হোটেলসেবা বন্ধ নিয়ে করোনার চিকিৎসকদের ক্ষোভ

বোরহান উদ্দিন, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০২০, ১৩:৩৯ | প্রকাশিত : ০৩ আগস্ট ২০২০, ১৩:২৮
করোনার চিকিৎসায় নিয়োজিত দেশের চিকিৎসকরা।

দেশে করোনার সংক্রমণ শুরুর পর থেকে রোগীদের সেবায় নিয়োজিত চিকিৎসকদের হোটেলে কোয়ারেন্টিনের ব্যবস্থা করেছিল সরকার। তবে সরকারের খরচ কমাতে সেই সুযোগ বন্ধ করে ভাতা দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এখন থেকে কেউ হোটেলে থাকলে ওই চিকিৎসককে নিজের বিল পরিশোধ করতে হবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার পর করোনার জন্য নির্ধারিত হাসপাতালগুলোর পরিচালকরা চিঠি জারি করেছেন। তবে, চিকিৎসকরা বলছেন, এমন সিদ্ধান্তের পর বাসায় গিয়ে থাকাটা পরিবারের জন্য ঝুঁকি। তাই হোটেলের মতো কোয়ারেন্টাইন সুবিধা সম্বলিত বিকল্প আবাসনের ব্যবস্থা না করে এমন সিদ্ধান্ত নেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন তারা।

গত ২৯ জুলাই স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. আব্দুল মান্নান স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি হয়।

গতকাল রবিবার মুগদা হাসপাতালের পরিচালক এ সংক্রান্ত একটি আদেশ জারি করেছেন। এরপর থেকেই চিকিৎসকদের বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে।

তবে যারা চলতি রোস্টারে বিভিন্ন কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করছেন, তারা এই সিদ্ধান্তের আওতায় আসবেন না। রোস্টার অনুযায়ী ডিউটি শেষ হওয়ার পর তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত।

পরিপত্র জারির পর বিভিন্ন হাসপাতালের পরিচালক চিকিৎসকদেরকে হোটেলে অবস্থান করলে বিলের বিষয়টি উল্লেখ করে অফিস আদেশ জারি করেছেন। এরপর থেকেই ক্ষোভ জানাচ্ছেন চিকিৎসকরা। তারা এই আদেশ বাতিলেরও দাবি করছেন।

শুধু তাই নয়, করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় নিয়োজিত চিকিৎসকদের পাশাপাশি নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

চিকিৎসকরা বলছেন, হঠাৎ করে হোটেল ছেড়ে তারা কোথায় যাবেন? এছাড়া হোটেলের বিকল্প হিসেবে হোটেলের বদলে বাসায় গেলে পরিবারের অন্যদেরও সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি আছে। বিকল্প আবাসন নিশ্চিত না করে ডাক্তারসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের এমন বিপদের মুখে ঠেলে দেয়ার অর্থ কী?

পরিপত্র অনুযায়ী, রাজধানী ঢাকার মধ্যে দায়িত্বপালনকারী চিকিৎসকরা দৈনিক ২ হাজার টাকা এবং ঢাকার বাইরে এক হাজার ৮০০ টাকা ভাতা পাবেন। একইভাবে নার্সরা ঢাকার মধ্যে এক হাজার ২০০ ঢাকা এবং ঢাকার বাইরে এক হাজার টাকা এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীরা ঢাকার মধ্যে ৮০০ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ৬৫০ টাকা ভাতা পাবেন।

জানা গেছে, আবাসিক হোটেলে না থেকেও অনেকে হোটেলের বিল তুলে নিয়েছেন বলে তাদের কাছে তথ্য রয়েছে। ওইসব নানা অনিয়ম খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সরকারের খরচ কমাতে পরিপত্র অনুযায়ী নির্ধারিত ভাতা প্রদান করা হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মুগদা হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. রওশন আনোয়ারের জারি করা আদেশে বলা হয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জারি করা পরিপত্র অনুযায়ী হাসপাতালের যারা হোটেলে অবস্থান করতে ইচ্ছুক, তাদের নিজ খরচে অবস্থান করতে হবে।

এ আদেশ জারি নিয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রতিষ্ঠানটিতে দায়িত্বে থাকা একজন চিকিৎসক বলেন, আমাদের এই সপ্তাহের রোস্টারের দায়িত্ব শেষ হবে আজ (সোমবার)। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ফোন করে জানিয়েছে, হোটেলে কোয়ারেন্টিন করা যাবে না। হোটেল কর্তৃপক্ষও ফোন করে জানিয়েছে আমাদের জিনিসপত্র নিয়ে আসতে। এই অবস্থায় বাসায় গেলে তো সবার জন্য বিপদ হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল) ডা. ফরিদ উদ্দিন মিঞা এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে একটি পরিপত্র জারি করা হয়েছে। তবে চলতি রোস্টারে যারা দায়িত্ব পালন করছেন, তাদের ক্ষেত্রে আরও ১৫ দিন পরে মন্ত্রণালয়ের এ আদেশ কার্যকর হবে। সেক্ষেত্রে রাজধানীতে আলাদাভাবে ছয়টি স্থানে থাকার বিষয়ে আমাদের সচিব একটি নির্দেশনা দিয়েছেন। সেখানে তারা থাকতে পারবেন। এক্ষেত্রে বিআরটিসি বাসে যাতায়াতের সুবিধা দেওয়া হবে। যেখানে বিআরটিসির সেবা নেই, সেখানে সরকারি খরচে বিকল্প কিছু চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে যেসব প্রতিষ্ঠান থাকার জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে তার মান এবং পরিবেশ নিয়েও ক্ষোভ আছে চিকিৎসকদের। তাদের আশঙ্কা, এসব প্রতিষ্ঠানে অবস্থান করলে তাদেরও সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা আছে। কারণ এসব প্রতিষ্ঠানে বাথরুমের ব্যবস্থা অপ্রতুল, খাওয়া-দাওয়া করার জন্যও হোটেলের মতো ভালো ব্যবস্থা নেই।

শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালে করোনা চিকিৎসায় নিয়োজিত একজন চিকিৎসক ঢাকা টাইমসকে বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানে গণ টয়লেট। সবাই মিলে ব্যবহার করতে হবে। অথচ হোটেলে তো প্রত্যেক রুমে আলাদা টয়লেট ছিলো। এখন একজন যদি কোনো কারণে আক্রান্ত হয় করোনায় তাহলে বাকিদের নিরাপদে থাকার সুযোগ থাকলো কই।’

(ঢাকাটাইমস/০৩আগস্ট/বিইউ/ইএস)

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :