নারায়ণগঞ্জে ওসির পক্ষে আসামির সংবাদ সম্মেলন!

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১০ মে ২০১৭, ২৩:১৩ | প্রকাশিত : ১০ মে ২০১৭, ২২:৫৬

মাদক দিয়ে ফাঁসানো ও ভূমিসদস্যুতায় সহযোগিতায় অভিযুক্ত সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার পক্ষে ‘সাফাই’ গেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বিধবা নারী আছমা বেগমের মামলার বিবাদী ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন।

বুধবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন জমির মালিক দাবিদার বিবাদী সাকিব বিন মাহমুদের বাবা ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন। এসময় তার সঙ্গে উপস্থিত গোলাম মোহাম্মদ ফারুক, এডভোকেট মহসিন, ডা. আব্দুল্লাহর মামাতো ভাই নাহিয়ান।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন দাবি করেন, ১৯৯৫ সালের ২৮ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে রেজিস্ট্রিকৃত ৪২১ সাফ কবলা দলিলমূলে আমার নিজ অর্থে আমার ছেলে সাকিব বিন মাহমুদের নামে ক্রয় করে ১০ বছর ভোগ দখল করে আসছি। ভূমির নামজারিসহ রের্কডভুক্ত এবং বাংলা ১৪২৪ পর্যন্ত খাজনাদি পরিশোধ করে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করেছি।

আমরা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার লোক হওয়ায় আমাদের নানাভাবে হয়রানি করা হতো। জমির মালিক দাবিদার ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ২০১০ সালের ২০ এপ্রিল আছমা বেগমসহ সন্ত্রাসীরা আমার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দিলে আমার জায়গা দখল করে নেবে এবং প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেন। তাদের এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কারণে ২০১০ সালেই আমি সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় জিডি করি। ২০১৬ সালের ২৪ জলাই জমিতে মাটি কেটে সেমিপাকা ঘর নির্মাণ কাজ শুরু করলে চাঁদার দাবিতে হুমকি প্রদর্শন করে এবং দেয়াল আশিংক ভেঙে ফেলে। বিষয়টি পুলিশকে জানালে পুলিশ আমাদের রক্ষা করে।

তিনি বলেন, আছমা বেগম, তার ভাই মোহাম্মদ আলী, মো. আবু হানিফ, আছমা বেগমের জামাতা ট্রান্সপোট ব্যবসায়ী ইউসুফ, ট্রান্সপোর্টের কর্মচারী ইমরান, ওমর ও শাহ আলমকে এলাকার চিহ্নিত চাঁদাবাজ, মাদক সেবনকারী, মাদক ব্যবসায়ী, অস্ত্রধারী ক্রিমিনাল ও ভূমিদস্যু হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।

পুরো সংবাদ সম্মেলনজুড়েই ছিল সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি সরাফত উল্লাহসহ তিন পুলিশ কর্মকর্তার প্রশংসা।

ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জমির মালিকানার বিষয়ে কোন সদুত্তর দিতে পারেননি। জমি দখলে ওসিসহ তিন কর্মকর্তা তাদের কোন সহায়তা করেনি বলেও তিনি দাবি করেন।

লিখিত কাগজে বিধবা নারী আছমা বেগমকে সন্ত্রাসী এবং তার ছোট ভাই মোহাম্মদ আলীকে মাদকসেবী উল্লেখ করার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি দাবি করেন, আছমা বেগমকে একজন ভয়ঙ্কর নারী হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহা. সরাফত উল্লাহ জানান, আমার পক্ষে কেন সাফাই দিয়ে সংবাদ সম্মেলন করবে। আমরা পুলিশের লোক। পুলিশ কোন পক্ষ নয়।

(ঢাকাটাইমস/১০মে/প্রতিনিধি/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত