‘শুদ্ধি অভিযান হওয়া উচিত সকল অন্যায় ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে’

আসাদুজ্জামান লিমন
| আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০১৯, ২০:৩২ | প্রকাশিত : ২৫ অক্টোবর ২০১৯, ২০:২৩

ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলে চলছে শুদ্ধি অভিযান। দলটির নেতৃস্থানীয়রা বলছেন, যত দিন বাংলাদেশে দুর্নীতি থাকবে তত দিন এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। অভিযানের সফলতা নিয়ে নানা মহল নানান যুক্তিতর্ক তুলে ধরছে। খান মুহাম্মদ রুমেলের সঞ্চালনায় বেসরকারি টেলিভিশন সময়-এর সাম্প্রতিক বিষয় নিয়ে টক শো সম্পাদকীয়তে অংশ নিয়ে আলোচকরা বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন। আলোচনায় অংশ নেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক জাকারিয়া কাজল, আওয়ামী লীগ দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য সানজিদা খানম ও বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ। ঢাকা টাইমস পাঠকদের জন্য টক শোর উল্লেখ্যযোগ্য অংশ তুলে ধরেছেন আসাদুজ্জামান লিমন

সঞ্চালক: কেউ বলছেন অভিযানটি সফল হয়েছে, কেউ বলছেন হয়নি। এসব বিষয় নিয়ে আজকের আলোচনা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন যত দিন দুর্নীতি থাকবে তত দিন পর্যন্ত অভিযান চলবে। অভিযানের সফলতার বিষয়ে বিএনপি কী মনে করে।

শ্যামা ওবায়েদ: ক্যাসিনো এখন আর বাংলাদেশে নেই। এটা কোনো সেলিব্রেট করার মতো ঘটনা না। অনলাইন ক্যাসিনোর যে গুরু সেলিম প্রধান সে বলেছে প্রতিদিন ৩২৪ কোটি টাকা পাচার হতো এর মাধ্যমে। জি কে শামীম গণপূর্ত অধিদপ্তরের কাজগুলোর এক-তৃতীয়াংশ নিজেই করত। এখন পর্যন্ত ৪ হাজার ৬৪২ কোটি টাকা পেয়েছে। এমনকি কোনো কাজ না করেই ১৩০০ কোটি টাকা তুলে নিয়েছে। নিউজে এসেছে যুবলীগের সভাপতি ৩০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকার নিচে কমিটি করেন না। এই যে দেশের মানুষের টাকা লুটপাট এগুলো তো চলছে। র‌্যাব যদি ক্যাসিনোর সকল ক্লাব বন্ধ করে দেয় তার মানে এই নয় যে, ৬ মাস পর আবার ক্যাসিনো চলবে না। বাংলাদেশের যে ১০০ মিলিয়ন টাকা চুরি হলো ওই টাকাটা কিন্তু ফিলিপাইনে ক্যাসিনোতে গিয়েছিল। আর ক্যাসিনোতে যে টাকা গেল, সেটার কোনো উৎস খুঁজে পাওয়া যায় না। বাংলাদেশে হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি হচ্ছে ক্যাসিনোকে সামনে রেখে। এই অভিযানকে আমি মনে করি আইওয়াশ। কারণ আমার মনে হয় তাদের নিজেদের মধ্যে টাকা ভাগাভাগি নিয়ে সমস্যা হয়েছে তাই একজন আরেকজনকে ধরিয়ে দিয়েছে। বড়দেরকে বাঁচানোর জন্য তারা ছোটদের ধরে সাইজ করছে।

সঞ্চালক: যুবলীগ চেয়ারম্যানসহ অভিযুক্ত কাউকে যুবলীগের মিটিংয়ে গণভবনে ডাকা হয়নি- এগুলো শুভ লক্ষণ মনে করেন কি না?

শ্যামা ওবায়েদ: যুবলীগ চেয়ারম্যানের কারণে এতদিন অনেক নেতা-কর্মী কথা বলতে পারেনি, এখন তারা পারছে এটা খারাপ না। কিন্তু যখন দেখি একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি যুবলীগের চেয়ারম্যান হতে চান তখন আমরা লজ্জাবোধ করি। ভিসি যখন চাকরি বাদ দিয়ে যুবলীগের চেয়ারম্যান হতে চান তার মানে কি তিনি ওমর ফারুক সাহেবদের মতো টাকা কামানোর ইচ্ছায় আছেন। তার মানে কোনো মধু ওখানে আছে। অর্থাৎ আমাদের নৈতিক আদর্শের জায়গাগুলো নষ্ট হওয়ার জন্য এখন যারা দেশ চালাচ্ছেন তারা অনেকাংশে দায়ী।

সঞ্চালক: শিক্ষকতা ছেড়ে আগে রাজনীতিতে আসেনি কেউ?

শ্যামা ওবায়েদ: শিক্ষকতা ছেড়ে রাজনীতিতে আসতে পারে কিন্তু যুবলীগ-ছাত্রলীগ করতে পারে না। কারণ এগুলো অঙ্গ সংগঠন।

সঞ্চালক: শ্যামা ওবায়েদ বলেছেন এই অভিযান নাকি আইওয়াশ এ বিষয়ে আপনি কি বলবেন?

অ্যাডভোকেট সানজিদা খানম: এই অভিযানটা কোনো মতেই আইওয়াশ নয়। কারণ অভিযানের আগে প্রধানমন্ত্রী বারবার তাদের সতর্ক করেছেন। যুবলীগ-ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে অভিযানে নামা সহজ কাজ নয়। তারা অঙ্গ সংগঠন নয়। এগুলো আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন। যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন শেখ ফজলুল হক মনি। উনি মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় যুবসমাজকে সংগঠিত করে দেশকে স্বাধীন করার জন্য বিশাল ভূমিকা রেখেছেন। শ্যামা ওবায়েদ যথার্থ বলেছেন যুবলীগের সবাই খারাপ না। কিছু খারাপ আছে তাদের শাস্তি দেওয়ার জন্য এই অভিযান। দলের সাধারণ সম্পাদকও বলেছেন অপরাধী হিসেবে যাদের টার্গেট করা হয়েছে তাদের কেউ ছাড় পাবে না। যুবলীগের মতো একটা ঐতিহ্যবাহী সংগঠনের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে দলের ঐতিহ্যে আঘাত লাগে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ওপেন বলেছেন আমার ছেলে-মেয়ে ও বোনের ছেলে-মেয়ে ছাড়া আর কেউ আমার পরিবারের সদস্য না। ছাত্রলীগ একটি প্রাচীন সংগঠন, এই দলের বর্তমান কোনো নেতা অপরাধ করলে আপনি পুরো ছাত্রলীগের ওপর দোষ চাপাতে পারেন না।

সঞ্চালক: শুদ্ধি অভিযানের সফলতা নিয়ে আপনার মূল্যায়ন কী?

জাকারিয়া কাজল: আমি মনে করি এটা মোটামুটি সফল। যারা এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার হয়েছে তারা কখনো ভাবেনি যে তাদের অবস্থা এরকম হবে। তারা ভাবতো তাদের মাথার ওপর একটা ছাদ আছে কিছুই হবে না। তবে আমার কথা হচ্ছে এখন যারা বলছেন কোটি কোটি টাকা পাচার হয়েছে তারা আগে বলেননি কেন? হয়তো ভয়ে। কিন্তু ভয় পেলে তো রাজনীতি করা যাবে না। কবি বলেছেন অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে/তব ঘৃণা তারে তৃণসম দহে। আমার ধারণা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অন্যায়কারী এবং অন্যায় সহ্যকারী সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবেন। এগুলো হুট করে করা যায় না, তাই তিনি আস্তে আস্তে এগুচ্ছেন। এই শুদ্ধি অভিযানটা শুধু ক্যাসিনোবিরোধী নয়, সকল অন্যায় ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে হওয়া উচিত। আমার ধারণা এটার ব্যাপ্তি অনেক বাড়বে। আর বাড়বে বলেই অনেকের এখন হার্টবিট বেড়ে গেছে। ক্যাসিনো মাত্র একটা আইসব্যাগ। এই আইসব্যাগ ভাঙতে হবে। যেমন যাকে প্রথম ধরা হয়েছে খালেদ মাহমুদ ভূইয়া সে নাকি প্রধানমন্ত্রীর ধানমন্ডির বাসায় গুলি করেছিল। যে লোকটা প্রধানমন্ত্রীর বাসায় গুলি করে সে কীভাবে দলে ঢোকে। আওয়ামী লীগ নেতারা বলেন অপকর্মকারীরা অনুপ্রবেশকারী। আমার কথা হলো এই অনুপ্রবেশকারীদের দলে ঢুকিয়েছে কারা। যারা অর্থের বিনিময়ে অনুপ্রবেশকারীদের দলে ঢুকিয়েছে তাদেরও বিচার হওয়া উচিত।

সঞ্চালক: শ্যামা ওবায়েদ- অভিযোগ আছে আপনারা জনগণের স্বার্থ নিয়ে কোনো আন্দোলন করেন না। এ বিষয়ে কিছু বলেন।

শ্যামা ওবায়েদ: অনেক পয়েন্ট জমা হয়েছে আমি একটি একটি করে উত্তর দেই। আমি মনে করি ছাত্রলীগ এখন একটা সন্ত্রাসী সংগঠনে পরিণত হয়েছে। গত কয়েক বছরে অর্ধশতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়েছে শুধু ছাত্রলীগের কোন্দলের কারণে। ২৪ জন শিক্ষার্থী প্রাণ হারিয়েছে। সর্বশেষ উদাহরণ হচ্ছে আবরার হত্যা। ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কারণে যে সব অপকর্ম হচ্ছে এর জন্য আওয়ামী লীগই দায়ী। এখন সরকার কোনটা, আওয়ামী লীগ কোনটা, রাষ্ট্র কোনটা বোঝার উপায় নেই। সব মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে। আওয়ামী লীগ হাতে ধরে প্রশাসন, ছাত্রলীগ, যুবলীগকে দুর্নীতিবাজ বানিয়েছে, কলঙ্কিত করেছে। যেমন রাশেদ খান মেনন বলেছেন উনি এমপি কিন্তু নিজে ভোট দিতে পারেননি। ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও প্রশাসনের সহায়তায় তিনি এমপি হয়েছেন এটা তিনি স্বীকার করে নিয়েছেন। গত সংসদ নির্বাচনে ভোট ছিল ৩০ ডিসেম্বর আর তা শেষ হয়েছে ২৯ ডিসেম্বর রাতে। আমার নির্বাচনি এলাকায় দেখা গেছে ছাত্রলীগ-যুবলীগ সিল মারছে, পুলিশ পাহারা দিচ্ছে। তাহলে প্রশাসনকে দুর্নীতিবাজ বানিয়েছে কারা। একটা ফ্যামিলির কর্তা যদি তার ছেলে-মেয়েদের বিপথে ঠেলে দেয় তাহলে দোষ তো ছেলে-মেয়ের নয়, দোষ ওই কর্তার।

সঞ্চালক: শ্যামা ওবায়েদ- আপনি যে ছাত্রলীগকে দোষ দিচ্ছেন বিএনপি আমলেও তো আমরা দেখেছি ছাত্রদলের কোন্দলে অনেক ছাত্র মারা গেছে। ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠনগুলো এতটা বেপরোয়া হয়ে যায় কেন?

শ্যামা ওবায়েদ: সিস্টেম চেঞ্জ করতে হবে। ছাত্রদলের ছেলেরা কিছু করেনি আমি তা বলিনি। তবে আওয়ামী লীগ যে টানা তৃতীয়বার ক্ষমতা দখল করে রেখেছে তাতে তাদের ছাত্রলীগ মনে করে ক্ষমতায় তো আমরাই থাকি, তাই অপকর্ম করতে অসুবিধা নেই। এ কারণে তারা এত বেপরোয়া।

সঞ্চালক: রাশেদ খান মেনন যে বলেছেন ৩০ ডিসেম্বর কোনো ভোটই হয়নি। দেশের মানুষ ভোট দিতে পারছে না। এ বিষয়ে কিছু বলেন।

সানজিদা খানম: ২০০৮ সালের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে মেনন ভাই নৌকা মার্কা নিয়ে ভোট করেছেন এবং এমপি হয়েছেন। যিনি নৌকা মার্কা ছাড়া ইলেকশনই করতে পারেন না তিনি যদি বলেন ভোটই হয়নি এ কথার কোনো মূল্য আছে বলে আমি মনে করি না। নির্বাচন নিয়ে যদি ওনার সন্দেহ থাকে তাহলে উনি সংসদ থেকে পদত্যাগ করে ওনার দলের মার্কা নিয়ে নির্বাচন করুক অবস্থাটা কি হয়। সুতরাং আমি মনে করি কোনো দায়িত্বশীল জায়গায় থেকে এ ধরনের কথা বলা ওনার উচিত হয়নি।

সঞ্চালক: আপনারা যখন জানেনই মেননদের তেমন ভোট নেই। তাহলে তাদেরকে দলে ভিড়ান কেন?

সানজিদা খানম: ইলেকশনের হিসাব আলাদা, এটা আপনাকে বুঝতে হবে। যেমন বিএনপি-জামায়াতের মতো একটা আদর্শহীন দলের সাথে জোট করেছে। জামায়াতের চেয়ে বামদলের লোকজন ভালো, কারণ তারা স্বাধীনতা চেয়েছে।

জাকারিয়া কাজল: ভাত যদি পচে যায় মদ বানিয়ে খাওয়া যায় আর পোলাও যদি পচে যায় ডাস্টবিনে ফেলে দিতে হয়। একই কথা বামদলের সাথে খাটে। যাই হোক আমি মনে করি মেনন সাহেবের নির্বাচনকে অস্বীকার করার নৈতিক অধিকার নেই। এই বক্তব্যের পর তার আর এই সংসদে থাকা উচিত নয়। আর ছাত্ররাজনীতি ধ্বংসের বীজটা বপন করে ছাত্রদল। আমানউল্লাহ আমানদের আগে যারা ছাত্ররাজনীতি করতো তাদের কিন্তু রিকশায় চড়ার টাকাও থাকত না। আমান সাহেবরা আসার পর থেকেই পাজেরো সংস্কৃতিটা চালু হয়েছে, যা এখন ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। অর্থবিত্ত যখন ছাত্রদের ওপর ভর করা শুরু করল তখন থেকেই ছাত্ররাজনীতির পচন শুরু। আমি মনে করি ছাত্রদের যারা ব্যবহার করে তাদেরও বিচার হওয়া উচিত।

সঞ্চালক: ছাত্ররাজনীতিকে কেন আমরা আলোর পথে নিতে পারলাম না?

জাকারিয়া কাজল: আপনি দেখেন যখন যে দল ক্ষমতায় ‘থানা’ হয়ে যায় সে দলের ছাত্রসংগঠনের অফিস। এই বোধটা কিন্তু এবার কিছু কমেছে। যেমন দল ক্ষমতায় থাকলে যে সব পার পেয়ে যাবে না এই বোধটা জন্মেছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে ছাত্রসংগঠনের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে সরিয়ে দেওয়া বিরল ঘটনা। এটা কিন্তু একটা বিশাল ঘটনা।

সঞ্চালক: মূল দলের লোকজন কেন অনুপ্রবেশকারীদের ঢুকতে দেয় অথবা কেন অনুপ্রবেশকারীদের বিষয়ে সতর্ক থাকে না। নাকি নিজেদের লাভের জন্য তাদের দলে ঢোকান।

শ্যামা ওবায়েদ: কাজল ভাই ছাত্ররাজনীতির ভবিষ্যতে আলো দেখতে পাচ্ছেন কিন্তু আমি পাচ্ছি না। কারণ আবরারের লাশ যখন দাফন করা হচ্ছিল তখনই কিন্তু তার পরিবারকে হেনস্তা করা হয়েছে। আবরারের ভাই নিরাপত্তাহীনতার কারণে ঢাকা থেকে চলে গেছে। তাহলে বুঝা যাচ্ছে আবরারের পরিবারকে কেউ না কেউ হুমকি দিচ্ছে। আমাদের দেশে এখন আইনের শাসন বলতে কিছু নেই। কারণ আবরার হত্যার আগে রিফাতকে হত্যা করা হয়েছে। রিফাতের আগে ফেনীর এক মাদ্রাসাছাত্রীকে হত্যা করা হয়েছে। তার আগে করা হয়েছে ঢাকায় রেনুকে। অর্থাৎ একটা হত্যাকাণ্ড দিয়ে আরেকটা হত্যাকাণ্ডকে ঢেকে রাখা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে পার পেয়ে যাচ্ছে অপরাধীরা। বিশ্বজিতের পরিবার বিচারকার্য নিয়ে সন্তুষ্ট নয়। আর অনুপ্রবেশকারীর কথা যে বলেন- আওয়ামী লীগ অনুপ্রবেশকারীদের তালিকা করেছে? একটা বড় দল ক্ষমতায় থাকলে অন্যরা ঢুকতে চাইবে এটাই স্বাভাবিক। আওয়ামী লীগ মুখে শুধু চেতনার কথা বলে ভিতরে ভিতরে লুটপাটে ব্যস্ত থাকে। ১০ বছর হয়েছে বিএনপি ক্ষমতার বাইরে আছে তারপরও বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে মাঠে থাকার চেষ্টা করেছে। আমরা খালেদা জিয়ার জন্য আন্দোলন করি কিন্তু শেখ হাসিনা কারাগারে থাকলে আওয়ামী লীগ কি করত? ওনারা তো লগি-বৈঠা নিয়ে বের হতেন। খালেদা জিয়া তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, তিনি অসুস্থ এটা প্রমাণ করতে আমদের হাইকোর্টের আদেশ নিতে হয়। আর সম্রাট গ্রেপ্তার হলে পরের দিন তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

সঞ্চালক: যারা অনুপ্রবেশ করে তাদের চেয়ে লাভবান হয় যারা অনুপ্রবেশ করায় তারা- এ বিষয়ে কি বলবেন?

সানজিদা খানম: জি কে শামীম বা খালেদরা কীভাবে আওয়ামী লীগে ঢুকেছে এটা অবশ্যই তদন্ত করা দরকার। প্রফেসর এমাজউদ্দীন তো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ছিলেন, তিনিও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা। প্রফেসর মীজানুর রহমান একসময় যুবলীগের প্রেসিডিয়াম মেম্বার ছিলেন। একজন সাংবাদিক তাকে প্রশ্ন করেছে আপনাকে যদি যুবলীগের দায়িত্ব দেওয়া হয় তাহলে আপনি কি করবেন। তিনি স্বভাবতই বলেছেন দায়িত্ব নিব। এটা খুব সিম্পল একটা কথা। এটাকে এত সিরিয়াসলি নেওয়ার কোনো মানে আছে বলে আমি মনে করি না। এদেশে যত বড় বড় আন্দোলন হয়েছে সবই ছাত্রলীগের হাত ধরে। তাই এ সংগঠনকে সন্ত্রাসী সংগঠন বলা যায় না। আবরার হত্যার পর ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি যেভাবে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে এরকম বিএনপি কখনো করেছে একটা দৃষ্টান্ত দেখান। পুত্রের অন্যায়ের জন্য যদি পিতা দায়ী হয় তাহলে তারেক রহমান যখন হাওয়া ভবন তৈরি করেছিলেন তখন খালেদা জিয়ার সায় ছিল। খালেদা জিয়াই আইন করেছিলেন ন্যু পিটিশন ন্যু ডিভিশন। অর্থাৎ পিটিশন ছাড়া ডিভিশন মিলবে না। তার আইনজীবীরা জানা সত্ত্বেও তাকে অ্যারেস্ট করার পর কোনো ডিভিশন চায়নি। এজন্য তিনি দুদিন পর ডিভিশন পেয়েছেন।

সঞ্চালক: মূল রাজনীতিতে কোনো আলোর মুখ দেখতে পাচ্ছেন কি না।

জাকারিয়া কাজল: আলোর বিন্দু কিন্তু মশালও হয় আবার আলোর ফুলকি সবকিছু জ্বালিয়ে দেয়। আপনি কীভাবে এটাকে দেখেন সেটা আপনার ব্যাপার। আমি এখনো ভাবি চলমান অভিযান মশাল হবে, এটি সবকিছু জ্বালিয়ে দেবে। এটা অবশ্যই একটা পজিটিভ দিক। এই উদ্যোগ নিতে বড় কলিজার প্রয়োজন হয়। মনে রাখতে হবে উদ্যোগটা কিন্তু নিজের দলের বিরুদ্ধে। বহুদিন পর হলেও ছাত্রদলে যে নির্বাচনের মাধ্যমে নেতা নির্বাচিত হয়েছে এটা অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার।

সঞ্চালক: বিএনপি আসলে সাংগঠনিকভাবে নিজেকে কতটা গোছাতে পেরেছে?

শ্যামা ওবায়েদ: আমারও মাসে ১০ দিন কোর্টে জেতে হয় হাজিরা দিতে। বিএনপির প্রতিটি নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে শত শত মামলা, একজন জেলে যায় তো আরেকজন বের হয়। এসব কাটিয়ে উঠতে আমাদের কিছু সময় লাগছে। আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান একটা ভালো সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে, মূল দলের কমিটিগুলো একদম তৃণমূল পর্যায় থেকে কাউন্সিলের মাধ্যমে হবে। আওয়ামী লীগ যে খালেদা জিয়ার মামলার কথা বলে তাদের নেত্রীর বিরুদ্ধেও তো মামলা ছিল। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর সব গায়েব হয়ে গেছে। ১/১১-এর সময় শেখ হাসিনার নামে মোট ১৫ হাজার কোটি টাকার মামলা দেওয়া হয়েছিল, এর জন্য কিন্তু শেখ হাসিনাকে একদিনও কোর্টের বারান্দায় হাঁটতে হয়নি। আর খালেদা জিয়া ২ কোটি টাকার মামলায় জেল খাটছেন।

সানজিদা খানম: শেখ হাসিনার প্রতিটি মামলাই আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শেষ হয়েছে। এতিমের টাকা মেরে খেয়ে খালেদা জিয়া জেল খাটছেন।

(ঢাকাটাইমস/২৫অক্টোবর/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

সাক্ষাৎকার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :