চলচ্চিত্রে সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্ব কীসের আলামত?

বিনোদন প্রতিবেদক
  প্রকাশিত : ০৮ আগস্ট ২০২২, ১০:৫৪
অ- অ+

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগতে পচন ধরেছে। সেখানে আর আগের মতো বড়দের প্রতি ছোটদের শ্রদ্ধা আর সম্মানবোধ নেই। ছোটদের প্রতিও বড়দের আদর, স্নেহ, সহানুভূতির দৃষ্টি নেই। এমন অভিযোগ প্রায়ই শোনা যায়।

মাস দুয়েক আগে মৌসুমীকে কেন্দ্র করে ওমর সানী-জায়েদ খান দ্বন্দ্ব এবং সম্প্রতি খল অভিনেতা মিশা সওদাগর এবং নায়ক বাপ্পী চৌধুরীর মধ্যকার কথার যুদ্ধ যেন সেটাই আরও একবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল।

কিন্তু শিল্পীদের মধ্যে কেন এই দ্বন্দ্ব? এগুলো কীসের আলামত? এ প্রসঙ্গে কথা হয় প্রবীণ পরিচালক ও চিত্রনাট্যকার দেলোয়ার জাহান ঝন্টুর সঙ্গে। তাকে প্রশ্ন করা হয় সম্প্রতি ঘটে যাওয়া মিশা সওদাগর ও বাপ্পী চৌধুরীর দ্বন্দ্ব নিয়ে। সেক্ষেত্রে তিনি সিনিয়রের পক্ষই নিলেন।

দেলোয়ার জাহান ঝন্টু ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘একজন সুযোগ সন্ধানী হইতেই পারে। তবে এটা বলার কিছু নাই। এসব বলা ঠিক না। যদিও কথাটা খুব অশোভনীয় না। তবু জুনিয়র হয়ে সিনিয়রকে এটা বলা ঠিক না। একজন সিনিয়র এই কথাটা নিতে পারবে না।’

সিনিয়র-জুনিয়রদের এই ধারাবাহিক দ্বন্দ্ব কীসের আলামত? প্রবীণ নির্মাতা বলেন, ‘কীসের আলামত তা বলতে পারব না। তবে বাংলা চলচ্চিত্র যে আগের জায়গায় নাই এটা বুঝতে পারি।’

কিংবদন্তি শিল্পীদের উদাহরণ টেনে দেলোয়ার জাহান ঝন্টু বলেন, ‘রাজ্জাক সাহেব, আলমগীর সাহেব, সাবানা, ববিতা, মান্নারা যখন কাজ করেছেন তাদের মধ্যে গভীর শ্রদ্ধাবোধ ছিল। পরিচালকদেরও তারা বাবার মত শ্রদ্ধা করেছেন। আর এখনকার ছেলেমেয়েরা তো পরিচালকই মানে না, সহকর্মীদের কী মানবে।’

সম্প্রতি তানভীর তারেকের উপস্থাপনায় একটি রেডিও অনুষ্ঠানে গিয়ে খল অভিনেতা মিশা সওদাগরকে নিয়ে বেফাঁস মন্তব্য করেন বাপ্পী চৌধুরী। অভিনেতা বলেন, ‘যেখানে ট্রেন্ড হয় সে ওখানে লাফায়। যেমন আমাদের মিশা ভাই। ‘পরাণ’ ট্রেন্ডে যাচ্ছে মিশা ভাই সেই ট্রেন্ডে দৌড়াচ্ছে। ‘হাওয়া’র ট্রেন্ডে দৌড়াচ্ছে। সুবিধাবাদি ট্রেন্ড আর কী।’

পরে বাপ্পীর ওই মন্তব্যের পাল্টা দেন মিশা সওদাগর। তিনি বলেন, ‘বাপ্পি যে ট্রেন্ডের কথা বলেছে, ট্রেন্ডের মানে কী? যাই হোক ও (বাপ্পী) আমার ছেলের মতো। আমি সঠিক সময়ে বিয়ে করলে বাপ্পীর মতো ছেলে থাকত। ও তো বেয়াদব। ছেলে বেয়াদব হতে পারে। তাই বলে বাবা তো বেয়াদব হতে পারে না।’

মিশার দাবি, আমি দেশ ও দেশের সংস্কৃতিকে ভালোবাসি। এ জন্য যদি সুবিধাবাদী বলা হয়, হোক। কোনো ছবি ভালো চললে সে ছবির পক্ষে কথা আমি তো বলবোই। এখন রাজ ভালো করছে, সিয়াম ভালো করছে ওদের নিয়ে প্রশংসা করবো না?’

বাপ্পিকে পরামর্শ দিয়ে মিশা বলেন, ‘কারও সাফল্যে ঈর্ষান্বিত না হয়ে বাপ্পীর উচিত এখন অভিনয় শেখা। ওর অভিনয়ের যথেষ্ঠ দুর্বলতা আছে। এখনও ওর সময় আছে, বাপ্পি ফুরিয়ে যায়নি। কমার্শিয়াল হিরো হিসেবে ওর একটা ভালো অবস্থান আছে। ক্যারিয়ারে বলার মতো কোনো কাজ নেই ওর। বলার মতো কিছু কাজ করো। পাশাপাশি আচার-আচারণও শেখো।’

তবে চলচ্চিত্রে কাদা ছোড়াছুড়ি নতুন নয়। ওমর সানী-অমিত হাসান, জায়েদ খান-ওমর সানী, নিপুণ- জায়েদ, শাকিব-চলচ্চিত্র পরিবার, মাহি-আব্দুল আজিজ এমন বহু তারকাদের হুটহাট একজন আরেকজনকে নিয়ে বিতর্কিত কথা বলতে শোনা গেছে আগে।

এরকমটা কেন হয়? চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কেউ অনিচ্ছাকৃত এমন পরিস্থিতিতে জড়িয়ে পড়েন। আবার কেউ কেউ আলোচনায় আসার জন্য একে অপরকে নিয়ে নানা সময় নানা বিতর্কিত মন্তব্য করে বসেন। চলচ্চিত্রের স্বার্থে এগুলো বন্ধ হওয়া দরকার বলে মনে করেন তারা।

(ঢাকা টাইমস/০৮ আগস্ট/এলএম/এএইচ)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
শৈলকুপার গাড়াগঞ্জে নতুন উপজেলা ও পৌরসভা ঘোষণার দাবিতে মানববন্ধন
জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবে সরকার : মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী
কাতারের সদ্যপ্রয়াত আমিরের স্মরণে ঢাকায় সড়কের নামকরণের নির্দেশ
শিক্ষার গুণমান পুনরুদ্ধারে ব্যাপক সংস্কার আনছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়: ভিসি
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা