এটাই শোনার বাকি ছিল: আসিফ

একাকিত্বের ভয় আমাকে তাড়িয়ে বেড়ায় প্রতি মূহুর্তে। ১৯ বছরের মাঝামাঝি বিয়ে আর ২৩ বছরে বাবা হয়েছি অনার্স পড়াকালীন সময়। রণর গ্র্যাজুয়েশন শেষ, মাস্টার্স করতে দ্রুতই চলে যাবে দেশের বাইরে। আর্মিতে যাওয়ার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করেছিল, সেটা আর সম্ভব হয়নি। এক বছর পরে রুদ্র গ্র্যাজুয়েশন শেষ করে চলে যাবে অষ্ট্রেলিয়ায়।
ছেলেরা বড় হয়ে গেলেও এখনো আমাকে বুকে জড়িয়ে ধরে শুয়ে থাকে, গালে কপালে চুমু খায়। দেখা না হলেও সার্বক্ষণিক ফোনে যোগাযোগ রাখে। আমি চাই তাদের মা’ও ওদের সাথে চলে যাক বিদেশে, আমি তো আছি এই দেশেই।
বাংলাদেশকে ভালোবাসি অনেক। নিজস্ব মতাদর্শ বুকে ধারণের কারণে হয়তো ওপেন এয়ার কনসার্টে গান গাইতে পারছি না, তবুও কোন অতৃপ্তি নেই। রেকর্ডিং স্টুডিও আমার একমাত্র যাওয়ার জায়গা। গানের নতুন প্রজন্ম আসে আড্ডা দিতে, ভালো লাগে খুব। সরকারিকরণকৃত দেশীয় শিল্পীরা ব্যস্ত আছে এটাই আসল, অবশ্য তাদের প্রায় ৮০ ভাগই এক পা বিদেশে দিয়ে রেখেছে।
আমাদের শিল্পীরা কখনো সবুজ কখনো হলুদ কখনো তারপিন তেল হয়ে দেশকে সেবা দিচ্ছে এটাই বা কম কিসের!! মিডিয়ার সাথে যোগাযোগ খুব একটা রাখা হয় না, তাদের প্রয়োজন হলে খোঁজে, সব জায়গায় যাই না। ঝামেলামুক্ত থাকতে সঙ্গীতের উপদ্রবগুলোর মুখোমুখিও হই না।
বেগম আর ছেলেদের নিয়ে দু’মাস আগে গিয়েছিলাম ই-পাসপোর্ট করতে। বহুদিন পরে তাদের সাথে বাইরে খাওয়াদাওয়া করলাম, আর কখনো এই উপলক্ষ্য আসবে কিনা জানি না!! ওদের পাসপোর্ট চলে এসেছে যথাসময়ে, আমারটা আটকে দিয়েছে কুমিল্লার পুলিশ প্রশাসন। একজন ফোন করে আমার কাছে তথ্য চাইলো।
যদিও তথ্য নেয়ার মত মেইল আইডি কিংবা হোয়াটসঅ্যাপ তার কাছে নেই। বললাম এটা আমার সাত নম্বর পাসপোর্ট, জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্তিও আছে। ভ্যারিফিকেশনে ব্যস্ত লোকটা আমাকে বলে- বোঝেন না এখন দেশে রোহিঙ্গার উৎপাত বেড়ে গেছে!! এটাই শোনার বাকি ছিল। এখন আমি যদি রোহিঙ্গা কোটায় পড়ে যাই, পুরো দেশের কী অবস্থা সেটা আন্দাজ করতে পিএইচডি ডিগ্রির প্রয়োজন নেই।
আমি শিওর, সুযোগ পেলে পুরো জাতিই প্রবাসে চলে যেতো। যাই হোক পাসপোর্ট পাওয়া আমার অধিকার, তাই কোর্টের বারান্দায় পুরনো ঠিকানাটা এ বছরও রিনিউ করতে হচ্ছে। নতুন বছরে যে যেভাবে পারেন আনন্দে থাকুন, আমি থাকি দৌড়ের উপর। ভালোবাসা অবিরাম…
গায়ক আসিফ আকবরের ফেসবুক পেজ থেকে নেওয়া
ঢাকাটাইমস/০৩জানুয়ারি/এএইচ
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
মন্তব্য করুন













































