রমজানে সৌদি আরবের ভিন্ন চিত্র

আমীর চারু, রিয়াদ থেকে
 | প্রকাশিত : ২৭ মে ২০১৭, ০৮:৪৮

সংযম ও আত্মশুদ্ধির মহিমা নিয়ে মুসলিম বিশ্বে প্রতি বছর উপস্থিত হয় হিজরি বছরের সবচেয়ে পবিত্র ও গুরুত্ববহ মাস সাহার-ই-রামাদান বা পবিত্র মাহে রমজান। রমজানের অপূর্ব সওগাতে বদলে যায় মুসলিম অধ্যুষিত বিশ্বের বিভিন্ন দেশ, বিভিন্ন জনপদ। অঞ্চলভেদে মুসলিমদের মধ্যে দৃষ্টিভঙ্গি, আচার আচরণে দেখা দেয় পরিবর্তন। এ পরিবর্তনে দেশভেদে তারতম্য থাকলেও ইসলামের প্রাণকেন্দ্র সৌদি আরবের চিত্র যেকোনো জনপদ থেকে ভিন্ন।

ভ্রাতৃত্ব ও সৌহার্দ্যের অপূর্ব মিশেলে মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটি রমজান মাস মানেই রীতিমতো উৎসব। ইসলামের সুশীতল আবহাওয়া প্রবাহিত হতে থাকে রমজান মাস শুরুর বেশ আগে থেকেই। শহরের সড়ক থেকে শুরু করে বড় বড় বিপণি কেন্দ্রগুলো ঝলমলে আলোকে আলোকিত হতে থাকে। শুধু কি সাজসজ্জা? না, রমজান কে মহিমান্বিত করতে বিপণি কেন্দ্রগুলো নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যে রীতিমতো বিশেষ ছাড় দেয়ার প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হয়।

সারা বছর নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের যে মূল্য থাকে রমজান এলে তা বিশেষ ছাড় মূল্য নেমে আসে অর্ধেকে। পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায় দিনের কর্মসূচিতেও। সরকারিভাবে কঠোর নির্দেশ জারি করা হয় কোনোভাবেই পাঁচ ঘণ্টার বেশি শ্রমিকদের কাজ করানো যাবে না । সরকারি অফিস আদালতেও কর্মঘণ্টা কমিয়ে আনা হয়। জরুরি সেবাদান প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, বিমা , চিকিৎসা কেন্দ্রগুলো দিনের বেলার পাশাপাশি রাতেও খোলা থাকে সারা রমজান মাসে। দোকানপাট ও ব্যক্তিগত মালিকানায় পরিচালিত প্রতিষ্ঠান, দিনের পরিবর্তে রাতে পরিবর্তন করে নেয় কর্মপ্রণালী।

কর্মব্যস্ত শহরগুলো দিনের আলোতে ঘুমন্ত শহরে পরিণত হয়। নামাজের সময় ছাড়া রাস্তাঘাটে বিরাজ করে সুনসান নীরবতা। আসরের পর থেকে ধীরে ধীরে জেগে উঠে শহর, জেগে উঠে মানুষ, প্রাণচঞ্চলতায় মুখরিত থাকে ফজরের ওয়াক্ত পর্যন্ত। সবচেয়ে বেশি পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায় আতিথেয়তায়। রমজান শুরুর আগে থেকেই বিভিন্ন মসজিদে, ব্যস্ততম সড়কের পাশে দৃষ্টিগোচর হয় বড় বড় খ্যামা বা তাঁবু। এসব তাঁবুতে শত শত মানুষের জন্য ব্যবস্থা করানো হয় ইফতারের। খেজুর, ঠান্ডা পানি, লেবন, বিভিন্ন ধরনের ফল, ফলের জুস, আর সেই সাথে খেফছা (মুরগির বিরিয়ানি) রোজাদারদের আতিথেয়তায় নিজেদের উজাড় করে দেন সৌদি নাগরিকরা।

সৌদি উঠতি বয়সের ছেলেদের সাধারণত গাড়ি থেকে নেমে সওদা করতে দেখা যায় না। তারাও রমজানের দিনগুলোতে ঠিক ইফতারের আগে দাঁড়িয়ে থাকে বিভিন্ন সিগন্যালে, হাতে ঠান্ডা পানির বোতল, খেজুর আর হালকা খাবারের প্যাকেট। উদ্দেশ্য রাস্তায় আটকেপড়া রোজাদারদের ইফতার করানো।

ইবাদত বন্দেগি থেকে শুরু করে ব্যক্তি আচরণে এ মাসে যে পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায় তা ইসলামের সোনালী যুগের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। ইসলামের প্রাণকেন্দ্র মক্কা-মদিনায় রমজানের আবহ অন্য যেকোনো স্থানের চেয়ে ভিন্ন। আরবে ইসলামের সৌন্দর্য, ভ্রাতৃত্ব, সৌহার্দ্যের বাস্তবরূপ ফুটে ওঠে রমজান মাসে।

মসজিদে হারাম ও মসজিদে নববিতে বিভিন্ন ব্যক্তি ও কোম্পানি রোজাদারদের জন্য ইফতার ও সেহেরির খাবার বিতরণ করে থাকে। ইফতারের সময় হারাম শরিফ ও মসজিদ নববিতে বিনয় মিনতি করে রোজাদারদের ইফতারে শরিক করানোর দৃশ্য আতিথেয়তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে, যা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। ইসলামের প্রকৃত আলো বিচ্ছুরণ থেকে কোনো মুসলিম উপকৃত হতে চাইলে, এ মাসে আরবদের ভ্রাতৃত্ব, সৌহার্দ্য, মানবতার সেবা ও আতিথেয়তার উজ্জ্বল শিক্ষা গ্রহণ করতে চাইলে, রমজান মাসে আরবে অবস্থান করার কোনো বিকল্প নেই।

ঢাকাটাইমস/২৭মে/প্রতিনিধি/জেবি 

সংবাদটি শেয়ার করুন

ইসলাম বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত