বিএনপি পরিবারের হওয়ায় আ.লীগ আমলে চাকরি যায় সাজ্জাত আলীর

বিএনপি-সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণেই আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে চাকরি হারাতে হয়েছিল পুলিশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা শেখ মো. সাজ্জাত আলীর। পুলিশের এই মেধাবী কর্মকর্তা দীর্ঘ প্রায় তিন দশক দক্ষতা ও সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করলেও শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক বিবেচনায় ২০১৬ সালে তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়।
পরিবারিকভাবে বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং রাজনৈতিক পরিচয়ই তার ক্যারিয়ারে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
সাজ্জাত আলী ১৯৮৬ সালের ২১ জানুয়ারি সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে তিনি ঝিনাইদহ, পুলিশ সদরদপ্তর ও এসবিতে দায়িত্ব পালন করেন। পরে উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) হিসেবে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশে (ডিএমপি) গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন।
পুলিশ সুপার হিসেবে নড়াইল, বাগেরহাট ও লক্ষ্মীপুর জেলায় দায়িত্ব পালন শেষে তিনি খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হন। ডিআইজি পদে পদোন্নতি পেয়ে তিনি হাইওয়ে পুলিশ, চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি, পুলিশ সদরদপ্তর এবং ঢাকা রেঞ্জ ডিআইজির দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে পুলিশ সদরদপ্তরে দায়িত্বে থাকা অবস্থায় ২০১৬ সালের ৩ নভেম্বর তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সে সময় রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রশাসনে রদবদলের অংশ হিসেবেই তাকে অবসরে পাঠানো হয়। বিএনপি ঘরানার কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে নীরব চাপ তৈরি করেছিল।
তিনি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশগ্রহণ করেন এবং দেশে-বিদেশে পেশাগত নানা প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। বাহিনীতে সৎ, দক্ষ ও মেধাবী কর্মকর্তা হিসেবে তার সুনাম ছিল বলে সহকর্মীরা জানান। ১৯৬১ সালের ২৫ মার্চ ঢাকায় জন্ম নেওয়া শেখ মো. সাজ্জাত আলী এনডিসি ডিগ্রিধারী। তিনি দুই কন্যা ও এক পুত্র সন্তানের জনক।
২০২৪ সালের নভেম্বরে অন্তর্বর্তী সরকার তার চাকরি পুনর্বহাল করে। ৫ আগস্ট পরবর্তী রাজধানীর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তিনি আবারও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখেন।
তাঁর সহকর্মীরা বলেন, দীর্ঘ কর্মজীবনে ব্যক্তিগত সম্পদ গড়ে তোলার চেয়ে পেশাগত সততাকেই তিনি প্রাধান্য দিয়েছেন; ঢাকায় নিজের বাড়ি বা উল্লেখযোগ্য ব্যাংক সঞ্চয় না থাকলেও নৈতিকতার প্রশ্নে আপস করেননি—এ কারণেই তাকে বাহিনীতে একজন নীতিবান কর্মকর্তা হিসেবে দেখা হয়।
কারণ, বিগত সরকারের আমলে পুলিশ বাহিনীতে যেসব প্রভাবশালী কর্মকর্তা ছিলেন তাদের মধ্যে প্রায় সকলেই অবৈধ উপায়ে শতশত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে টাকা হাতানোর অহরহ অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু এক্ষেত্রে সাজ্জাত আলী সম্পূর্ণ ভিন্ন। তার দায়িত্ব পালনের প্রায় ১৫ মাসে এমন অভিযোগ কেউ সামনে আনতে পারেনি। এমনকি অধিনস্ত কারও বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠলেও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন












































