ফেনীতে আ.লীগের দুই পক্ষে গোলাগুলি, আহত ১০

ফেনী প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৩ মার্চ ২০১৭, ২২:০০ | প্রকাশিত : ১৩ মার্চ ২০১৭, ২১:৩৯
ফাইল ছবি

ফেনীতে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে একজন গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের ফেনী আধুনিক সদর হাসপাতাল ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। 

সোমবার সদর উপজেলার ফরহাদনগর ইউনিয়নের খাইয়ারা বাজারে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, আধিপত্য নিয়ে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ফোরকান চৌধুরীর সাথে ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন টিপুর বিরোধ চলে আসছে অনেক দিন ধরে। কেএমহাট আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটি নির্বাচনে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের শেষ দিন ছিল সোমবার। বিদ্যালয়ের বর্তমান সভাপতি ফোরকান চৌধুরীর নেতৃত্বে ছয়জন প্রার্থী তাদের সমর্থকদের নিয়ে সকালে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। পরে ফেরার পথে সুবলপুর নামক স্থানে পৌঁছলে টিপু সমর্থিতদের সাথে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে সংঘর্ষ বেধে যায়।

সংঘর্ষে ইউনিয়ন যুবলীগের সহ-সভাপতি ছানাউল্লাহ গুলিবিদ্ধ ও অপর সহ-সভাপতি সবুজ, ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন সজিব, যুবলীগ কর্মী সাইদুল হক শামীম ও নুরুল আফসার আহত হন।

ইউপি চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন টিপুর অভিযোগ, সম্পূর্ণ বিনা উস্কানিতে ফোরকান চৌধুরীর সমর্থিত বহিরাগতদের সশ্রস্ত্র হামলায় যুবলীগ নেতা ছানাউল্লাহ গুলিবিদ্ধ এবং সবুজ, সজিবসহ কয়েকজন আহত হন। তাদের প্রথমে আধুনিক সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় গুলিবিদ্ধ ছানাউল্লাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

অপরদিকে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ফোরকান চৌধুরী ঢাকাটাইমসকে জানান, মনোনয়নপত্র সংগ্রহ শেষে সিএনজি অটোরিকশা যোগে ফেরার পথে চেয়ারম্যান টিপু সমর্থকদের হামলায় যুবলীগ কর্মী শামীম ও আফসার গুরুতর আহত হন। হামলাকারীরা তাদের বহনকারী সিএনজি অটোরিকশাটিও ভাঙচুর করে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকার লোকজন সংগঠিত হয়ে হামলাকারীদের ধাওয়া করে বলে দাবি তার।

ফোরকান চৌধুরীর অভিযোগ, আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সদস্য প্রার্থী মাহবুবকে গতকাল বিকালে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের জন্য হুমকি দেয়া হয় এবং অপর প্রার্থী শাহ আলমের সমর্থক মোশাররফকে সন্ধ্যায় পিটিয়ে হাত-পা ভেঙে দেন চেয়ারম্যান টিপুর সমর্থকরা।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মো. মনিরুজ্জামান ফরহাদনগরে দুই গ্রুপের সংঘর্ষের সত্যতা নিশ্চিত করে ঢাকাটাইমসকে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

বোগদাদিয়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মো. শাহীনুজ্জামান জানান, রাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোনো অভিযোগ কিংবা মামলা দেয়া হয়নি।

(ঢাকাটাইমস/১৩মার্চ/প্রতিনিধি/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত