ঢাবি থেকে বরখাস্ত হতে পারেন ‘নকল মাস্কে’ গ্রেপ্তার শারমিন

বোরহান উদ্দিন, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২৬ জুলাই ২০২০, ১৬:২০ | প্রকাশিত : ২৬ জুলাই ২০২০, ১৬:১৬

বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে নকল মাস্ক সরবরাহের মামলায় গ্রেপ্তার শারমিন জাহান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) চাকরি থেকে বরখাস্ত হতে পারেন। ঢাবির এই সহকারী রেজিস্ট্রার শিক্ষা ছুটি নিয়ে বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে আভাস পাওয়া গেছে।

ঢাবির সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, চাকরিতে থেকেও নিয়ম বহির্ভূতভাবে নিজের নামে ব্যবসা করা, নকল মাস্ক দিয়ে গ্রেপ্তার হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম নষ্ট করেছেন শারমিন। তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত আছে। তার যাবতীয় কাগজপত্র ও তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়েছে। শারমিনের বিষয়ে শিগগিরই সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে ঢাবি কর্তৃপক্ষ।

নকল মাস্ককাণ্ডে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা গ্রেপ্তার হওয়ায় চরমভাবে বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তাই দ্রুত এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়ে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করতে চান তারা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও কেউ যদি চাকরিরত অবস্থায় এমন নিয়মবহির্ভূত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকেন তাদের কাছেও কঠোর বার্তা পৌঁছাতে চায় ঢাবি কর্তৃপক্ষ। কারণ আদালতে শারমিন দাবি করেছেন, তিনি ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের আরো অনেকে ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত আছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. এনামউজ্জামান ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘আমরা তার (শারমিন) ব্যাপারটি নিয়ে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি। আমরা জানতাম তিনি ছুটি নিয়ে লেখাপড়া করছেন। যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরিরত অবস্থায় পার্টটাইম অন্য কিছু করতে হলেও অনুমতির প্রয়োজন পড়ে, সেখানে তিনি ব্যবসা করছেন। এটা আমাদের ধারনারও বাইরে, ভাবতেও পারিনি। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী শিগগিরই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

গত ৪ জুলাই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে করোনা রোগীদের চিকিৎসা শুরু হয়। সেখানে ১১ হাজার এন-৯৫ মাস্ক সরবরাহের অর্ডার পায় শারমিনের প্রতিষ্ঠান ‘অপরাজিতা ইন্টারন্যাশনাল।’

তবে চার দফায় ৩ হাজার ৪৬০টি মাস্ক দেওয়ার পর শেষের দুই বারে নকল ও মানহীন মাস্ক দেওয়ার অভিযোগে গত বৃহস্পতিবার রাতে তার বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় মামলা করে বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ। পরদিন রাতেই গ্রেপ্তার শারমিন এখন গোয়েন্দা পুলিশের হেফাজতে তিনদিনের জিজ্ঞাসাবাদে রয়েছেন।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সহকারী রেজিস্ট্রারের গ্রেপ্তারের পর তোলপাড় শুরু হয় ঢাবি প্রশাসনে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও অনেকে বিষয়টি নিয়ে কড়া সমালোচনা করেন। শারমিনের এমন কাজে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে দাবি করে সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের অনেকেই তার শাস্তি চেয়েছেন।

শনিবার আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেছেন ষড়যন্ত্রের শিকার বলে দাবি করেছেন শারমিন। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত থাকাবস্থায় তার ব্যবসা করা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন খোদ আদালত।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরীতে থেকে ব্যবসা করে সরকারি আরেকটি প্রতিষ্ঠানে মাস্ক সরবরাহ করতে পারেন কি-না আদালতের এমন প্রশ্নে কাঠগড়ায় দাঁড়ানো শারমিন নিরুত্তর ছিলেন।

এসময় পিপি হেমায়েত উদ্দিন খান কোন কর্তৃত্ববলে রাষ্ট্রীয় টাকায় বেতন নিয়ে আবার ব্যবসা করছেন তা জানতে চান। তখন শারমিন বলেন, ‘কেবল আমি নই, আমার মতো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও অনেকে একই কাজ করছেন। আমার দোষ কোথায়।’

এ বিষয়ে ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামানের কাছে জানতে চাইলে তিনি ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘শারমিন জাহানের কাগজপত্র দেখা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। রবিবার সন্ধ্যার পরে আমরা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবো।’

যেভাবে ব্যবসায় শারমিন

ছাত্রলীগের ঢাবির কুয়েত মৈত্রী হল কমিটির একসময়ে নেতৃত্ব দেওয়া শারমিন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটিতেও ছিলেন। ঢাবির ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ থেকে পাস করে ২০১০ সালে ঢাবির সহকারী রেজিস্ট্রার হিসেবে যোগদান করেন তিনি।

এরপর ২০১৬ সালে চীন সরকারের স্কলারশিপ পেয়ে পিএইচডি করতে তিনি চীনের উহানে যান। করোনার কারণে সেখানে লকডাউন শুরু হলে ২৩ জানুয়ারি তিনি দেশে ফিরে আসেন। চীনে থাকা অবস্থায় শারমিন ২০১৯ সালের মার্চ মাসে ঢাকার বিজয়নগরে ‘অপরাজিতা ইন্টারন্যাশনাল’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান খুলে পন্য সরবরাহের ব্যবসা শুরু করেন।

দেশে করোনার প্রকোপ শুরু হলে বিভিন্ন জায়গায় ব্যক্তি পর্যায়ে মাস্ক ও অন্যান্য সুরক্ষা সামগ্রী বিক্রি করেন। তবে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে প্রথম তিনি বঙ্গবন্ধু মেডিকেলেই মাস্ক দিয়েছিলেন। এছাড়া নীলক্ষেতে তার টেইলারিংয়ের একটি দোকান আছে।

ঢাবি প্রশাসন যা বলছে

জানা গেছে, শারমিনের এমন কাজের খবর গণমাধ্যমে আসার পর তার বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে কাজ শুরু করে প্রশাসন। বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কর্তৃপক্ষের কাছে চাওয়া হয় তার সম্পর্কে তথ্যউপাত্ত। এছাড়া ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান রেজিস্ট্রার দপ্তরকে শারমিন কবে ছুটিতে গেছেন, কোথায় গেছেন সেসব তথ্য চেয়েছেন। এখন সেসব যাচাইবাছাই চলছে।

ঢাবির রেজিস্ট্রার মো. এনামউজ্জামান ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কোনো ধরণের অনুমতি ছাড়াই ব্যবসা করতেন শারমিন। এটা বিধিবহির্ভূত কাজ। যে অভিযোগ উঠেছে আমরা দ্রুততার সঙ্গে সিদ্ধান্ত আসবে। সিন্ডিকেটে বিষয়টি তোলা হবে। তারাই সিদ্ধান্ত নেবে।’

জানা গেছে, চাকরীর শর্ত ভঙ্গ করায় শারমিনের বিরুদ্ধে যতটা না শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হতে পারে তার থেকে বেশি গুরুত্ব পাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্নাম করার বিষয়টি। তাই জরুরী সিন্ডিকেট সভা ডেকে তার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

(ঢাকাটাইমস/২৬জুলাই/ডিএম)

সংবাদটি শেয়ার করুন

অপরাধ ও দুর্নীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :