বাসে বাসে যাত্রী-হেলপার বচসা

সৈয়দ ঋয়াদ ও কৌশিক রায়, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ০৮ নভেম্বর ২০২১, ২৩:০৫

তিন দিনের ভোগান্তির পর সড়কে বাস নামায় স্বস্তি ফিরলেও পুনর্নির্ধারণ করা ভাড়ার চেয়েও অতিরিক্ত নেওয়া হচ্ছে। রাজধানীর বিভিন্ন রুট ও সারাদেশে বিভিন্ন গন্তব্যে যেতে নির্ধারিত ভাড়ার বেশি আদায় হচ্ছে বলে অভিযোগ সাধারণ যাত্রীদের। প্রতি কিলোমিটার হিসাবে ভাড়া বাড়লেও রাজধানীর বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী বাসগুলো ইচ্ছামতো আদায় করছে এক পয়েন্ট থেকে এক পয়েন্টের হিসাবে।

সোমবার রাজধানীর সায়েন্স ল্যাবরেটরি, নিউমার্কেট, বাংলামোটর, গাবতলী, কল্যাণপুর, ধানমন্ডি ও মহাখালী এলাকায় বিভিন্ন রুটের বাসে হেলপারের সঙ্গে সাধারণ যাত্রীদের বচসা হতে দেখা গেছে। ঢাকা থেকে বিভিন্ন গন্তব্যগামী দূরপাল্লার যাত্রীরাও বাস কাউন্টারে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।

একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকুরে আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘গত দুদিন বাস চলেনি, যাতায়াত করতে খুব সমস্যা হয়েছে। এখন বাস চলায় কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছি। তবে বাসের যে ভাড়া নেওয়া হচ্ছে তা তো অন্যায়। কিন্তু কিছু বলার নেই, কাকে বলব।’

উত্তরা থেকে বাসে করে মগবাজারে আসেন রেজাউল হোসেন। প্রতিদিন উত্তরা থেকে ৩০ টাকা ভাড়া দিয়ে আসেন তিনি। কিন্তু নতুন ভাড়া কার্যকর হওয়ায় তাকে বাড়তি ১০ টাকা দিতে হচ্ছে। অসন্তোষ প্রকাশ করে রেজাউল বলেন, ১০ টাকা বেশি নেওয়াটা ঠিক হয়নি। সর্বোচ্চ পাঁচ টাকা বাড়ানো যেত।

রাজধানীর সাইনবোর্ড থেকে সাভার পর্যন্ত চলা লাব্বাইক পরিবহনের আগের ভাড়া ছিল ৯০ টাকা, বাড়তি ভাড়া হিসেবে তারা যাত্রীদের কাছ থেকে রাখছে ১২৫ থেকে ১৩০ টাকা। এই পথে সাতটি ওয়েবিলে তারা পাঁচ টাকা করে বেশি আদায় করে ৩৫ থেকে চল্লিশ টাকা বেশি আদায় করছে।

একই সড়কে এমএম লাভলি পরিবহন পূর্বের ভাড়া ৭০ টাকার বদলে রাখছে ৭৫ টাকা। তবে প্রতি ক্ষেত্রে পাঁচ টাকা করে বেশি আদায় করছে সেই ক্ষেত্রে যাত্রা শেষে মোট দূরত্বের পূর্বের আদায় করা ভাড়া থেকে ২০ থেকে ২৫ টাকাও বেশি আদায় করছে।

আর পোস্তগোলা থেকে উত্তরা দিয়াবাড়ি পর্যন্ত রাইদা পরিবহন পরিবর্তিত ভাড়া রাখছে ৭০ টাকা। আগে এই দূরত্বের জন্য পরিবহনটি রাখতো ৫০ টাকা। এছাড়া ছোট ছোট গন্তব্যের জন্য এরা ক্ষেত্র বিশেষ পাঁচ থেকে ১০ টাকা বেশি রাখছে। আর এই পথে যাত্রাবাড়ী থেকে টঙ্গীগামী তুরাগ, অনাবিল ও ছালছাবিল আগের চেয়ে পাঁচ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বেশি রাখছে। তাদের আগের নির্ধারিত ভাড়া ছিল ৪৫ এখন পরিবর্তিত ভাড়া আদায় করছে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা। এই পরিবহনগুলো ছোট দূরত্বের পাঁচ থেকে ১০ টাকা বেশি রাখছে। কখনো কখনো আগের ভাড়ার দ্বিগুণ আদায় করছে।

গুলিস্তান থেকে গাজীপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত দূরত্বের জন্য গাজীপুর পরিবহন ভাড়া নিতো ৬০ টাকা, এখন রাখছে ৭৫ টাকা। আর জয়দেবপুর পর্যন্ত ভাড়া ছিল ৭০ টাকা সেটা বাড়িয়ে ৮৫ টাকা অদায় করছে পরিবহনটি। আর সদরঘাট থেকে গাজীপুর চৌরাস্তার পর্যন্ত দূরত্বে আজমেরী গ্লোরী পরিহন ভাড়া নির্ধারিত ছিল ৬০ টাকা, সেটা বাড়িয়ে করেছে ৭০ টাকা।

ভিক্টর পরিবহন একই দূরত্বে ৪৫ টাকার ভাড়া বাড়িয়ে আদায় করছে ৫০ টাকা। এছাড়া কম দূরত্বের জন্য যে বাড়তি ভাড়া আদায় করছে তাতে দেখা যাচ্ছে অন্তত প্রত্যেক যাত্রীর কাছ থেকে মাথাপিছু অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে ৩০ টাকার বেশি।

ভাড়া আদায় করছে গুলিস্তান থেকে গাজীপুরের জৈনাবাজার পর্যন্ত চলা প্রভাতী বনশ্রী পবিরহন। এই পরিবহনটি আগে এই দূরত্বের জন্য ভাড়া আদায় করতো ১১০ টাকা। এখন ৩০ টাকা বাড়িয়ে ভাড়া আদায় করছে ১৪০ টাকা।

এছাড়া মহানগরের ভেতরে চলা আল-মক্কা পরিবহন মতিঝিল থেকে মিরপুর-১ পর্যন্ত ভাড়া আদায় করতো ৪০ টাকা সেটা ১০ টাকা, বাড়িয়ে ৫০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। একইভাবে খিলগাঁও থেকে মোহাম্মদপুরে পর্যন্ত চলা মিডলাইন ও বাহন পরিবহন পূর্বের ৩৫ টাকার পরিবর্তে ৫০ টাকা করে আদায় করছে।

কল্যাণপুর থেকে রাজশাহীগামী দেশ ট্রাভেলস বর্তমানে ভাড়া রাখা হচ্ছে ৬০০ টাকা, যা আগে রাখা হতো ৪৮০ টাকা। তবে শুধু দেশ ট্রাভেলসই নয় ঢাকা থেকে রাজশাহীগামী সব বাসেই ভাড়া রাখা হচ্ছে ৬০০ টাকা। যা পূর্বের নির্ধারিত ভাড়া থেকে ১২০ টাকা বেশি। এখানকার হানিফ পরিবহনের বাসে ঢাকা থেকে কুষ্টিয়ার যাত্রীপ্রতি ভাড়া রাখা হচ্ছে ৫৫০ টাকা। আগে এই পথে যেতে যাত্রীদের গুণতে হতো ৪৫০ টাকা।

প্রসঙ্গত, গত ৩ নভেম্বর রাতে ডিজেলের দাম ৬৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮০ টাকা করে সরকার, যা ৪ নভেম্বর থেকে কার্যকর হয়। তখন পরিবহন মালিকরা বলেন, এত দামে ডিজেল কিনে বিদ্যমান ভাড়ায় গাড়ি চালানো সম্ভব নয়। পরে মালিকরা শুক্রবার সকাল থেকে বাসসহ পণ্যবাহী যান চালানো বন্ধ করে দেন। অঘোষিত ওই ধর্মঘটের ফলে তিন দিন সারাদেশে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ।

সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির পক্ষ থেকে বিআরটিএর কাছে ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয় বৃহস্পতিবার বিকালে। গত রবিবার বিআরটিএ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে মালিকপক্ষের দাবি মেনে বাসের ভাড়া বাড়ানোর ঘোষণা দেয় সংস্থাটি। পরে ভাড়া বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। এরপর থেকেই সড়ক-মহাসড়কে চলতে শুরু করে বাস।

(ঢাকাটাইমস/০৮নভেম্বর/ডিএম/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :