দেশের মালিক জনগণ, তারা বকলে লজ্জার কিছু নেই: পরিকল্পনামন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২২:৩৬ | প্রকাশিত : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২২:৩১

সরকারি ক্রয়ে আন্তরিকতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহীতা নিশ্চিত করতে সরকারি কর্মকর্তাদের প্রতি নির্দেশ দিয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের কেনাকাটা সম্পর্কে জনগণ খোঁজ রাখছে। তারা হাততালি দিচ্ছে। পিঠ চাপড়ে দিচ্ছে, মাঝে মাঝে বকছে। দেশের মালিক জনগণ। তারা দেখছে, খেয়াল রাখছে, এটা ভয়ের বা লজ্জার ব্যাপার নয়।

বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘সিনিয়র সরকারি কর্মকর্তারা কীভাবে সরকারি ক্রয়ে জনগণের অর্থের মূল্য অর্জনে সহায়তা করতে পারে’ শীর্ষক এক কর্মশালার প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।

পরিকল্পনামন্ত্রী সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের কেনাকাটার বিষয়ে বলেন, ‘প্রকিউরমেন্টের ব্যাপারে আমরা সচেতন হবো। কারণ ১৬ কোটি মানুষের চোখ তাকিয়ে আছে। কোথায় কী কিনছি। কোথায় কোন রট কিনছি। কোথায় গাড়ি কিনছি, কম্বল কিনছি। সব মানুষজন দেখে কিন্তু আজকাল। এটা খোঁজ নেয়। গণমাধ্যম এটা ছড়িয়ে দিয়েছে। এটা ভয়ের ব্যাপার নয়, আনন্দের ব্যাপার। আমাদের জনগণ আমাদের দেখছে। হাততালি দিচ্ছে। পিঠ চাপড়ে দিচ্ছে, মাঝে মাঝে বকছে।’

পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, আমার শিক্ষক আমার ক্লাসে বকেছে, আদরও করেছে। ঠিক তেমনি এই দেশের মালিক জনগণ, তারা দেখছে, খেয়াল রাখছে, এটা ভয়ের বা লজ্জার ব্যাপার নয়।

মন্ত্রী বলেন, প্রকল্পের কেনাকাটার সঙ্গে যারা আমরা কাজ করি। সরকারি বিভিন্ন ক্রয়ের সময় যদি সঠিক পরিমাণে ও সঠিক মানের এবং সঠিক সময়ে করি তাহলে কাজটি সহজ হয়ে যায়।

‘সঠিক মান দরকার, পরিমাণ জানা দরকার, আর সময় এ তিনটিই কেউ কারও চেয়ে কম নয়।’

সিনিয়র সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, আমরা আপনাদের ওপর নির্ভর করেই অনেক সময় ক্রয় সক্রান্ত কাজটি করি। আপনাদের উপর আস্থা বা বিশ্বাস তার উপরই কিন্তু গোটা ব্যবস্থা দাঁড়িয়ে আছে। আপনাদের প্রশিক্ষণ, আপনাদের সচেতনতা, দায়িত্ববোধ খুবই জরুরি।

দেশে সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পে জিনিসপত্র ক্রয়ের পরিমাণ সামনে আরও বাড়তে থাকবে জানিয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, আমাদের সবার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে। এর সঙ্গে দেশাত্ববোধও থাকতে হবে। নৈতিক দিক খেয়াল করতে হবে। সব মিলিয়ে কাজ করলে ভালো হবে।

বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সচিব আবুল মনসুর মো. ফয়েজউল্লাহ এবং বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর মার্সি মিয়াং টেম্বন কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন।

সিপিটিইউ, আইএমইডি পরিচালক (সমন্বয় ও প্রশিক্ষণ) শীষ হায়দার চৌধুরী সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন বিশ্বব্যাংকের লিড প্রকিউরমেন্ট স্পেশালিস্ট রিচার্ড ওলোও ও পরামর্শক সুনীল কে ভট্টাচার্য।

বক্তারা বলেন, জনসাধারণের অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার এবং সময়োপযোগী এবং মানসম্পন্ন পরিষেবা সরবরাহ নির্ভর করে সরকারি ক্রয় ব্যবস্থা কতটা কার্যকর তার ওপর।

অনুষ্ঠানে জানানো হয় বাংলাদেশের জাতীয় বাজেটের এক তৃতীয়াংশ অর্থ ব্যয় হয় সরকারি ক্রয়ে, যার মধ্যে ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় হয় উন্নয়ন কর্মসূচির জন্য।

(ঢাকাটাইমস/১৯ফেব্রুয়ারি/জেআর/ইএস)

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :