চিকিৎসা নিতে আসা নারীকে শ্লীলতাহানি, মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি: গ্রেপ্তার ২

রাজশাহী ব্যুরো, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯:২২
অ- অ+

রাজশাহী মহানগরীর রাজপাড়া থানাধীন লক্ষীপুর এলাকায় চিকিৎসাসেবা নিতে আসা এক নারীকে শ্লীলতাহানি, মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি)। মামলা দায়েরের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মৃত গোলাম কিবরিয়া জিকিরের ছেলে লাবিব সারাফাত রিদান (২১) ও হামিদুল আলম সনি (৩০)।

পুলিশ জানায়, গত ১৭ সেপ্টেম্বর দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে লক্ষীপুর এলাকার আর রহমান হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা জানান, রাজশাহী ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশন জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক স্বজনের জন্য ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী ওষুধ কিনতে তৌহিদের স্ত্রী মোসা. রূপা খাতুন (১৯), তাঁর বড় ভাই মো. রাজিব আলী (২৮) ও শাশুড়ি লক্ষীপুর এলাকার একটি ফার্মেসিতে যান। ফার্মেসিতে লোক না থাকায় তারা ফিরে আসার সময় আর রহমান হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের সামনে পৌঁছালে এজাহারনামীয় ১ নম্বর আসামি মো. মাসুদ রানা তাদের পথরোধ করেন।

অভিযোগ রয়েছে, মাসুদ রানা তাঁর পরিচিত একটি দোকান থেকে ওষুধ কেনার প্রস্তাব দেন। এতে রাজি না হওয়ায় তিনি তাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে তাঁর নির্দেশে সেখানে উপস্থিত অন্য অভিযুক্তরা তাদের ওপর হামলা চালায়।

এ সময় রূপা খাতুনের ওড়না ধরে টানাটানি করে শ্লীলতাহানি এবং তাঁর বড় ভাই রাজিব আলীকে মারধর করে আহত করা হয়। পরিবারের অন্য সদস্যরা তাদের রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তাদেরও এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। পাশাপাশি দুই নারীকে টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানি করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

তাদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়।

পরে ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে আরএমপি কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবিরের নজরে আসে। তাঁর নির্দেশনায় পুলিশ ভুক্তভোগীকে রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী এলাকা থেকে খুঁজে বের করে।

এরপর গত ১৯ সেপ্টেম্বর তৌহিদ রাজপাড়া থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করলে পুলিশ মামলা রুজু করে। মামলা হওয়ার পরপরই পুলিশ কমিশনারের নির্দেশে অভিযান চালিয়ে গত রাতে লক্ষীপুর এলাকার পুরাতন পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পেছন থেকে লাবিব সারাফাত রিদান ও হামিদুল আলম সনিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। মামলার অন্যান্য পলাতক আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে আরএমপির অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আরএমপি জানিয়েছে, রাজশাহীতে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা কেউ দালাল বা অন্য কারও দ্বারা কোনো ধরনের হয়রানির শিকার হলে অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

(ঢাকা টাইমস/২০সেপ্টেম্বর/এসএ)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
আশুলিয়ায় পোশাক কারখানায় আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৪ ইউনিট
সিগারেট-ওষুধ-মোবাইলসহ ১১ খাতে অনলাইনে ভ্যাট রিটার্ন বাধ্যতামূলক
জামায়াত থেকে বহিস্কৃত এমপি নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
ময়লার ভাগাড়ে মিলল টাকার বস্তা‎!