রোগ প্রতিরোধে ভুট্টার অবিশ্বাস্য ভেষজ গুণ

স্বাস্থ্য ডেস্ক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২৫ অক্টোবর ২০২০, ১৪:৩৩

ভুট্টা বা কর্ন একপ্রকারের অধিক ফলনশীল খাদ্যশস্য। অনেক দেশে মেইজও বলা হয়। বৈজ্ঞানিক ভাষায় ভুট্টাকে জেয়া মেইজ নামে ডাকা হয়। এটি একটি সুস্বাদু খাবার যা এর মিষ্টি স্বাদ, উজ্জ্বল হলুদ বর্ণ এবং প্রোটিনের গুণমানের জন্য পরিচিত।

ভুট্টার আদি উৎপত্তিস্থল মেসোআমেরিকা। ইউরোপীয়রা আমেরিকা মহাদেশে পদার্পন করার পর এটি পৃথিবীর অন্যত্র ছড়িয়ে পড়ে। ভুট্টায় উপস্থিত বিটা-ক্যারোটিন দেহের ভিতরে প্রবেশ করার পর খুব দ্রুত চোখসহ শরীরের উন্নতি হওয়া শুরু করে। এতে করে চোখের দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটতে সময় লাগে না। অনেকেই ভুট্টা খেতে পছন্দ করেন। কেবল খেতেই ভালো তা নয়, ভুট্টার রয়েছে নানা পুষ্টিগুণও। স্বাস্থ্যকর গুণের কারণে একে সুপারফুড বলেন বিশেষজ্ঞরা। প্রতি ১০০ গ্রাম ভুট্টায় ১৯ গ্রাম কার্বোহাইড্রেইট, ২ গ্রাম ফাইবার, ৩ গ্রাম প্রোটিন, ১.৫ এর কম চর্বি এবং ৮৬ ক্যালরি থাকে।

লেবুর রস কিংবা হালকা লবণ-মরিচ দিয়ে ভুট্টাপোড়া খেতে বেশ লাগে। একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে সপ্তাহে ৩-৪ দিন ভুট্টা খেলে শরীরের একাধিক মঙ্গল হযে থাকে। কারণ এই প্রকৃতিক উপাদানটির শরীরে ঠাসা রয়েছে প্রচুর মাত্রায় ভিটামিন এ, বি, ই সহ নানাবিধ পুষ্টিকর উপাদান। সেই সঙ্গে রয়েছে ফাইবার, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সহ আরও সব উপকারি মিনারেল, যা নানাভাবে শরীরের উপকারে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ

একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত ভুট্টা খাওয়া শুরু করলে দেহের অন্দরে ইনসুলিনের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা যায় কমে। শুধু তাই নয়, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রনের বাইরে যাওয়ার সম্ভাবনাও কমে। তাই তো বলি বন্ধু, যাদের পরিবারে ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপের মতো রোগের ইতিহাস রয়েছে, তারা প্রতিদিনের ডায়েটে এই প্রকৃতিক উপাদানটিকে রাখতে ভুলবেন না যেন!

সর্দি-কাশি থেকে বাঁচতে

ঋতুবদলের এই সময়ে সর্দি-কাশি দেখা দেওয়া স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু এই করোনা আবহে এটাই ত্রাসের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে সর্দি-কাশি হলেই যে আপনি করোনা আক্রান্ত সেটা নয়। কিন্তু এই লকডাউন ও করোনা আতঙ্কে হাসপাতালে যাওয়া বা ডাক্তারের সন্ধান পাওয়া নিয়ে সমস্যা দেখা দিতে পারে। ভুট্টায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ হওয়ায় কফ এবং পিত্ত নিয়ন্ত্রণ করে। তাই এটি কাশি এবং সর্দি থেকে রক্ষা করে।

দৃষ্টিশক্তির উন্নতি

ভুট্টায় উপস্থিত বিটা-ক্যারোটিন দেহের অন্দরে প্রবেশ করার পর এমন খেল দেখায় যে দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটতে সময় লাগে না। সেই সঙ্গে চোখ সম্পর্কিত নানাবিধ রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনাও কমে। এই কারণেই তো যারা সারা দিন কম্পিউটারের সামনে বসে কাজ করেন, তাদের প্রতিদিন ভুট্টা খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিত্‍সকেরা।

শরীর এবং মস্তিষ্কে কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি

ভুট্টায় উপস্থিত ভিটামিন বি, থিয়ামিন এবং নিয়াসিন ব্রেন পাওয়ার বাড়ানোর পাশাপাশি ব্রেন সেলের গ্রোথেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই তো এই প্রকৃতিক উপাদানটি নিয়মিত খাওয়ার অভ্য়াস করলে কোনও ধরনের ব্রেন ডিজিজে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা একেবারে কমে যায়। শুধু তাই নয়, এই পুষ্টিকর উপাদানগুলো শরীরকে ভিতর থেকে শক্তিশালী করে তুলতেও সাহায্য করে। তাই তো নিয়িমত ভুট্টা খেলে শরীর এবং মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য নিয়ে কোনও চিন্তাই থাকে না।

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে

ভুট্টার উপস্থিত ফাইবার শরীরে প্রবেশ করার পর একদিকে যেমন পাকস্থলির কর্মক্ষমতা বাড়ায়, তেমনি শরীরের বর্জ্যের পরিমাণ বাড়িয়ে কোষ্ঠকাঠিন্য মতো সমস্যা কমাতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। সেই সঙ্গে বদ-হজমের প্রকোপ কমাতেও বিশেষ ভূমিকা নেয়।

অ্যানিমিয়া দূর করে

শরীরে আয়রনের ঘাটতি দূর করার পাশাপাশি লহিত রক্ত কণিকার উত্‍পাদন বাড়িয়ে অ্যানিমিয়া রোগের প্রকোপ কমাতে ভুট্টা বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। সেই সঙ্গে কোষের গঠনেও সাহায্য করে। তাই এর পর থেকে কোনও সময় যদি রক্তাল্পতার মতো সমস্যায় আক্রান্ত হন, তাহলে ভুট্টা খেতে ভুলবেন না যেন!

ভুট্টায় ভিটামিন সি, ভিটামিন এ এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে অনেকটাই। এই প্রতিটা জিনিসই চামড়া টানটান করে রাখে। তাই চোখের নিচে যে সমস্যা ৩০ থেকে ৪০ বছরে শুরু হয়, তা ভুট্টা খেলে অনেকটাই আয়ত্তে রাখা সম্ভব হয়।১০০ গ্রাম ভুট্টায় কম-বেশি প্রায় ৩৪২ ক্যালরি থাকে। ভুট্টায় থাকা কার্বোহাইড্রেড, এনার্জির ঘাটতি দূর করে শরীরকে চনমনে করে তুলতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাজা ভুট্টা এবং টিনজাত নয় এমন ভুট্টা নির্বাচন করুন, কারণ তাজা ভুট্টাই সর্বোত্তম। একটি এয়ার-টাইট পাত্রে ভুট্টা সংরক্ষণ করুন এবং এগুলোকে ফ্রিজে রাখুন। ভুট্টার দানাগুলো মোটা এবং চকচকে হওয়া দরকার। ভুট্টা সূর্যের আলো এবং তাপ থেকে দূরে থাকা প্রয়োজন কারণ এতে থাকা শর্করা সহজেই স্টার্চে রূপান্তর করতে পারে।

(ঢাকাটাইমস/২৫ অক্টোবর/আরজেড)

সংবাদটি শেয়ার করুন

স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :