‘জিয়া পরিবারের আস্থা কুড়াতে অনেকেই ব্যস্ত’

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২১ এপ্রিল ২০২১, ১৩:৫৩ | প্রকাশিত : ২০ এপ্রিল ২০২১, ১০:০৫

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সময়ের তুখোর ছাত্রনেতা। অত্যন্ত সৎ, সাহসী, মেধাবী ও দূরদৃষ্টি সম্পন্ন তিনি। ছাত্রজীবন থেকেই বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের আদর্শকে ধারণ করে মানবকল্যাণে কাজ করতেই বৃহত্তর রাজনৈতিক সংগঠনে যোগ দেন। আপন করে নেন জিয়া পরিবারকে। অক্লান্ত পরিশ্রমের পাশাপাশি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দুর্দিনে জিয়া পরিবারের পাশে দাঁড়ান। একজন দক্ষ আইনজীবী হিসেবে নিজের পরিচয় ফুটিয়ে তুলতে সক্ষম হন। তাইতো জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ১/১১ এর সময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পাশে দাঁড়ান সর্বতোভাবে। জেল জুলুমের তোয়াক্কা না করে নেতাকে মুক্ত করতে হবে এমন ব্রত নিয়ে দিন-রাত কাজ করেন আইন নিয়ে। সেই পরীক্ষিত ও আস্থাভাজন ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীমকে এক সময় রাজনৈতিক একটি হত্যা মামলার আসামি করা হয়। কারণ ক্ষমতা বিপরীত মতাদর্শের হাতে। এমন সুযোগ কাজে লাগিয়ে দলের ভেতরেই থাকা একটি কুচক্রী মহল নানাভাবে অপপ্রচার করে অসীমের বিরুদ্ধে। এসব বিষয় নিয়ে ঢাকা টাইমসের মুখোমুখি হয়েছেন তিনি।

ঢাকাটাইমস: ছাত্ররাজনীতিতে যুক্ত হয়েছিলেন কিভাবে, কার আদর্শকে লালন করতে?

নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম: ছোটবেলা থেকেই ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শকে ধারণ করে রাজনীতি করি। স্কুল-কলেজ পেরিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে অনার্স-মাস্টার্স সমপন্ন করি। ছাত্রদের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত রাখার চেষ্টা করি। ছাত্রদের কল্যাণেই কাজ করি। এরপর ১৯৮৯-৯০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য নির্বাচিত হই। ছিলাম ঢাবি ছাত্রদলের যোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক। ১৯৯৩-৯৭ সাল পর্যন্ত ঢাবি ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি ছিলাম। ১৯৯৩-১৯৯৭ সাল পর্যন্ত(৪বার) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ডাকসু মনোনীত সিনেট সদস্য হিসেবে ছাত্র-ছাত্রীদের প্রতিনিধিত্ব করি। ১৯৯৬-৯৮ সাল পর্যন্ত ঢাবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করি। জনপ্রিয়তার কারণে ছাত্রনেতা হিসেবে ২০১৩-১৬ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিনেটে রেজিস্ট্রার্ড গ্রাজুয়েট হিসেবে একমাত্র দলীয় প্রার্থী হিসেবে সিনেট সদস্য নির্বাচিত হই।

ঢাকাটাইমস: শোনা যায় কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি সাধারণ সম্পাদক হতে পারতেন?

নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম: উচ্চ শিক্ষার জন্য লন্ডনে পড়তে যাই। ১৯৯৮ সালে আমাকে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদকের পদ দিতে চাওয়া হলে আমি সেটি বিনয়ের সঙ্গে না করি ম্যাডামকে। এরপর আমি লন্ডনে পড়তে যাই।

ঢাকাটাইমস: বার এট ল’ ডিগ্রি অর্জন কখন কিভাবে করলেন?

নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম: উচ্চতর একটি ডিগ্রি বার এট ল’কমপ্লিট করার স্বপ্ন ছিল, মানুষের পাশে আইনী সেবা দেয়ার জন্য। এজন্য বিদেশ পাড়ি জমাই ব্যারিস্টারি পড়তে। চলে যাই লন্ডন। ইংল্যান্ড থেকে এলএলবি অনার্স শেষ করে ২০০৩ সালে ব্যারিস্টারি ডিগ্রি লাভ করি। তার পরপরই দেশে ফিরে আইন পেশায় মনোনিবেশ করি। এরপর বৃহত্তর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে ২০১০ সালে বিএনপির মানবাধিকার সম্পাদক মনোনীত হই। ২০১৬ সাল থেকে বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি।

ঢাকাটাইমস: দেশের বাইরে দলের জন্য কী কী কাজ করেছেন?

নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম: ২০১২ তে যুক্তরাস্ট্রে প্রফেশনাল ফেলো হিসেবে স্টেট ডিপার্টমেন্ট কর্তৃক আমন্ত্রিত হই। ২০১৩ সালে চাইনিজ কম্যুনিস্ট পার্টির আমন্ত্রণে ১০ সদস্যর বিএনপি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেই। নির্বাচন পর্যবেক্ষক হিসেবে অস্ট্রেলিয়া সরকার কর্তৃক আমন্ত্রিত হই ২০১৩ সালে।

ঢাকাটাইমস: অনেকেই বলে রাজনীতিতে আপনার অনুপস্থিতির কথা, বিষয়টি কিভাবে দেখছেন?

নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম: সময়ে সময়ে জিয়া পরিবারের সঙ্গী হতে অনেকেই অনেক কৌশল করছেন, তবে ক'জনইবা বিশ্বস্ত? একবার এক লোক ঈসা (আ.) এর সফরসঙ্গী হতে চাইলেন। প্রয়োজনে তার গাধাটি বিক্রি করে তার অর্থ দিয়ে সফরে খরচ করতে চাইলেন৷ ঈসা (আ.) তাকে সফরে যেতে না করলেন। বললেন- তুমি কি নিশ্চিত যে পরে আমাকে বিক্রি করে আবার গাধা কিনবে না? লোকটি কষ্ট পেলো। লোকটির কান্না দেখে সঙ্গী-সাহাবীদের অনুরোধে তাকে সফরসঙ্গী করা হলো। সেই লোকটিই পরে একটি গাধার বিনিময়ে ঈসা (আ.) কে ধরিয়ে দিতে তথ্য পাচার করেছিল।

ঢাকাটাইমস: দুর্দিনে জিয়া পরিবারের পাশে ছিলেন কিভাবে?

নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম: ২০০৭ সালের ১/১১ তে জনাব তারেক রহমান গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে প্রায় সবাই ভয়ে নিজেকে গুটিয়ে নেয়। আমিই সর্বপ্রথম বেগম খালেদা জিয়ার বাসায় যাই। তারেক রহমানের সাথে আদালত হতে হাসপাতাল পর্যন্ত সব জায়গায় ছায়ার মতো লেগে থাকি। সে সময় জিয়া পরিবারের মামলা পরিচালনা করতেন প্রয়াত সিনিয়র আইনজীবী জনাব খন্দকার মাহবুব উদ্দিন আহমেদ স্যার। ২০০৮ সালে দেশ মাতা খালেদা জিয়া জেল থেকে বের হওয়ার পর পরই জিয়া পরিবারের দুঃসময়ের সাথী হিসেবে থাকার প্রতিদান স্বরূপ আমাকে ডেকে পাঠান উনার সাথে ইফতার করার জন্য। সেদিন আমাকে নোয়াখালি থেকে সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে বলেন ম্যাডাম। তখন সবেমাত্র আমি ২০০৭ সালে হাইকোর্টের আইনজীবী হিসেবে পারমিশন পেয়েছি। আইনপেশার সর্বোচ্চ উচ্চতায় নিজেকে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে ম্যাডামের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। সে সময় আমার অত্যন্ত স্নেহভাজন ছোটভাই ও বিএনপির বর্তমান আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল নেত্রকোনা থেকে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার প্রবল ইচ্ছা প্রকাশ করে। তখন আমি ও ব্যারিস্টার নওশাদ জমির কায়সার কামালকে মনোয়ন দিতে ম্যাডামের কাছে সুপারিশ করি। পরে ম্যাডাম কায়সারের মনোনয়ন কনফার্ম করেন।

ঢাকাটাইমস: রাজনীতিতে আপনার অনুপস্থিতির জবাব দেবেন কিভাবে?

নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম: জিয়া পরিবারের বিশ্বস্ত হাতিয়ার হিসেবে বার বারই ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছি৷ ২০১৬ সালের মার্চ মাসে সুপ্রিম কোর্ট বারে কার্যানির্বাহী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর ১৪ এপ্রিল লন্ডনে যাওয়ার ২ সপ্তাহের মধ্যে ঢাকা-১০ আসনে একটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড ঘটে। প্রতিপক্ষের ষড়যন্ত্রে আমাকে হত্যা মামলার ১ নাম্বর আসামি করা হয়। আমার পাসপোর্টটি ২০১৬ সালের জুন মাসে মেয়াদোত্তীর্ণ হয়। যার নবায়নের জন্য বাংলাদেশের হাইকমিশন অফিসে জমা দেয়া হয়৷ রাজনৈতিক হত্যা মামলার আসামি হওয়ায় ২০১৮ সালে ওই মামলার তদন্তে ব্যারিস্টার অসীমকে নির্দোষ পাওয়ার পর রিপোর্টে নট সেন্ট-আপ দেয়া হলে পাসপোর্ট ফেরত পাই। সাথে সাথে আমি দেশে ফিরে আসি। পরবর্তীতে নিয়মিত আসা-য়াওয়ার মাঝে ২০১৯ সালে প্রায় ৫ মাস ও ২০২০ সালে করোনায় আটকা পড়ে পুনরায় ৭ মাসের মতো বিদেশ অবস্থান করি। আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করা হচ্ছে এই বলে যে, তিনি দেশে থাকেন না। ২০২১ সালের পুরোটাই আমি দেশে আছি। মাঝখানে হাঁটুর চিকিৎসায় বিদেশ গেলেও ৫ সপ্তাহের মধ্যেই চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরত আসি। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পুরোটাই বিএনপি তথা জিয়া পরিবারের একনিষ্ঠ সঙ্গী ও বিশ্বস্ত কর্মী হিসেবে থেকেছি। জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে ভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক ষড়যন্ত্র বিদ্যমান। জাতীয় রাজনীতি যখন আবর্তন খাচ্ছে জিয়া পরিবারকে মাইনাস করার জন্য, ঠিক তখনই বিএনপিতে ঘাপটি মেরে থাকা কিছু লোক আবর্তন খাচ্ছে জিয়া পরিবারের বিশ্বস্ত লোকদের মাইনাস করার জন্য।

(ঢাকাটাইমস/২০এপ্রিল/এআইএম/কেআর)

সংবাদটি শেয়ার করুন

সাক্ষাৎকার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :