের হাওয়া নিতে গিয়েছিলেন সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে। তবে তার সঙ্গী ছিল ক্যামেরা আর এসব ছিন্নমূল পথশিশু। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এসব পথশিশুদের সঙ্গেই সময় কাটান তিনি।

কালা হাসান নামের এক পথশিশুর ভাষ্য, ‘আমাগো আর ভালোবাসা বাই। এইডা বুঝিও না। তয়, মা’র কতা খুব মনে অয়। আর যহন মনে অয়, তহন কান্দন পায়। হ্যার লাইগা মনেও করবার চাই না। কিন্তু যহন এহানে (স্মৃতিসৌধ) অনেক মানুষ আহে, তহন তাগো একসাথে ঘোরাঘুরি দেইহা আমাগো ইচ্ছা করে।’

কোনো যুগল দেখলেই ফুল হাতে ছুট দেয় নিপা ও তানিয়া। অনুনয় বিনয় করতে থাকে একটা ফুল কেনার জন্য। বেশিরভাগ সময়ই নিরাশ হয়ে ফিরে আসতে হয় তাদের। তবে বিক্রিও হয় মাঝে মাঝে।

তানিয়া ও নিপা জানায়, ‘ভালোবাসা, টালোবাসা আমাগো দরকার নাই। মা-বাপের আদরই পাই না। আর বাইরের মানুষের! এসব দিয়া আমাগো কাম নাই। এরহম (বিশেষ দিন গুলোতে) দিনে অনেক মানুষ আমাগো এহানে আইবো। আর আমরা হ্যাগো কাছে ফুল বেইচা টাকা নিমু।’

সাগর নামে অপর এক ছিন্নমূল শিশু জানায়, ‘স্মৃতিসৌধের পিছেই আমাগো বস্তি। ওহানেই আব্বা আর আমি থাকি। মা অনেক আগেই আমাগো ছাইরা গেছে গা। আব্বারো একটা বউ আছে অন্যহানে। আগে স্কুলে পড়তাম। এহন আর পড়ায়না। আব্বায় ঠিক মত খাইতেও দেয় না। তাই প্যাট ভইরা খাইতে হারাদিন এহানে (স্মৃতিসৌধ এলাকা) পানি বেচি। এই ট্যাকা দিয়া অবশ্য ঠিক মত খাওয়াও হয় না।’

এত দুঃখ কষ্টের মধ্যেও ওরা প্রাণবন্ত। ওদেরও প্রতিভা আছে, বিবেক আছে। অভাব শুধু ভালোবাসার।

(ঢাকাটাইমস/১৪ফেব্রুয়ারি/প্রতিনিধি/জেডএ)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
ইসরাইলি হামলায় গাজায় একই পরিবারের নিহত ৪
সরাইলে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত অর্ধশত
নড়াইলে ভ্যানচালককে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা
ফৌজদারি অপরাধ তদন্তের ক্ষমতা পাচ্ছে এপিবিএন