‘শুটিংয়ের সময়টা নিয়ে অস্থির লাগে’

অনলাইন ডেস্ক
| আপডেট : ০৮ এপ্রিল ২০১৭, ১২:১৫ | প্রকাশিত : ০৮ এপ্রিল ২০১৭, ০৮:৩০

মুনিরা ইউসুফ মেমী। একসময়ের জনপ্রিয় অভিনয় শিল্পী। মাঝে বেশ কয়েক বছর মিডিয়া থেকে দূরে ছিলেন। এখন আবার নিয়মিত হয়েছেন। কাজ করছেন চলচ্চিত্রেও। বর্তমান সময়ের সঙ্গে নিজেকে তিনি কীভাবে মানিয়ে নিয়েছেন, বর্তমান মিডিয়ার অস্থিরতা ও নিজের বিভিন্ন ভাবনা নিয়ে কথা বলেছেন ঢাকাটাইমসের সঙ্গে। গতকাল কথা হয় ‘লালসালু’র এই গুণী অভিনেত্রীর সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মাহমুদ উল্লাহ।

এখন কী কাজ করছেন?

ধারাবাহিক ও এক ঘণ্টার নাটক করছি। বাংলাভিশনে চলছে ‘বৃষ্টিদের বাড়ি’। ‘তুমি আছ তাই’ ও ‘তুমি আমি ভীষণ একা’ দেখানো হচ্ছে চ্যানেল আইতে। মাছরাঙায় চলছে ‘হাউজ ওয়াইফ’। এনটিভিতে একটি নাটক চলছে। এটিএন বাংলায় শেষ হলো ‘লাইভ ইন এ মেট্রো’। এ ছাড়া বিশেষ দিবসের নাটকগুলোতে কাজ করছি। বিটিভির জন্যও নাটক করছি।

আর সিনেমার খবর?

আমি ‘লালসালু’ সিনেমায় অনেক প্রশংসা পেয়েছিলাম। এটি এমন একটি সিনেমা যা অনেক দিন মানুষের মাঝে বেঁচে থাকবে। ‘লালটিপ’ ও ‘মন মানে না’ নামের দুটি সিনেমায় অভিনয় করেছিলাম এরও আগে আগে। সম্প্রতি মুক্তি পেল ‘হঠাৎ দেখা’। আরো দুটি সিনেমা মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। একটি অটিস্টিক চাইল্ড নিয়ে হারুন রশিদের লেখা ও সাইফুল ইসলাম মান্নুর পরিচালনায় চলচ্চিত্র ‘পুত্র’; অন্যটি নির্মলেন্দু গুণের লেখা ও তার মেয়ে মৃত্তিকা গুণের নির্মাণে ‘কালো মেঘের ভেলা’। এ ছাড়া এখন একটি যৌথ প্রযোজনার ছবিতে অভিনয়ের কথা চলছে। সব ঠিক থাকলে এখানে অভিনয় করতে পারি।

আপনি আবৃত্তিও করেন জানি।

১৬ ডিসেম্বর এনটিভিতে লাইভ কবিতা পড়েছি। ২৬ মার্চও ছিল। তখন আমি দেশের বাইরে ছিলাম। এ ছাড়া মাছরাঙায় ‘গানের পেছনে রবীন্দ্রনাথ’ নামের একটি অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেছিলাম। সেখানে শিল্পীরা গান গেয়েছেন। আর আমি প্রতিটি গানের পেছনের গল্প বলেছি। গানটি কোথায় তৈরি করেছেন রবীন্দ্রনাথ, বাগানের পেছনে, কারণ কী- এ রকম বিষয় নিয়ে অনুষ্ঠানটি সাজানো হয়েছিল। এর মধ্যে দেড় ঘণ্টার একটি আবৃত্তি প্রোগ্রামে অংশ নেয়ার জন্য কলকাতা গিয়েছিলাম। কলকাতার রবীন্দ্র তীর্থের অডিটরিয়ামে ছিলাম। সেখানকার পরিবেশটা অনেক সুন্দর। রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে মিউজিয়ামের মতো রয়েছে। রবীন্দ্রনাথকে পড়ার বা জানার জন্য অনেক সুন্দর একটি পরিবেশ সেটি। আমার অনেক ভালো লেগেছে।

মাঝে অনেক দিন আপনাকে টিভিতে দেখা যায়নি।

কোনো কারণ ছাড়াই গ্যাপ দিয়েছি। আবার মাঝে মাঝে করেছি। মাঝে চার-পাঁচ বছরের মতো একটা গ্যাপ গেছে। তেমন কোনো কারণে নয়। বিয়ে আরলি করেছিলাম। বাচ্চাটা আরলি নিয়েছিলাম। তাই সেই আনন্দেই নিজেকে নিয়ে এনজয় করেছি। এখন নিয়মিত অভিনয় করব। তবে একদমই বড় গ্যাপ কিন্তু আমি দেইনি। অল্প অভিনয় করতাম, তাই অনেকে মনে করেন আমি বুঝি ছিলামই না।

আপনি নাটক পরিচালনা করেছিলেন বলে জানতাম। তার খবর কী?

হ্যাঁ, বছর দেড়েক আগে একটি টেলিফিল্ম পরিচালনা করেছিলাম। মঞ্চনাটকেও নির্দেশনা দিয়েছি। পরিচালনাটা আমার কাছে একটু কঠিন মনে হয়। তবে পরিচালনা করারও ই্ছা আছে।

বর্তমান মিডিয়ার কাজ নিয়ে কিছু বলুন।

অভিনয় তো আসলে রক্তে মিশে গেছে। এক এক জায়গায় শুটিং, নতুন নতুন মানুষের সঙ্গে মেশা- এগুলো আমি এনজয় করি। তবে শুটিংয়ের এলোমেলো সময়টা ভালো লাগে না। অনেক অস্থির লাগে। সময়টা একটা সিস্টেমের মধ্যে নিয়ে আসা উচিত। সব পেশাতেই একটা সময় নির্ধারিত থাকে। সম্মানী ও সময়-এর মধ্যেও সমন্বয় থাকা উচিত। আমাদের ইন্ডাস্ট্রি এখন একটা জায়গায় দাঁড়িয়েছে। সময় হয়েছে এখন সব সিস্টেমেরে মধ্যে নিয়ে আসার। একটা হলিডে থাকা উচিত। কলকাতায়ও একটি মাসে হলিডে আছে, যেদিন সব জায়গার সব শুটিং বন্ধ থাকে। এ রকম একটি ডে আমাদেরও ফিক্সড থাকা উচিত। কাজের শিফট ভাগ করে দেয়া উচিত। পেশাদারত্ব থাকা উচিত।

কী ধরনের সমস্যা হয়?

দেখা গেলে শুটিং সেটে কোনো আর্টিস্ট দেরি করে এল। তার জন্য শুটিং দেরি হলো। আবার কোনো আর্টিস্ট সকালেই এসে বসে আছে, অথচ তার শুটিং করছে পরিচালক সন্ধ্যায়। এ রকম সমস্যা তৈরি হয়। আমি এগুলোর মাঝে সমন্বয় চাই। দিন দিন বাজেট কমছে। ভালো কাজের পৃষ্ঠপোষকতা দরকার।

তবে তারপরও আমি এখন নিয়মিত অভিনয় করছি ও করব।  

ভবিষ্যৎ নিয়ে পরিকল্পনা কী?

ভবিষ্যৎ নিয়ে আমি খুব বেশি পরিকল্পনা করি না। অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমানকে গুছানোর চেষ্টা করি, সাজাই। আমার বর্তমানই আমার ভবিষ্যৎকে তৈরি করে। তবে বা্চ্চাদের নিয়ে কাজ করার ইচ্ছা আছে। সোশ্যাল ওয়ার্ক করতে চাই। নিজের যে পজেটিভ ইমেজ আছে, তা ধরে রাখতে চাই। বড় কোনো পরিকল্পনা নেই। আমাদের কথা মানুষ শোনে। তাই আমার সেই ইমেজটাই আমার তৈরি করতে হয়। সেই ইমেজটাতেই নিজেকে রাখতে চাই। বর্তমানটাকে সুন্দর করে সাজাতে চাই।

নতুনদের সঙ্গে কাজ করছেন এই বিষয়টা কীভাবে দেখছেন?

আগে ফিল্ম ও নাটকের আলাদা আর্টিস্ট ছিল। এখন সবাই সব করছে। এটা ভালো। আর নতুনদের সঙ্গে কাজ করছি। তারা অনেক পরিশ্রমী। তবে আমাদের নাটকে আগে কস্টিউম ব্যবহার করা হতো পরিবেশের সঙ্গে সাজুয্য রেখে। নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত বা উচ্চবিত্তের পরিবেশের সঙ্গে সে রকম কস্টিউমই পরতে হতো। এখন সে রকম নেই। এখন নিম্নবিত্তরাও পরিষ্কার পোশাক বা উচ্চবিত্তের পোশাক পরছে। এতে পরিবেশের সঙ্গে চরিত্রগুলো মিলছে না। এভাবে কিছু ছন্দপতন ঘটছে।

বর্তমান তরুণ শিল্পীদের নিয়ে আপনার পর্যবেক্ষণ কী?

ইদানীং অভিনয় করার ফাঁকে নতুনরা সারাক্ষণ মোবাইল ফোন আর ফেসবুক নিয়ে থাকে। এতে তাদের মনোযোগে ঘাটতি হয়। এখন ইন্টারনেট, মোবাইল ফোনে সবাই আসক্ত। যদিও সবাই অনেক বেশি কাজ করছে এখন। যারা মনোযোগী তারা টিকে থাকছে, আর যারা অমনোযোগী তারা ঝরে পড়ছে। এই অস্থিরতা এখন সব জায়গায়, সব পেশাতেই চলছে। কোথাও কোনো মনোযোগ নাই। এখন মানুষের সময়ও কম। ট্রাফিক জ্যামও মানুষের অনেক সময় খেয়ে নিচ্ছে।

আপনার অভিজ্ঞতা থেকে নতুনদের জন্য কিছু বলুন।

ছোটবেলাটা মানুষের ভুল করার বয়স। সেই ছোটবেলা থেকেই আমি মিডিয়ার সঙ্গে যুক্ত। মা তখন আমাকে বলত ‘এই সেক্টরে কাজ করিস না, নষ্ট হয়ে যাবি’। যে নষ্ট সে ঘরে বা বাইরে সব জায়গাই নষ্ট হবে। আর যে ভালো সে সব জায়গাতেই ভালো থাকতে পারবে। আমি সব সময়ই সংযত। নিজেকে নিজে শাসন করেছি। একটা বয়সে আর কেউ কাউকে শেখাতে পারে না। তাই বলব, এখন সব প্রফেশনেই অস্থিরতা বিরাজ করছে। তোমরা নিজের মতো করে মনোযোগ দিয়ে কাজ করে যাও। সাফল্য আসবেই।

আপনাকে ধন্যবাদ।

আপনাকে ও ঢাকাটাইমসকেও অনেক ধন্যবাদ।

ঢাকাটাইমস/৮এপ্রিল/মোআ

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিনোদন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত