রোগ জীবাণু থেকে দূরে রাখে সাবুদানা

স্বাস্থ্য ডেস্ক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:০৫ | প্রকাশিত : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৯:৩৮

সাবুদানা বা সাগুদানা উষ্ণমন্ডলীয় সাগু বা পাম গাছের কাণ্ডের ভেতরের নরম স্পঞ্জের মত অংশ হতে নিষ্কাশিত শর্করাপূর্ণ নির্যাস। সাগু পাম গাছের বৈজ্ঞানিক নাম মেট্রোস্কিলন সাগু। এটি পাপুয়া নিউ গিনি ও মলাস্কার নিম্নাঞ্চলের মানুষের অন্যতম প্রধান খাবার। সাগুর বৃহত্তম যোগান আসে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, বিশেষ করে ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া থেকে। লম্বায় ৭ থেকে ১৭ মিটার পর্যন্ত হয়। কখনো কখনো ২৫ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে। প্রতিটি গাছে ২০-২৫টির মত পাতা হয়। সাগু পাম গাছ একটি ঔষধি গাছ। এতে একবারই ফুল ফোটে এবং ফল ধরার পর গাছ মারা যায়।

সাগু গাছের স্টার্চটি টিপিওকা শিকড় থেকে বের করে আনা হয় এবং বিভিন্ন ছোট আকারের মুক্তার মতো দানা তৈরির জন্য ভারী চাপে সিজ করা হয়। এই মুক্তা দানা জনপ্রিয়ভাবে সাবুদানা বা সাগুদানা হিসাবে পরিচিত। আধুনিককালে অনেক ধরনের যন্ত্রের মাধ্যমে সাগুদানা প্রক্রিয়াজাত হয়। একে নন-সিরিয়াল খাবারের উত্তম উৎস বলে মনে করা হয়। এটি উন্নত মানের কার্ব, ফাইবার ও ক্যালসিয়ামের উৎস। অনেক ধরনের খাবার বানাতে সাবুদানা মূল উপকরণ হয়ে ওঠে।

সাবুদানা বা সাগুতে রয়েছে স্টার্চ বা কার্বো হাইড্রেট বা শর্করা। খুবই অল্প মাত্রায় প্রোটিন, ভিটামিন ও খণিজ পাওয়া যায়। ১০০ গ্রামস শুকনা সাগুতে ৯৪ গ্রামস শর্করা/কার্ব হাইড্রেটস, ০.২ গ্রামস প্রোটিন, ০.৫ গ্রামস ডায়েটারি ফাইবা্‌র, ১০ মিলিগ্রামস ক্যালসিয়াম, ১.২ মিলিগ্রামস আয়রণ, ট্রেস পরিমান ফ্যাট, ক্যারোটিন, থ্যায়ামিন আর এ্যাস্করবিক এ্যসিড পাওয়া যায় আর ৩৩৫ ক্যালরী শক্তি দেয়। পক্ষান্তরে ১০০ গ্রাম ভাতে ১৩০ ক্যালরি শক্তি পাওয়া যায়।

সাবুদানায় স্টার্চে ভরপুর। কিন্তু সহজপাচ্য নয়। কারণ স্টার্চ-এর অণুগুলো অত্যন্ত জটিল বন্ধনীতে বাঁধা থাকে, যা আমাদের পাচনতন্ত্র হজম করতে পারে না। জিলেটিনাইজেশন সেই বন্ধনী শিথিল করে সাবুকে সহজপাচ্য করে তোলে। এ এক রাসায়নিক পদ্ধতি, এর বিপরীতমুখী প্রক্রিয়া হয় না।

হার্টের রোগের ঝুঁকি কমায়। রক্তের কোলেস্টেরল এবং ট্রাইগ্লিসারাইডের উচ্চ মাত্রা হল হার্টের রোগের কারণ। সাবুতে উচ্চ পরিমাণের মিলস রয়েছে যা এক ধরণের শর্করা। এমিলস লিনিয়ার চেইনযুক্ত এক প্রকার গ্লুকোজ যা হজম হতে বেশি সময় নেয়। চেইনগুলি ধীরে ধীরে ভেঙে যাওয়ার সাথে সাথে তারা নিয়ন্ত্রিত হারে চিনি ছেড়ে দেয়, যা আপনার কোলেস্টেরল এবং ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা ঠিক রাখতে পারে। ফলে সাবু হার্টের রােগের ঝুঁকি কমায়।

কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করতে পারে। বেশ কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে সাৰু শারীরিক কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করে। ৮ জন। সাইক্লিস্টদের (যারা সাইকেল চালায়) একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, ব্যায়াম করার সময় সাবু দানা গ্রহণ করায় ব্যায়াম করার শক্তি ৩৭% বৃদ্ধি পেয়েছিল। গবেষণায় দেখা গেছে। যে, ব্যায়াম করার পরে সাবু দানা গ্রহণ দেহের শক্তি পুনরুদ্ধারের ক্ষমতা বাড়িয়ে তুলতে পারে।

অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট যা আমাদের শরীরের ক্ষতিকারক ফ্রি র্যাডিকাল এর বিরুদ্ধে লড়াই করে। ফ্রি র্যাডিকাল আমাদের দেহে বৃদ্ধি পাওয়া মানে, সেলুলার ক্ষতি যা ক্যান্সার এবং হার্টের রোগের জন্য দায়ী। টেস্টটিউব সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, ট্যানিন এবং ফ্ল্যাভানোয়েডের মতো পলিফেনল সাবুতে পরিমাণে বেশি থাকে। যা আমাদের দেহে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসাবে কাজ করে।

রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ (প্রতিরোধী শর্করা) রয়েছে। সাবু দানাতে প্রায় ৭.৫% রেজিস্ট্যান্ট সার্চ (প্রতিরোধী শর্করা) রয়েছে। রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ। (প্রতিরোধী শর্করা) যা হজম প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যায়, কিন্তু হজম হয় না। প্রতিরোধী স্টার্চ কোলনে পৌছায় এবং অন্ত্রে ব্যাকটিরিয়ার খাবার হিসাবে কাজ করে। এই ব্যাকটেরিয়াগুলি প্রতিরোধী স্টার্চ ভেঙে দেয় এবং সংক্ষিপ্ত-চেইন ফ্যাটি অ্যাসিডের মতো যোগ তৈরি করে। অসংখ্য গবেষণায় দেখা গেছে যে, প্রতিরোধী টার্চ এবং এসসিএফএ রক্তে শর্করার মাত্রা কমিয়ে আনে, ক্ষুধা হ্রাস এবং হজমের জন্য ভালো।

সহজ পাচ্য আর দ্রুত এনার্জী দেয় বিধায় আমাদের দেশে এটা রোগীর পথ্য হিসাবে যুগ যুগ ধরে চলে আসছে। জাউ বানিয়ে লেবু দিয়ে খাওয়ানো হয় পেটের অসুখ বা জ্বর হলে। সাবুদানা দিয়ে ফিরনী, পায়েস, পাপড়, পুডিং, কাটলেট, খিচুড়ি, বড়া বানানো যায়। রান্নার আগে একে পানিতে কয়েক ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখতে হবে। বাজারে বিভিন্ন ধরনের সাগু পাওয়া যায়। সাবুদানা দিয়ে অনেক রকমের খাবার তৈরি করা যায়। সাবুদানার অনেক ধরনের রেসিপি রয়েছে। এগুলো শুধু মজাই নয়, পুষ্টিগুণেও দারুণ।

সাবুদানা মাসালা: আলু ও সাবুদানা মেলানো হয় মসলার সঙ্গে। এই মিশ্রণ পেটিসের মধ্যে দিয়ে ভাজা হয়। ধনে বা পুদিনা পাতার চাটনি দিয়ে পরিবেশন করা হয়।

সাবুদানা খিচুড়ি: দারুণ জনপ্রিয় সাবুদানা খিচুড়ি। খিচুড়ি যেখাবে রান্না করেন সেভাবেই করতে হবে। তবে চালের পরিবর্তে সাবুদানা দেওয়া হয়। এতে হলুদ ও অন্যান্য মসলা দেওয়া হয়। যে কোন অনুষ্ঠানে এটি জনপ্রিয় খাবার।

সাবুদানা ক্ষীর: এটাও বেশ মজার খাবার। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে পরিবেশন করা হয়। দেওয়া হয় দুধ, এলাচ ও জাফরান।

ব্যায়ামের আগে বা পরে সাবুর মতো কার্বোহাইড্রেটসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া যায়, তাহলে শরীর চাঙ্গা থাকে। আর ব্যায়ামের পরে শরীরের ক্লান্তি দূর করতেও সাবুদানার মতো খাবার খুব দরকারি।

(ঢাকাটাইমস/২৩ সেপ্টেম্বর/আরজেড/এজেড)

সংবাদটি শেয়ার করুন

স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :