রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কবে হচ্ছে

নতুন প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং সংসদ সদস্যদের শপথের মাধ্যমে দেশে নতুন সরকারের যাত্রা শুরু হলেও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কবে হবে—এ প্রশ্নে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা বাড়ছে। তবে বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদে পরিবর্তনের নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ না হলে নতুন নির্বাচন আয়োজনের সুযোগ নেই।
বর্তমান রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে। তার মেয়াদ রয়েছে ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত। ফলে স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে তার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সুযোগ নেই।
তবে সংবিধান অনুযায়ী তিনটি কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হতে পারে—মেয়াদ পূর্ণ হওয়া, পদত্যাগ কিংবা অভিসংশন (ইমপিচমেন্ট)। এছাড়া গুরুতর অসদাচরণ, শারীরিক বা মানসিক অক্ষমতার ক্ষেত্রেও পদ শূন্য হতে পারে বলে সংবিধান বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে সংবিধান বিশ্লেষকরা বলছেন, রাষ্ট্রপতি পদ শূন্য হলে নির্বাচন কমিশন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আয়োজন করে। এ ক্ষেত্রে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ‘নির্বাচনী কর্তা’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং জাতীয় সংসদের স্পিকারের সঙ্গে পরামর্শ করে তফসিল ঘোষণা করেন।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে, গণঅভ্যুত্থানের মুখে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের দাবি উঠলেও বিএনপি সে দাবির বিরোধিতা করেছিল। পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিনের কাছেই নতুন সরকার শপথ গ্রহণ করে।
তবে গত ডিসেম্বর মাসে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, জাতীয় নির্বাচন শেষে তিনি দায়িত্ব ছাড়তে আগ্রহী। তিনি বলেছিলেন, সাংবিধানিক দায়িত্বের কারণে নির্বাচন পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন, তবে পরে সরে যেতে চান।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সংসদের স্পিকার দায়িত্ব নেওয়ার পর রাষ্ট্রপতি যদি পদত্যাগপত্র জমা দেন, তাহলে অভিসংশন ছাড়াই পদটি শূন্য হবে এবং তখনই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পথ খুলবে। এ ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করে সংসদ সদস্যদের ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করবে।
নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে সরকার গঠনের পর রাষ্ট্রপতি পদে পরিবর্তন আসতে পারে—এমন ধারণা রাজনৈতিক মহলে জোরালো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ বা পদ শূন্য হওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে সবকিছুই আলোচনার পর্যায়েই থাকবে।
(ঢাকাটাইমস/১৮ ফেব্রুয়ারি/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













