রহস্যে ঘেরা মুক্তিপণকাণ্ড!

হাসান মেহেদী, ঢাকা টাইমস
| আপডেট : ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ১১:৪৬ | প্রকাশিত : ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ০০:০০

সমুদ্রের মাঝে ৬৫ জন জলদস্যুর একটি বাহিনী অপহৃত বাংলাদেশি জাহাজ এমভি আবদুল্লাহ থেকে নেমে ৯টি বোটে করে রাতের আঁধারে চলে যায়। যাওয়ার আগে বার্তা দিয়ে যায়, ‘তোমরা এখন মুক্ত, দুবাইয়ে পোর্টে যেতে মাঝ রাস্তায় আর কেউ এমভি আবদুল্লাহকে ডিস্টার্বও করবে না।’ এর পরই জাহাজটির ক্যাপ্টেন জাহাজের মালিকপক্ষের কাছে তাদের মুক্তির বার্তা পাঠান। আলোচিত এই ঘটনাটি ঘটে শনিবার দিবাগত রাত ৩টার পর।

তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত বেশ কয়েকটি ভিডিওতে দেখা যায় দিনের বেলায় আবদুল্লাহর নাবিকরা সবাই জাহাজের ডেকে লাইন ধরে দাঁড়ানো। দুটি স্পিড বোট জাহাজের সামনে অবস্থান নেয়। ছোট আকারের একটি উড়োজাহাজ এমভি আবদুল্লাহর সামনে চক্কর দিচ্ছে। উড়োজাহাজটি একবার চক্কর দিয়ে একটি করে ব্যাগ পানিতে ফেলছিল। তারপর স্পিড বোটে থাকা কেউ সেই ব্যাগটি তুলে নিচ্ছিল। এভাবে তিনবার তিনটি ব্যাগ ফেলা হয়।

এর আগে চলতি বছরের ১২ মার্চ ভারত মহাসাগর থেকে এমভি আবদুল্লাহ জাহাজটিকে সোমালিয়ার দস্যুরা জিম্মি করে। পরে ১৩ এপ্রিল শনিবার দিবাগত রাত ১২টা ৮ মিনিটে জিম্মি করার ৩১ দিন পর জাহাজটি জলদস্যুদের কাছ থেকে মুক্ত হয়।

এদিকে ২৩ নাবিকসহ এমভি আবদুল্লাহ মুক্ত হওয়ার পর একই দিন উত্তর-পূর্ব সোমালিয়ার ফেডারেল রাজ্য পান্টল্যান্ডের পূর্ব উপকূল থেকে আট জলদস্যুকে গ্রেপ্তার করেছে সোমালিয়ার পুলিশ। এর আগে গত ১৭ মার্চ এমভি আবদুল্লাহ জাহাজ জিম্মি করার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুই জনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছিল দেশটির পুলিশ।

তথ্য বলছে জলদস্যুদের সঙ্গে আল-শাবাব জঙ্গিগোষ্ঠীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। জাহাজটি জিম্মির পর থেকেই নৌবাহিনীর জাহাজ ও পান্টল্যান্ড পুলিশের ব্যাপক নজরদারি ছিল।

জাহাজটি জিম্মির সঙ্গে জড়িত ৮ জলদস্যুকে পান্টল্যান্ড পুলিশ গ্রেপ্তার করলেও তাদের কাছ থেকে মুক্তিপণের কোনো অর্থ উদ্ধার করেছে কি না তা নিশ্চিত করেনি।

জাহাজের মালিক পক্ষ কেএসআরএম গ্রুপের মিডিয়া উপদেষ্টা মিজানুল ইসলাম এই প্রতিবেদককে জানান, এমভি আবদুল্লাহ নাবিকদের নিয়ে ২২ এপ্রিল দুবাইতে পৌঁছাবে। এরপর সেখান থেকে জাহাজটি বাংলাদেশে আনার কার্যক্রম চালানো হবে। তবে কবে নাগাদ বাংলাদেশে জাহাজটি আনা হবে তা এখনো স্পষ্ট বলা যাচ্ছে না।

জাহাজে থাকা নাবিকদের দেশে পাঠানো হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নাবিকদের দেশে আসা— না আসা একান্তই তাদের ব্যাপার। তারা চাইলে তাদেরকে (নাবিক) বিমান যোগে দেশে নিয়ে আসা হবে। আর যদি তারা জাহাজে থাকতে চায় তাহলে সেখানেই তারা তাদের কাজ চালিয়ে যাবেন। আমরা কাউকেই কোনো প্রেশার দিচ্ছি না, এমনকি তাদের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করছি না।

অপহরণকারীদের কাছ থেকে জাহাজ ও নাবিকদের উদ্ধারে কোনো মুক্তিপণ দিতে হয়েছে কি না, এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা কাউকেই বলিনি জলদস্যুদের মুক্তিপণ দেওয়া হয়েছে। অনেক গণমাধ্যমে মুক্তিপণের বিষয়ে প্রচার করা হলেও আমরা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বলিনি কাউকে মুক্তিপণ দেওয়া হয়েছে। মুক্তিপণ দেওয়া না দেওয়ার বিষয়ে আমাদের কোনো বক্তব্য নেই।’

শনিবার বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ৩টা ৮ মিনিটে এমভি আবদুল্লাহ জলদস্যুদের কবল থেকে মুক্ত হয়। এর পরই সোমবার দুপুর ২টায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন নৌবাহিনীর ওয়েবসাইটে দেখা গেছে, তাদের নৌবাহিনীর দুটি যুদ্ধজাহাজ এমভি আবদুল্লাহকে নিরাপত্তা দিয়ে নিয়ে আসছে। এ বিষয়ে সংস্থাটির ওয়েবসাইটে এমভি আবদুল্লাহকে পাহারা দিয়ে নেওয়ার ছবি প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

ছবিতে দেখা যায়, এমভি আবদুল্লাহর দুই পাশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নৌবাহিনীর দুটি যুদ্ধজাহাজ রয়েছে। এ সময় তিনটি দ্রুতগতির নৌযানকেও টহল দেওয়ার দৃশ্য দেখা যায়।

কেএসআর গ্রুপের এক কর্মকর্তা ঢাকা টাইমসকে জানিয়েছেন, এমভি আবদুল্লাহ জাহাজটিকে পাহারা দিয়েছে দুটি যুদ্ধজাহাজ। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নৌবাহিনীর সদস্যরা নিরাপত্তায় নিয়োজিত আছেন। তারা জাহাজের নাবিকদের সঙ্গেও কথা বলে সবার খোঁজখবর নিয়েছেন।

কেএসআরএম সূত্রে জানা গেছে, ৫৫ হাজার টন কয়লা নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে যাচ্ছিল জাহাজটি। এরপর জলদস্যুদের হাতে জিম্মি হয়। জিম্মিদশা থেকে মুক্তির পর কয়লাবাহী এমভি আবদুল্লাহর গন্তব্য এখন দুবাইয়ের দিকে। সেখানে পণ্য খালাস করে জাহাজটি চট্টগ্রামের উদ্দেশে আসবে।

একাধিক সূত্রমতে জানা গেছে, জলদস্যুদের কাছ থেকে জাহাজটি মুক্ত করতে দস্যুদের চাহিদা অনুযায়ী অর্থ প্রদান করতে হয়েছে। তবে কী পরিমাণ মুক্তিপণের অর্থ দেওয়া হয়েছে, তা এখন পর্যন্ত কেউই নিশ্চিত করেনি।

জিম্মির নয় দিনের মাথায় জলদস্যুরা মুক্তিপণের জন্য জাহাজের মালিকপক্ষ কেএসআরএম গ্রুপের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেছিল। এক পর্যায়ে ঈদের আগেই জাহাজের মালিকপক্ষ আভাস দিয়েছিল, দস্যুদের সঙ্গে তাদের সমঝোতা আলোচনা হয়েছে। সেই আলোচনার পরই জাহাজটি ঈদের পর মুক্ত হয়।

এদিকে রবিবার সকালে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী তার মিন্টো রোডের বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, মুক্তিপণ প্রদান সংক্রান্ত কোনো তথ্য ও ছবির সত্যতা নেই। ব্যাপক আন্তর্জাতিক চাপ ও সমঝোতার মাধ্যমেই নাবিকদের মুক্ত করা হয়েছে। কোনো ধরনের মুক্তিপণ দেওয়া হয়নি জলদস্যুদের। তাদের ফিরে আসতে ১৫ থেকে ২০ দিন লাগতে পারে।

উল্লেখ্য, ২০১০ সালে কেএসআরএম গ্রুপের আরেকটি জাহাজ এমভি জাহান মণি ছিনতাই করেছিল সোমালিয়ার দস্যুরা। ওই জাহাজ উদ্ধার করতে ৯৯ দিন সময় লেগেছিল।

(ঢাকাটাইমস/১৬এপ্রিল/এআর/এসআইএস)

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

জাতীয় এর সর্বশেষ

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব: সারাদেশে মোবাইল ফোনের ৩২৯০৬টি টাওয়ার নিষ্ক্রিয়

শিশুর সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়তে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে: প্রতিমন্ত্রী সিমিন

প্রাথমিকে ৪৬ হাজার শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া হাইকোর্টে স্থগিত

ডয়েচে ভেলেকে ‘গাজায় গণহত্যা’ নিয়ে প্রামাণ্যচিত্র তৈরির আহ্বান তথ্য প্রতিমন্ত্রীর

বৃহস্পতিবার ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় যাবেন প্রধানমন্ত্রী 

রাজধানীতে ট্রাফিক এডুকেশন সেন্ট্রার চালু করছে ডিএমপি

রেমালের তাণ্ডব: তিন উপজেলায় নির্বাচন স্থগিত

রাষ্ট্রপতির কাছে তিন দেশের রাষ্ট্রদূতের পরিচয়পত্র পেশ

জাপানে বাংলাদেশের অর্থায়নে নির্মিত শান্তি স্মৃতিস্তম্ভের উদ্বোধন

ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু ২ জুন, শতভাগ অনলাইনে

এই বিভাগের সব খবর

শিরোনাম :