সামাজিক দূরত্বে ক্ষতি হচ্ছে মানসিক স্বাস্থ্যের

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ০৪ জুলাই ২০২০, ২০:০৫ | প্রকাশিত : ০৪ জুলাই ২০২০, ১৬:৪৭

কোভিড-১৯ তথা করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে সামাজিক দূরত্ব মানতে গিয়ে মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব পড়ছে। দীর্ঘদিন সংস্পর্শ এড়িয়ে চলার ফলে মানুষের মনে মানসিক দূরত্ব তৈরি করতে পারে। বাধাগ্রস্ত হতে পারে শিশুর সম্মিলিত বিকাশ। এছাড়া রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কমতে পারে।

দেশে করোনাভাইরাসের পরিস্থিতির ওপর নিয়মিত স্বাস্থ্য বুলেটিন তুলে ধরার সময় শনিবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা এসব কথা বলেন।

করোনাভাইরাসের শুরু থেকেই সংক্রামক ব্যাধিটির বিস্তার রোধে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে জোর দেওয়া হচ্ছে। তবে একটানা মাসের পর মাস নিজেকে দূরত্বে রাখতে গিয়ে সমাজবদ্ধ জীব হিসেবে মানুষের জীবনধারায় নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কা করে আসছেন সমাজবিজ্ঞানীরা।

সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়ে ডা. নাসিমা বলেন, ‘সামাজিক দূরত্ব হলো শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা অর্থাৎ একে অপরের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা। ইতিবাচক স্পর্শ মানবশরীরে ডোপামিন, সেরোটোনিন ও অক্সিটোসিন নামক হরমোনের নিঃসরণ বাড়ায় এবং কমায়। ফলে ইতিবাচক অনুভূতি সৃষ্টি হয়।’

‘যেমন অনুপ্রেরণা সন্তুষ্টি নিরাপত্তা এবং মানসিক চাপ মুক্তি ইত্যাদি। দীর্ঘদিন সংস্পর্শ এড়িয়ে চলার ফলে মানুষের মনে মানসিক দূরত্ব তৈরি করতে পারে। শিশুর সম্মিলিত বিকাশ বাধাগ্রস্ত হতে পারে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমাতে পারে এবং অতিরিক্ত মানসিক চাপ তৈরি করতে পারে

অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, ‘করোনার কারণে স্বাস্থ্য ঝুঁকি ও অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা অনেকেরই মনের ওপর চাপ তৈরি করছে ফলে অনেকেরই নিয়মিত ঘুম ব্যাহত করছে। এই মহামারীর সময়ে পর্যাপ্ত ঘুম খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রতিদিন অন্তত ৮ ঘণ্টা ঘুমাতে হবে। এটি আমাদের মন ও শরীর দুটোই ভালো রাখবে।’

মহামারীকালে শিশু এবং বৃদ্ধের বিশেষ যত্ন নেওয়ার তাগিদ দিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক বলেন, ‘মনে রাখতে হবে যে কোনও দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে শিশু এবং বৃদ্ধরা সবচেয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে। বয়স্ক মানুষটি হঠাৎ শিশুর মতো অবুঝ হয়ে উঠতে পারে। শিশুরা খিটখিটে বা অস্থির হয়ে উঠতে পারে। তাদের প্রতি সংবেদনশীল হতে হবে আমাদের। বিশেষ করে তাদের সামনে ঝগড়া বা সহিংসতা প্রকাশ করা যাবে না।’

নারীর প্রতি সহিংস আচরণ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়ে অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, বেশিরভাগ সংসারে নারী প্রাথমিক এবং একমাত্র সেবাদানকারী। যেকোনো সঙ্কটে তার কাজের চাপ এবং মানসিক চাপ বহুগুণে বেড়ে যায়।’

‘তাছাড়া নারীর মাসিক পূর্ব বিষন্নতা, প্রসবোত্তর বিষণ্নতা, পঞ্চাশোর্ধ নারীদের পোস্টমেনোপজাল বিষন্নতাসহ হরমোনের ভারসাম্যহীনতা ইত্যাদির বিশেষ মনোযোগের দাবি রাখে। তাদের প্রয়োজনগুলোকে অগ্রাধিকার দিতে হবে এবং সহযোগিতা করতে হবে। নারীর প্রতি সকল ধরনের সহিংসতা পরিহার করতে হবে।’

বিভিন্ন শখের কাজ করলে মানসিক চাপ কমার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘ফলে বাগান করা, পোষা প্রাণীর প্রতি যত্ন নেওয়া এসব শখের প্রতিও যত্নবান হলে মানসিক স্বাস্থ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।’

‘সুস্থ বিনোদন নাচ গান সিনেমা দেখা, ছবি আঁকা এমনকি রান্নাবান্নাও মানসিক চাপ কমিয়ে রাখতে সাহায্য করে। যারা একা থাকেন ব্যায়াম, পুষ্টিকর খাবার এবং ঘুমের প্রতি নজর দিন। মানসিকভাবে উজ্জীবিত আর সৃষ্টিশীল কাজে থাকলে মন ভালো থাকবে।’

(ঢাকাটাইমস/০৪জুলাই/টিএটি/ডিএম)

সংবাদটি শেয়ার করুন

স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :