ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বোরো সংগ্রহ অভিযান প্রায় ব্যর্থ

মোহাম্মদ আরজু, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
 | প্রকাশিত : ১৭ জুন ২০১৭, ১৪:৪৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ব্যর্থ হতে চলেছে চলতি বোরো সংগ্রহ অভিযান। এ পর্যন্ত জেলায় চাল সংগ্রহ হয়েছে মাত্র ২৫০ টন। যদিও জেলায় মোট ১৭ হাজার মেট্রিকটন আতপ ও সিদ্ধ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল চলতি মৌসুমে। তবে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বাজারে চালের মূল্য বেশি থাকায় এ বছর জেলায় সংগ্রহ অভিযান ব্যর্থ হওয়ার আশঙ্কা করছেন মিল মালিকরা। তাই চাল সরবরাহের চুক্তিই করেননি অনেক মিল মালিক। আবার চুক্তি করেও দামের কারণে চাল সরবরাহে ব্যর্থ হচ্ছেন বেশির ভাগ মিল মালিক। তবে জেলার খাদ্য কর্মকর্তারা বলছেন তারা সংগ্রহ অভিযান সফলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

জেলায় ধান-চালের প্রধান ব্যবসাকেন্দ্র আশুগঞ্জের পরিবেশ এবার অনেকটাই নিষ্প্রাণ। সুনামগঞ্জ এলাকার হাওরের ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তার ধাক্কা লেগেছে এখানেও। এমন অবস্থায় মে মাসের প্রথম থেকে শুরু হয়েছে জেলায় বোরো সংগ্রহ অভিযান।

চলতি বছরে জেলার ১৩ হাজার ১৭৮ মেট্রিক টন সিদ্ধ এবং ৩ হাজার ৮৫৫ মেট্রিকটন আতপ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে খাদ্য মন্ত্রণালয়। এর আগে গত বছরে এ জেলা থেকে ১৫ হাজার মেট্রিক টন চাল সংগ্রহ করে খাদ্য মন্ত্রণালয়। কিন্তু চলতি বছরে চাল সরবরাহের জন্যে মিল মালিকদের সঙ্গে চুক্তি করতে গিয়ে হোচট খায় জেলা খাদ্য অফিস। জেলার প্রায় পৌনে ৪শ মিলের মধ্যে চুক্তি করতে এগিয়ে আসেন মাত্র ৮৭ জন মিল মালিক। তাও নামমাত্র পরিমাণে। এসব মিল মালিকদের মধ্যে ৭৮ জন প্রায় ২৫শ মেট্রিক টন সিদ্ধ এবং ৯ জন ৩৩৫ মেট্রিক টন আতপ চাল সংগ্রহের চুক্তি করেন। এরমধ্যে এপর্যন্ত গুদামে জমা পড়েছে ২৫০ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল। সরকার প্রতিকেজি সিদ্ধ চালের ক্রয় মূল্য নির্ধারণ করেছে ৩৪ টাকা আর আতপ ১৩ টাকা।

ব্যবসায়ীরা জানান, সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বাজারে এসব চালের মূল্য এখন ৬/৭ টাকা বেশি। সেকারণে যারা চুক্তি করেছেন তাদের পক্ষেও চাল সরবরাহ করা সম্ভব হবে না।

ব্যবসায়ীরা আরো জানান, সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, হবিগঞ্জ, ময়মনসিংহ এসব এলাকা থেকেই আশুগঞ্জের বাজারে ধান আসে। কিন্তু এবার ফসলহানির কারণে ওই এলাকা থেকে ধান আসেনি বলেই দেখা দিয়েছে এ সংকট।

জেলা চাতালকল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ওবাইদুল্লাহ জানান,  সরকার যে দরে চাল ক্রয় করবে তার চেয়ে বাজার মূল্য বেশি। তাই মিল মালিকরা চুক্তি করেও দাম বেশি থাকায় চাল দিতে পারছে না। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সাজ্জাদ হোসেন জানান, এ পর্যন্ত ২৫০ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহ করেছেন। আশা করা যায়, একটু দেরিতে হলেও চুক্তিকৃত চাল তারা পাবেন এবং  সংগ্রহ বাড়াতে সক্ষম হবেন।

(ঢাকাটাইমস/১৭জুন/প্রতিনিধি/কেএস)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত