শিশু নির্যাতন মুক্ত সমাজ গড়তে আরও করণীয় রয়েছে: আইনমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
 | প্রকাশিত : ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৭:১৭

শিশুদের প্রতি সহিংসতা শোষণ ও নির্যাতন মুক্ত সমাজ গড়তে আমাদের আরও অনেক করণীয় রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

তিনি বলেন, এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে শিশুদের প্রতি সহিংসতা, শোষণ ও নির্যাতন মুক্ত সমাজ গড়তে হবে, যেখানে তারা মর্যাদার সঙ্গে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে। তবে তা গড়তে আমাদের আরও অনেক করণীয় রয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে "শিশু সংবেদনশীল আদালত কক্ষ" এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

আইন ও বিচার বিভাগ এবং ইউনিসেফ বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগের স্ট্রেংদেনিং ক্যাপাসিটি অব জুডিসিয়াল সিস্টেম ফর চাইল্ড প্রোটেকশন ইন বাংলাদেশ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার বাংলাদেশের শিশু বিচার ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে উন্নীত করতে চায়। সে জন্য আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় শিশু বিচার ব্যবস্থার উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে।

তিনি বলেন, শিশু আইন বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে আইন মন্ত্রণালয় যেসব কাজ করেছে তার মধ্যে অন্যতম হলো, শিশু আইন ২০১৩ এবং শিশু সুরক্ষা সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আইনসমূহ কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে লক্ষ্যে বিচারক ও সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষক প্রতিষ্ঠানসমূহের সক্ষমতা উন্নয়নে কাজ করা হচ্ছে। পৃথক শিশু আদালত প্রতিষ্ঠাসহ পর্যায়ক্রমে সব শিশু আদালতে কক্ষসমূহের সংস্কার করে শিশুসংবেদনশীল পরিবেশ তৈরির কাজ করা হচ্ছে। এছাড়া শিশু আদালতসমূহের জন্য প্রয়োজনীয় জনবল ও লজিস্টিক সাপোর্ট নিশ্চিত করার জন্য পৃথক বাজেট বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে সকল শিশু আদালতসমূহে ভার্চুয়াল কানেক্টিভিটির আওতায় নিয়ে আসার লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি।

অনুষ্ঠানে তিনি আরও বলেন, ২০১৩ সালে শিশু আইন প্রণয়ন করা হয়। যা শিশুদের সুরক্ষা, অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করার জন্য একটি আইনি কাঠামো ভিত্তি স্থাপন করেছে। শিশুদের কল্যাণ ও সুরক্ষায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অক্লান্ত প্রচেষ্টা আমাদের সবার নিকট অনুস্মরণীয় এক উজ্জল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তার সরকারের আমলে প্রণীত শিশু আইনের বিভিন্ন ধারায় আইনের সাথে সংঘাতে জড়িত শিশু, আইনের সংস্পর্শে জড়িত শিশু ও সুবিধা বঞ্চিত শিশুর অধিকার রক্ষাসহ শিশুর বিরুদ্ধে সহিংসতা রোধে পদক্ষেপ গ্রহণের কার্যকর বিধান সন্নিবেশ করা হয়েছে। এই আইনের কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করণে পর্যাপ্ত লজিস্টিক সাপোর্ট, পৃথক আদালত কক্ষ, উপযুক্ত পরিবেশ এবং প্রশিক্ষিত জনবল প্রয়োজন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রাসঙ্গিক জ্ঞান ও দক্ষতাও সমানভাবে গুরুত্ব।

শিশু আইন ২০১৩ আইন বাস্তবায়নে প্রধান লক্ষ্য হলো, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে শিশু আইনের সঙ্গে সংঘাতে জড়িত শিশুদের ক্ষেত্রে অপ্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাসমূহ। যেমন, ডাইভারশনসহ বিকল্প ব্যবস্থাসমূহ প্রয়োগ বৃদ্ধি করা, ভার্চুয়াল প্লাটফর্ম ব্যবহার করে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রসমূহে আটক শিশুদের বিচার প্রক্রিয়া তরান্বিত করা।

অনুষ্ঠানের সভাপতির বক্তব্যে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. গোলাম সরওয়ার বলেন, আইন বিচার বিভাগের ইতিহাসে এই প্রথম শিশু বান্ধব কোর্ট সৃষ্টি এবং আরও যুগপোযুগি কীভাবে করা যায় সে কারণে, “স্ট্রেংদেনিং ক্যাপাসিটি অব জুডিসিয়াল সিস্টেম ফর চাইল্ড প্রোটেকশন ইন বাংলাদেশ প্রকল্প” গ্রহণ করা হয়েছে। সব মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করার মাধ্যমে শিশু আইন ২০১৩ কাঙ্খিত উদ্দেশ্য পূরণ করা সম্ভব। এছাড়া শিশুদের সংবেদনশীলতা বিবেচনায় নিয়ে আদালতে উপযুক্ত আরও কক্ষ তৈরি করা হবে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, তিন কোটি ২৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ৯ জেলায় ১০ টি আদালত কক্ষ সংস্কার করে শিশু সংবেদনশীল আদালত তৈরি করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউনিসেফের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ শেলডন ইয়েট।

(ঢাকাটাইমস/২৯ ফেব্রুয়ারি/টিআই/ইএস)

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :