শরীরের বাড়তি ওজন ঝরাতে পুষ্টিবিদ সামিয়া তাসনিমের গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ

ফিচার ও স্বাস্থ্য ডেস্ক, ঢাকা টাইমস
 | প্রকাশিত : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৮:২৬

ওজন বেড়ে যাচ্ছে। এই অভিযোগ করেন অনেকেই। আমাদের দেশে এখন একটি বড় সমস্যা হলো স্থুলতা। বড় বড় সব রোগের মূলে এই স্থূলতা। ফলে স্থূলতা নিজেই একটি রোগ। তাই অন্য সব রোগের ফাঁদ এড়িয়ে চলতে চাইলে শরীরের অতিরিক্ত ওজন ঝেড়ে ফেলার কোনো বিকল্প নেই।

কারণ, স্থূলতা থেকে কার্ডিওভাসকুলার রোগ, টাইপ-টু ডায়াবেটিস, ঘুমের প্রতিবন্ধকতা, নির্দিষ্ট ধরনের ক্যানসার, অস্টিওআর্থারাইটিস, বিষণ্নতা, উচ্চ রক্তচাপ, ফ্যাটি লিভারসহ নানা রোগের জন্ম হয়। প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাদ্যগ্রহণ, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব এবং জেনেটিক কিছু কারনে সাধারণত স্থূলতা হয়।

অনেক ক্ষেত্রে প্রধানত জিন, অন্ত্রের রোগ, ঔষধ বা মানসিক ব্যাধির কারনে ওজন বেড়ে যেতে পারে। স্থূলতা বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে বেশি মারা যায় প্রাপ্তবয়স্ক এবং শিশুরা। ২১ শতকের মধ্যে এটি সবচেয়ে গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা হিসাবে দেখা হয়েছে।

তাই কীভাবে এই বাড়তি ওজন কমানো যায়, এটা নিয়ে অনেকেই চিন্তিত! এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরামর্শ দিচ্ছেন রাজধানীর গুলশানের ল্যাব এইড হাসপাতালের চিকিৎসক পুষ্টিবিদ সামিয়া তাসনিম।

তিনি বলছেন, স্থূলতা বা বাড়তি ওজন কমানোর জন্য ডায়েট মেনে চলতে হবে এবং প্রতিদিনই অল্প করে হলেও শরীরচর্চা করতে হবে। এ দুটি বন্ধ রাখলে আবার ওজন বেড়ে যেতে পারে। তাই প্রতিদিন একটা ব্যালেন্স ডায়েট মেনে চলা, সঙ্গে কিছু সময় শরীরচর্চা করা আবশ্যক।

কিন্তু কীভাবে ব্যালেন্স ডায়েট মেনে চলবেন?

এই পুষ্টিবিদ বলছেন, যে ডায়েটে সব গ্রুপের খাবার দিয়ে ক্যালরি হিসাব করে করা হয়, তাকে ব্যালেন্স ডায়েট বলে। ডায়েটের প্রসঙ্গ উঠলেই যে জিনিসটি বেশি খেয়াল রাখতে হবে, সেটি হলো প্রত্যেকের জন্য এক রকম ডায়েট হবে না। প্রত্যেকটি মানুষের বয়স, ওজন, উচ্চতা, লিঙ্গ এবং শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী ডায়েট প্ল্যান আলাদা আলাদা হবে।

অনেক সময় যদি কোনো মোটা ব্যক্তি কোনো রোগে আক্রান্ত হন, তাহলে তার রোগের ধরন অনুযায়ী খাবার নির্ধারণ করা হয়। যে বিষয়গুলো মেনে চললে মোটা হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে না বলে জানাচ্ছেন পুষ্টিবিদ সামিয়া তাসনিম।

১। প্রতিদিন সকালের নাশতায় উচ্চ প্রোটিন রাখবেন। কারণ, একটি উচ্চ প্রোটিন ব্রেকফাস্ট ওজন কমাতে সাহায্য করে। ক্ষুধার হরমোন নিয়ন্ত্রণে প্রোটিন সাহায্য করে এবং মধ্যাহ্নভোজ (দুপুরের খাবার) পর্যন্ত আপনার ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ করতে সহায়তা করে।

এক গবেষণায় দেখা গেছে, সকালের নাশতার জন্য ডিম উচ্চমানের প্রোটিন, ভিটামিন ডি এবং কোলাইনের মতো অপরিহার্য পুষ্টিসমৃদ্ধ। এটি প্রোটিন, যা বিশেষ করে ওজন কমানোর জন্য সহায়ক। তাই প্রতিদিন সকালে একটি ডিম সিদ্ধ রাখতে পারেন।

২। প্রতিদিনের খাদ্য তালিকা থেকে অতিরিক্ত শর্করা জাতীয় খাবার বাদ দিতে হবে। যেমন- আলু, চিনিযুক্ত খাবার (চিনি, জুস, মিষ্টি), বাইরের প্রক্রিয়াজাত খাবার ইত্যাদি।

৩। প্রতিবার খাওয়ার আধা ঘণ্টা আগে পানি পান করুন এবং খাওয়ার আধা ঘণ্টা পর কুসুম গরম পানি খাবেন। এক গবেষণায় দেখা গেছে, এটি তিন মাসে ৪৪ শতাংশ পর্যন্ত ওজন কমাতে পারে।

৪। ধীরে ধীরে খাবার গ্রহণ করুন এবং সারাদিনের খাবারকে ছয় ভাগে ভাগ করুন।

৫। রাতে ভালো ঘুম দিন।

৬। ওজন কমাতে সাহায্য করে এমন খাবার প্রতিদিন খাদ্য তালিকায় রাখুন।

৭। বাইরের ভাজা-পোড়া খাবার প্রতিদিন খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।

৮। ভালো ফ্যাটযুক্ত খাবার যেমন- ওমেগা-থ্রি, ৬ যুক্ত খাবার প্রতিদিন খাদ্য তালিকায় অল্প করে রাখুন।

৯। শারীরিক কোনো সমস্যা যেমন- রক্তস্বল্পতা না থাকলে প্রতিদিন গ্রিন-টি বা ব্ল্যাক কফি পান করুন।

এভাবে প্রতিদিন আপনি নিয়ম মেনে খাবার গ্রহণ করলে আপনার ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকবে। আপনি অনেক রোগের ঝুঁকি থেকে মুক্ত থাকবেন। জীবন হবে সুন্দর এবং স্বাচ্ছন্দ্যময়।

(ঢাকাটাইমস/০৫ফেব্রুয়ারি/এজে)

সংবাদটি শেয়ার করুন

স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

স্বাস্থ্য এর সর্বশেষ

করোনায় একজনের মৃত্যু

ডেঙ্গুতে একজনের প্রাণহানি

‘দেশে প্রতি চারজন প্রাপ্তবয়স্কের একজন উচ্চ রক্তচাপে ভুগছে, বাজেটে অর্থ বরাদ্দের আহ্বান’

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত আরও ২৪ জন, এগিয়ে পুরুষেরা

শুধু পুষ্টিকর খাবার নয়, সুস্বাস্থ্যের জন্য ব্যায়ামও করতে হবে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেল হার্ট ফাউন্ডেশনের গবেষণা টিম

২৪-২৬ মে ঢাকায় বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা দেবেন ‘ব্যাংকক হসপিটাল’ এর চিকিৎসকরা

মরণব্যাধি ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায় যেসব খাবার ও পানীয়

বাঁচতে হলে জেনে নিন কোন ক্যানসারের কী লক্ষণ

গবেষণা, শিক্ষা নিয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি: বিএসএমএমইউ উপাচার্য

এই বিভাগের সব খবর

শিরোনাম :