ফরিদপুরে নিষ্ক্রিয় করা হলো শক্তিশালী রিমোট কন্ট্রোল বোমা, বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল এলাকা

ফরিদপুর শহরের ব্যস্ততম এলাকা আলীপুর আলীমুজ্জামান সেতুতে স্কুল ব্যাগের ভেতর লুকিয়ে রাখা একটি শক্তিশালী রিমোট কন্ট্রোল বোমা বিশেষ ব্যবস্থায় নিষ্ক্রিয় করেছে পুলিশের অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ)। নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের সময় ঘটনাস্থলে বিকট শব্দ ও তীব্র কম্পনের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় শহরজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।
রবিবার (১১ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শহরের গোয়ালচামট প্রতিমা বিসর্জন ঘাট এলাকায় কুমার নদের পাড়ে বোমাটি নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় করা হয়। ঢাকা থেকে আগত এটিইউ’র ১০ সদস্যের একটি বিশেষ বোমা ডিসপোজাল দল এ কার্যক্রম পরিচালনা করে।
এটিইউ বোমা ডিসপোজাল দলের পরিদর্শক শংকর কুমার ঘোষ সাংবাদিকদের জানান, উদ্ধার করা বোমাটি একটি শক্তিশালী আইইডি (ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস), যা রিমোট কন্ট্রোল ডিভাইসের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত ছিল। এটি সাধারণ বোমার তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী ও প্রাণঘাতী। সময়মতো নিষ্ক্রিয় না করা গেলে বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা ছিল।
বিশেষ নিরাপত্তা পোশাক পরিহিত বোমা ডিসপোজাল দলের সদস্যরা বালুর বস্তা ও বুলেটপ্রুফ সরঞ্জাম দিয়ে ঘিরে রাখা বোমাটির কাছে যান। পরে নতুন তার সংযুক্ত করে প্রায় ৫০ থেকে ১০০ মিটার দূর থেকে ইলেকট্রিক সংযোগের মাধ্যমে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। বিস্ফোরণের সময় বিকট শব্দে প্রায় ২০ ফুট উঁচুতে ধোঁয়া উঠে যায় এবং প্রায় ৫০ ফুট পর্যন্ত স্প্লিন্টার ও ধাতব অংশ ছিটকে পড়ে। বিস্ফোরণ শেষে আলামত সংগ্রহ করে নিয়ে যায় এটিইউ।
এর আগে শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফরিদপুর শহরের কুমার নদের ওপর আলীপুর আলীমুজ্জামান সেতুর দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তে পাঠখড়ির স্তূপের ভেতরে একটি নীল রঙের স্কুল ব্যাগ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা সন্দেহ প্রকাশ করেন। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্যাগটি তল্লাশি করে টেপ মোড়ানো বোমা সদৃশ বস্তু শনাক্ত করে।
নিরাপত্তার স্বার্থে সেনাবাহিনীর বিশেষ সদস্যরা বোমাটি উদ্ধার করে সেতু থেকে প্রায় ৩০০ মিটার দূরে বিসর্জন ঘাট এলাকায় নিয়ে যান এবং বালুর বস্তা দিয়ে ঘিরে রাখেন। রাতভর সেখানে সেনাবাহিনী ও পুলিশ মোতায়েন থাকে। এ সময় সেতু ও নদীর দুই পাড়ে সাধারণ মানুষের চলাচল বন্ধ রাখা হয়।
ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আজমির হোসেন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
ব্যস্ত সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ সেতু এলাকায় এমন শক্তিশালী বোমা উদ্ধারের ঘটনায় শহরবাসীর মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত এই ঘটনার রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
(ঢাকাটাইমস/১১ জানুয়ারি/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













































