প্রাণ ফিরে পাচ্ছে মৃতপ্রায় ‘ময়নাকাটা’

ইমতিয়াজ আহমেদ, শিবচর (মাদারীপুর)
 | প্রকাশিত : ১৪ জুন ২০১৭, ২১:১৩

মৃতপ্রায় ময়নাকাটা নদী প্রাণ ফিরে পাচ্ছে অবশেষে। দীর্ঘদিন ধরে পলিতে ভরাট হয়ে মরতে বসা মাদারীপুরের  শিবচর উপজেলা শহরের প্রাণকেন্দ্র দিয়ে প্রবাহিত এই ময়নাকাটা নদীটি এখন নতুন করে আবার আসবে পানিতে পূর্ণ হচ্ছে। চলবে নৌযান। ফিরে আসবে আবার প্রাণচাঞ্চল্য।

প্রাণ ফিরিয়ে আনতে শিবচর শহরের মধ্যদিয়ে প্রবাহিত ময়নাকাটা নদীতে প্রায় ১০ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নদীপথের ১১ কিলোমিটার পথ খননের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ১১ কিলোমিটার পথের ৮ লক্ষ ঘনমিটার মাটি অপসারণ করে সচল করা হবে নৌপথ।

নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান গত ৩ জুন শনিবার উপজেলার চরটেকেরহাট থেকে শিবচর ১১ কিলোমিটার নৌপথ খননের কাজ উদ্বোধন করেন।

শিবচর উপজেলার উল্লেখযোগ্য নদীর মধ্যে রয়েছে পদ্মা ও আড়িয়াল খাঁ। শিবচর উপজেলাটি পদ্মা ও আড়িয়াল খাঁ নদীর মাধ্যমে দ্বিখণ্ডিত হয়েছে।

এছাড়াও বিলপদ্মা নামে একটি নদীর অস্তিত্ত্ব শিবচরে রয়েছে, যা শিবচর হয়ে শরিয়তপুর জেলায় প্রবেশ করেছে। অপর নদীটি হচ্ছে ময়নাকাটা। যা শিবচর শহরের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে। এর একটি অংশ আড়িয়াল খাঁর সাথে মিশেছে এবং অপর অংশ বিভিন্ন ভাগে ভাগ হয়ে পদ্মার সাথে মিশেছে।

তবে নদীটি যুগ যুগ ধরে প্রায় অবহেলিত অবস্থায় রয়েছে। নাব্য সংকটে নদীর কিছু পথ শুকনো মৌসুমে প্রায় শুকিয়ে যায়। এছাড়াও শুকিয়ে যাওয়ার কারণে কিছু কিছু স্থানের নদীর পার দখল হয়ে নির্মাণ করা হয়েছে স্থাপনাও। দিন দিন ভরাট হয়ে যাওয়া এই নদীটিতে এক সময় পণ্যবাহী কার্গো জাহাজও চলত।

সহজেই রাজধানী থেকে ব্যবসায়ীরা মালামাল নৌ পথে শিবচর শহরে আনতে পারত। তবে অনেকদিন ধরেই নাব্য সংকটে নদীপথের বিভিন্ন স্থানে শুকিয়ে যাওয়ায় নৌ-চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। ধীরে ধীরে ময়নাকাটা জৌলুস হারাতে বসে।

মৃতপ্রায় নদীটির প্রাণ ফিরিয়ে এনে নৌচলাচলের উপযোগী করার জন্য ১১ কিলোমিটার পথ ড্রেজিংয়ের আওতায় আনা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

জানা গেছে, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের বিআইডব্লিউটিএ-র বাস্তবায়নাধীন ১২টি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ খননের আওতায় রয়েছে। এর মধ্যে মাদারীপুর-কবিরাজপুর-চৌধুরীর হাট, পেঁয়াজখালী-চরজানাজাত, কাওড়াকান্দি নৌপথের চরটেকেরহাট-শিবচর অংশের আড়িয়াল খাঁ এবং ময়নাকাটা নদীর চর টেকেরহাট হতে শিবচর পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য।

যাত্রী ও পণ্যবাহী নৌযান নির্বিঘ্নে চলাচলের জন্য এই নদীপথগুলোতে ড্রেজিং কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।

চর টেকেরহাট থেকে শিবচর নৌ পথের ময়নাকাটা নদীর খননকাজ সম্পন্ন হলে রাজধানী ঢাকার সাথে শিবচরবাসীর নৌ-যোগাযোগ উন্নত হবে এবং সারাবছর নির্বিঘ্নে নৌ-পথে মালামাল পরিবহন করার পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। নৌ-পথটি খনন করা হলে পানির সর্বনিম্নস্তরে অর্থাৎ শুষ্ক মৌসূমে নৌ-পথটিতে ১২০ ফুট প্রশস্ততা ও ১০ ফুট গভীরতা বিদ্যমান থাকবে। সারাবছর ৮ ফুট ড্রাফটের নৌযান নিবিঘ্নে চলাচল করতে পারবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়।

(ঢাকাটাইমস/১৪জুন/প্রতিনিধি/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত