অন্তঃসত্ত্বাদের টিকা: ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সিদ্ধান্ত চায় হাইকোর্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ০২ আগস্ট ২০২১, ১৩:৩১

অন্তঃসত্ত্বা নারীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করোনার ভ্যাকসিন দেওয়ার বিষয়ে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সিদ্ধান্ত জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট। পাশাপাশি এ সংক্রান্ত রিটের কার‌্যক্রম স্ট্যান্ডওভার করে রাখা হয়েছে।

রবিবার অন্তঃসত্ত্বা নারীদের ভ্যাকসিন প্রদানের নির্দেশনা চেয়ে করা রিটের শুনানির সময় আদালত মৌখিকভাবে এ আদেশ দেন। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চে সোমবার মৌখিকভাবে এ আদেশ দেয়া হয়।

আদেশের বিষয়টি ঢাকাটাইমসকে জানান রিটকারীর আইনজীবী ব্যারিস্টার হুময়ুন কবির পল্লব। তিনি বলেন, করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচতে অন্তঃসত্ত্বা নারীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করোনা ভ্যাকসিন দেওয়ার বিষয়ে রিট করেছিলাম। এ রিটের শুনানি করে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এ ব্যাপারে পরবর্তি সিদ্ধান্ত জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি এ সংক্রান্ত রিটের কার‌্যক্রম স্ট্যান্ড ওভার করে রাখা হয়েছে।

শুনানির সময় সংশ্লিষ্ট আদালতের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলকে উদ্দেশ্য করে বিচারপতি বলেন, অ্যাটর্নি জেনারেল সাহেবকে বলবেন অন্তঃসত্ত্বা নারীদের ব্যাপারে যদিও গতকাল স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রেসের সামনে বলেছেন, অন্তঃসত্ত্বা নারীদের টিকার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিচ্ছি। আমার মনে হয় এই বিষয়টির একটি সুনির্দিষ্ট ঘোষণা আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে আসা প্রয়োজন।

প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, অ্যাটর্নি জেনারেলকে বলবেন, তিনি যাতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও জাতীয় পরামর্শক কমিটির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। যাতে তারা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিয়ে দেয়। যেহেতু মন্ত্রী সাহেব বলেছেন, সেহেতু আমরা ফরমাল কোনো আদেশ দিচ্ছি না। অ্যাটর্নি জেনারেল সাহেব যাতে যোগাযোগ করেন এবং এ বিষয়ে একটা পরিষ্কার বক্তব্য আসে।

এর আগে গত ৩১ জুলাই অন্তঃসত্ত্বা নারীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভ্যাকসিন দেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে রিট করা হয়।

এর আগে গত ২৯ জুলাই এ বিষয়ে আইনি নোটিশ দেয়া হয়েছিল। নোটিশের কোনো জবাব না পাওয়ায় এ রিট করা হয় বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন রিটকারিদের একজন আইনজীবী হুমায়ন কবির পল্লব।

রিটে স্বাস্থ্যসচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্যসচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং আইইডিসিআরের পরিচালককে বিবাদী করা হয়।

আবেদনে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ৩৫ লাখ নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়। অর্থাৎ ৩৫ লাখ অন্তঃসত্ত্বা নারী আরও ৩৫ লাখ মানুষের অস্তিত্ব বহন করেন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় সরকারের নির্ধারিত করোনার টিকা রেজিস্ট্রেশনের সুরক্ষা অ্যাপে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিবন্ধন করতে অন্তঃসত্ত্বা নারীদের জন্য কোনো সুযোগ রাখা হয়নি। অথচ তাদের চেয়েও কম ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকাদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

অন্তঃসত্ত্বাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করোনার টিকা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। এই অধিকার দেশের সংবিধান স্বীকৃত একটি মৌলিক অধিকার। তাদেরকে অগ্রাধিকার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না করা একটি নিপীড়নমূলক, বৈষম্যমূলক এবং তাদের জীবনধারণের মৌলিক অধিকারের পরিপন্থি বলে রিটে উল্লেখ করা হয়।

(ঢাকাটাইমস/২আগস্ট/এআইএম/কেআর)

সংবাদটি শেয়ার করুন

আদালত বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :