ইকবালের স্ত্রী ও তিন সন্তান কারাগারে

আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ও প্রিমিয়ার ব্যাংকের চেয়ারম্যান এইচ বি এম ইকবালের স্ত্রী দুই ছেলে এবং এক মেয়ে এখন কারাগারে। সম্পদের তথ্য গোপনের মামলায় তারা আদালতে হাজির হয়ে জামিন চাইলে তা নাকচ করে তাদেরকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয় ঢাকার একটি আদালত।
বুধবার ঢাকার এক নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক আতাউর রহমান এই আদেশ দেন। ইকবাল ও তার স্ত্রী মমতাজ বেগম, ছেলে মোহাম্মদ ইমরান ইকবাল ও মঈন ইকবাল এবং মেয়ে নওরীন বুধবার আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেছিলেন।
সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে একটি মামলায় ইকবাল পরিবারের পাঁচ সদস্যকে কারাদণ্ড দিয়েছিল আদালত। উচ্চ আদালত পরে ইকবালকে ইকবালকে খালাস দিয়ে স্ত্রী-সন্তানদের রায় স্থগিত করে। ২০১৬ সালের ২৭ নভেম্বর আপিল বিভাগ তাদের আবেদন নাকচ করে।
বাবা ইকবাল যে ব্যাংকের চেয়ারম্যান, তার ছেলে ইমরান ইকবালও সেই প্রিমিয়ার ব্যাংকের পরিচালক। আরেক ছেলে মঈন ইকবাল ও মেয়ে নওরীন ইকবালও ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ছিলেন।
অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকের করা মামলায় ঢাকার বিশেষ জজ আদালত ২০০৮ সালে এইচ বি এম ইকবালকে ১০ বছর, মিথ্যা সম্পদ বিবরণী দাখিলের কারণে আরও তিন বছরের কারাদণ্ডের পাশাপাশি ৫০ লাখ টাকা জরিমানা করে। তার স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়েকে তিন বছর করে কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা করে জরিমানাও করা হয়।
এইচ বি এম ইকবাল নিম্ন আদালতে ২০১০ সালে আত্মসমর্পণ করেন এবং পরের বছর হাইকোর্ট তাকে খালাস দেয়। তবে তার স্ত্রী, দুই ছেলে ও মেয়ে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ না করে হাইকোর্টে সাজা স্থগিত চেয়ে আবেদন করেন। হাইকোর্টে তাদের সাজার কার্যকারিতা স্থগিত হয়। ওই স্থগিতাশের মেয়াদ শেষ হয় ২০১০ সালের নভেম্বরে। এরপর ওই স্থগিতাদেশের মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য আবারও আবেদন করেন আসামিরা।
গত ১৮ অক্টোবর বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি মো. সেলিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ সাজা আরও ছয় মাসের জন্য স্থগিতাদেশ দেয়। এই স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে গত ১৫ নভেম্বর আপিল করে দুদক। গত ১৬ নভেম্বর চেম্বার আদালত ১৮ অক্টোবর স্থগিতাদেশটি স্থগিত করে শুনানির জন্য পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠিয়ে দেয়।
দুদকের উপ-পরিচালক মো. ইব্রাহীম ২০০৭ সালের ২৫ জুন গুলশান থানায় এই মামলা করেন। মামলায় ১০ কোটি ৬০ লাখ ৮৩ হাজার ৬৯২ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন এবং ২ কোটি ২৯ লাখ ৫২ হাজার ৭১৯ টাকার জ্ঞাতআয় বর্হিভুত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ করা হয়।
ঢাকাটাইমস/০৮মার্চ/ডব্লিউবি
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













































