দিন-রাত মাকে খুঁজছে মাহী-তুবা

নিজস্ব প্রতিবেদক, লক্ষ্মীপুর
 | প্রকাশিত : ২৪ জুলাই ২০১৯, ২২:৫৪

রাজধানীর বাড্ডায় ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে নিহত তাসলিমা বেগম রেনুর দুই শিশু সন্তান মাহী ও তুবা দিন-রাত খোঁজে মাকে। তাদের গ্রামের বাড়িতে আসা শত শত লোকের ভিড়ে যেন মাকেই মনে করে এ অবুঝ দুই শিশু।

চার বছরের শিশু কন্যা তুবা তেমন কিছু না বুঝলেও মায়ের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে অঝরে কাঁদে মাহী।

এ দিকে দুই শিশু সন্তানের দায়িত্ব নিতে অনেকেই আগ্রহ প্রকাশ করলেও তার স্বজনরা এতে নারাজ। তারা বলছেন, তাদের কাছে রেখে মানুষ করতে চান।

গত পাঁচ দিন ধরেই কত মানুষ আসছে নিহত তাসলিমা বেগম রেনুর গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার সোনাপুরে। বাড়িতে ছোট্ট তুবা এবং  ১০ বছরের ছেলে তাসলিম আল মাহী মনের অজান্তেই যেন খুঁজছে তাদের মাকে। মায়ের একটু স্নেহ পেতে বারবারই ছুটে যায় কবরের কাছে। পাশাপাশি শিশু কন্যা তুবা বারবার বলছে, মা নিচে গেছে ড্রেস আনতে, একথা বলে কান্না করছে।

বুধবার সকালে সরেজমিনে দেখা গেছে, রেনুর বড় ছেলে ৫ম শ্রেণির স্কুলছাত্র তাসলিম আল মাহী মায়ের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে কান্নাকাটি করছে। আর বলছে, যারা ছেলেধরা গুজব তুলে তার মাকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে, তাদের যেন বিচার হয়। আর শুধু চারদিকে তাকিয়ে হাউমাউ করে কাঁদছে। পাশাপাশি ছোট্ট অবুঝ শিশু তুবাও চারদিকে শুধু মাকে খুঁজে বেড়াচ্ছে।

পরে দুপুরে খালাদের সাথে রায়পুরের সোনাপুর গ্রামের বাড়ি থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে মাইক্রোবাসে করে চলে যায়।

এদিকে নিহত তাসলিমা বেগম রেনুর বড় বোন নাজমুন নাহার ও দুলাভাই তোফাজ্জল হোসেন জানান, তুবা ও মাহীর পড়াশোনাসহ সকল দায়িত্ব নিতে অনেকেই এগিয়ে আসতে চায়। বিশেষ করে বিচারক, অর্থশালী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাসহ অনেক বিত্তশালী তাদের পড়ালেখাসহ দায়িত্ব নিতে যোগাযোগ করছে। কিন্তু স্বজনরা এতে রাজি নয়। যে সমাজ ছেলেধরা গুজব তোলে এ অবুঝ দুই শিশুর মাকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যা করেছে, সেই সমাজে তাদের নিরাপত্তার কথা ভেবে নিজেদের কাছে রেখে মানুষ করতে চান স্বজনরা। তবে যারা এই ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন এবং তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তারা।

এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও জানিয়েছেন তারা।

ভাগিনা ও মামলার বাদী নাসির উদ্দিন টিটু জানান, দুই সন্তানের লেখাপড়া-ভরনপোষণ করার মত অবস্থায় তাদের রয়েছে। যারা তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে, তাদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। বিশেষ করে মিডিয়া প্রথম থেকে যেভাবে সহযোগিতা করছে। ভবিষ্যতেও যেন তাদের পাশে থাকে, সে অনুরোধ করেন তিনি।

এ ঘটনার সাথে যারা জড়িত, তাদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।

গত শনিবার সকালে ঢাকার উত্তর পূর্ব বাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে তাসলিমা বেগম রেনুকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। মেয়েকে ভর্তির জন্য ওই স্কুলে খোঁজ নিতে গিয়ে কথাবার্তায় সন্দেহ হলে গুজবেই লোকজন জড়ো হয়ে ছেলেধরা বলে পিটুনি দিলে তার মৃত্যু হয়।

(ঢাকাটাইমস/২৪জুলাই/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :