কাটতে হতে পারে মুক্তামনির হাত

সাতক্ষীরার ১০ বছরের শিশু মুক্তামনিকে সুস্থ করে তুলতে অক্লান্ত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একদল চিকিৎসক। বিকৃত ফোলানো একটি হাত নিয়ে হাসপাতালে আসার পর বলা হয়েছিল তার রোগটি বিরল। কিন্তু বায়োপসি প্রতিবেদন পাওয়ার পর চিকিৎসকরা বলছেন তার রোগটি বিরল নয়। এটি চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে। রোগটির নাম ‘হেমানজিওমা’।
রোগটি সনাক্তের পর শিশুটির হাতে আবারও অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে চিকিৎসকরা। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী শনিবার দ্বিতীয় দফা অস্ত্রোপচার করা হবে মুক্তামনির হাতে।
খবরটি কিছুটা স্বস্তিদায়ক হলেও চিকিৎসকরা বলছেন, এই অপারেশন অনেকটা ঝুঁকিপূর্ণ। এমনকি পরিস্থিতি খারাপ হলে হাতটি কেটেও ফেলতে হতে পারে। তবে শিশুটিকে সুস্থ জীবনে ফেরানোর আশায় চিকিৎসকের এমন আশঙ্কার পরও মেয়ের অস্ত্রোপচার করাতে রাজি হয়েছেন মুক্তামনির বাবা-মা।
মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জানান, গতকাল মুক্তামনির বায়োপসির প্রতিবেদন আমাদের কাছে এসেছে। রিপোর্ট অনুযায়ী রোগটি বিরল নয়। তবে রিপোর্টে শিশুটির রক্তনালীতে টিউমারের উপস্থিতি দেখা গেছে।
তিনি বলেন, মুক্তামনির টিউমারের অপারেশনের জন্য একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। ১৩ সদস্যের মেডিকেল বোর্ডের প্রধান করা হয়েছে ঢামেকের বার্ন ইউনিটের প্রধান অধ্যাপক আবুল কালামকে। আগামী শনিবার সকাল আটটায় তার হাতে অপারেশন করা হবে।
সামন্ত লাল বলেন, ‘এই অপারেশন অনেক ঝুঁকিপূর্ণ। বিষয়টি আমরা শিশুটির বাবা মাকে বলেছি। তারা অপারেশন করতে রাজি হয়েছে।’
তিনি জানান, ‘অপারেশন করতে গেলে মুক্তামনির অবস্থা খারাপ হতে পারে। তা শোনার পরও বাবা-মা অপারেশন করতে রাজি হয়েছে। আমরা চাই তার হাত রেখে এই অপারেশন করবো। কিন্তু সম্ভব না হলে তার হাত কেটে ফেলা হতে পারে।’
সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে চর্মরোগে আক্রান্ত মুক্তামনিকে নিয়ে ঢাকাটাইমসসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। মুক্তামনির ব্যাপারে জেনে তার চিকিৎসার সব দায়িত্ব গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম মুক্তামনিকে দেখতে আসেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। তার চিকিৎসার সব দায়িত্ব স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বলে জানান মন্ত্রী।
গত ২৭ জুলাই ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের সাথে বোর্ড মিটিং শেষ হয়। পরবর্তী সময়ে ই-মেইলের মাধ্যমে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতাল জানায়, মুক্তামনির এই রোগটি ভালো হবার নয়। অপারেশনের মতো নয়, তারা সব রকমভাবেই রোগটির পরীক্ষা-নীরিক্ষার ব্যাপারে সাহায্য করতে পারবেন না।
এরপর সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের অভিমত প্রধানমন্ত্রীকে জানানো হয়। পরে প্রধানমন্ত্রী ঢাকা মেডিকেলের চিকিৎসকদের সাধ্যমত চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। গত ২ আগস্ট ১৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি মেডিকেল বোর্ডের মিটিংয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হলেও সবধরনের সতর্কতা অবলম্বন করেই তার চিকিৎসা করার সিদ্ধান্ত হয়। গত ৫ আগস্ট মুক্তামনির হাতে অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচারের পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হওয়ায় তাকে আবারও অস্ত্রোপচার কক্ষে নেয়া হয়। সেখান থেকে তাকে বার্ন ইউনিটের আইসিইউতে রাখা হয়।
ঢাকাটাইমস/৮আগস্ট/এএ/বিইউ/এমআর
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন












































