অস্থির বাজার, ব্যবসায়ীরা বলছেন তাদের কিছু করার নেই

পুলক রাজ, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০২২, ২১:০০ | প্রকাশিত : ১৭ আগস্ট ২০২২, ১৮:৫৪

বাজারে সব ধরনের নিত্যপণের দাম বেড়ে গেছে অস্বাভাবিকভাবে। প্রতিদিনই বাড়ছে কোনো না কোনো পণ্যের দাম। এর পেছনে কখনো ডলার, কখনো জ্বালানি তেল, আবার কখনো পরিবহন খরচ বাড়ার অজুহাত দেখানো হচ্ছে। খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, দাম বাড়ছে কিন্তু তাদের কিছু করার নেই।

সরেজমিনে মোহাম্মদপুর, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার ও হাতিরপুল বাজার ঘুরে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপে এ কথা জানা যায়।

আর ক্রেতারা বলছেন, বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের কর্তৃপক্ষ, সংশ্লিষ্ট দপ্তর, সংস্থার তদারকি তেমন নেই। বাজারের ঊর্ধ্বগতি থামাতে না পারায় সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে সংসারের খরচ চালাতে।

কাঁচামরিচ ও সবজির দাম তো বেশ কিছুদিন আগেই চড়ে আছে। চালের বাজারের অস্থিরতা চলছেই। দিন বিশেক আগে যে পেঁয়াজ ছিল ৫০ টাকা কেজি, তা এখন ৬৫ টাকা। বাছের বাজারও এই গড্ডলিকা প্রবাহের বাইরে নেই।

মাছ বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সাত দিনের ব্যবধানে বিভিন্ন মাছের দাম কেজিতে ৫০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

এক কেজি ওজনের ইলিশের কেজি ১৭০০ থেকে ১৮৫০ টাকা, ৭০০-৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৯৫০ থেকে ১০০০ টাকা আর ৪০০-৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ থেকে ৮৫০ টাকায়।

শিং মাছ কেজি ৪১০ থেকে ৫৩০ টাকা, পাঙাস ২০০ থেকে ২১০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০ থেকে ২৩০ টাকা, পাবদা ৪২০ থেকে ৬৫০ টাকা, রুই মাছ ৩৯০ থেকে ৫২০ টাকা, কৈ মাছ প্রতি কেজি ২২০ থেকে ২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মাঝারি আকারের চিংড়ি মাছ প্রতি কেজি ১০০০ থেকে ১৩০০ টাকা, বড় সাইজের চিংড়ি ১৪০০ থেকে ১৮৫০ টাকা।

চালের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে প্রভাব চালের বাজারেও মোটা ও সরু চালে ৫০ কেজির বস্তায় বেড়েছে ২১০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত। প্রতি কেজি চালে পাইকারিতেই বাড়তি ৪-৫ টাকা। আর পোলাউ চালে কেজিপ্রতি ৮ টাকা বেড়ে খোলাটা বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা। আর বিভিন্ন কোম্পানির প্যাকেটজাত পোলাও কেজি ১৫০ টাকা।

মিনিকেটে পাইকারিতে কেজিপ্রতি ৫ থেকে ৬ টাকা বেড়ে মানভেদে ৭৮ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ৪ থেকে ৫ টাকা বেড়ে নাজিরশাইল ৮০ থেকে ৮৮, ভালো আটাশ চাল ৪-৫ টাকা বেড়ে ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

সবজির বাজার ঘুরে দেখা যায়, টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা, যা দিন চারেক আগে ছিল ১১০ থেকে ১২০ টাকা। লম্বা বেগুন কেজিপ্রতি ১৫ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৯৫ টাকা। গোল বেগুন ৮৫ থেকে বেড়ে ৯৫-১১০ টাকা, করলা ৫৫ থেকে বেড়ে ৭৫ টাকা, পটল ৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৬৫ টাকা, চিচিঙ্গা ৫৫ থেকে বেড়ে ৬৫ টাকা, শসা ৪৫ থেকে বেড়ে ৭০ থেকে ৭৫ টাকা বিক্রি হচ্ছে।

মিষ্টিকুমড়া প্রতি কেজি ৫০ থেকে বেড়ে ৫০ টাকা, কচুর লতি ৭০ থেকে বেড়ে ৯০ টাকা, ঢেঁড়স ৬৫ থেকে বেড়ে ৭৫ টাকা, ধুন্দুল ৫৫ থেকে বেড়ে ৬৫ টাকা, বরবটি ৬৫ থেকে বেড়ে ৮৫ টাকা কেজি, পেঁপের কেজি ৩০ থেকে বেড়ে ৫০ টাকা। তবে কাঁচামরিচ ২৮০ থেকে কমে ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা হয় ঢাকাটাইমসের এই প্রতিবেদকের। তাদের ভাষ্য, তারাও চান না বাজারের এমন পরিস্থিতি হোক। কিছু অসাধু সিন্ডিকেট বেশি লাভের জন্য বাজারকে অস্থির করে তুলছে। এসব মুনাফালোভী ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনের কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

রামপুরা এলাকার মুদি দোকানদার মো. কাওসার রহমান ঢাকাটাইমসকে বলেন, তাদের পণ্য কিনে আনতে হয় বেশি দাম দিয়ে। এর মধ্যে পরিবহন ভাড়া, জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে গেছে। সব যোগ করে খুচরা দাম ধরতে হয়।

নিজেদের নিরুপায় অবস্থার কথা জানান তেজগাঁও বাজারের চাল ব্যবসায়ী রকি আহমেদ। ঢাকা টাইমসকে তিনি বলেন, ’এই মুহূর্তে আমাদের কোনো কিছু করার নেই। সব ধরনের পরিবহনের ভাড়া অতিরিক্ত বেড়ে গেছে। মিল মালিকরা আগের দামে চাল বিক্রি করতে চাচ্ছে না। আমাদের বেশি দামে চাল কিনতে হচ্ছে। অতিরিক্ত পরিবহন ভাড়াও দিতে হচ্ছে।খুচরা ক্রেতারা আমাদের কাছ থেকে বেশি দাম দিয়ে পণ্য কেনেন। কিন্তু আমাদের লাভ আগের মতোই।’

কারওয়ান বাজারের কাঁচাবাজার ব্যবসায়ী জনি মিয়া ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘আমরা ইচ্ছে করলেই দাম বাড়াতে পারি না। সবজির দাম বেড়ে যায় ঢাকা আসতে আসতে। ট্রাকওয়ালারা ভাড়া নিচ্ছে আগের চেয়ে দ্বিগুণ।’

(ঢাকাটাইমস/১৭আগস্ট/পিআর/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

অর্থনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

অর্থনীতি এর সর্বশেষ

এই বিভাগের সব খবর

শিরোনাম :