ঈদের রাতে দোয়া কবুলের মহাসুযোগ, বিশেষ আমল ও ফিতরা আদায়ের গুরুত্ব

পবিত্র ঈদুল ফিতর মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। রমজান মাসজুড়ে ত্যাগ, সংযম ও সাধনার পর ঈদুল ফিতর উৎসব মুসলিম সমাজে আনন্দ ও মিলনের বার্তা নিয়ে আসে। বিশেষ করে ঈদের রাতের দোয়া অত্যন্ত ফজিলতময় ও কবুল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ইসলামিক পরামর্শ অনুযায়ী, ঈদের রাতে মুমিনের দোয়া বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। কারণ দোয়া মুমিনের হাতিয়ার, যা অসম্ভবকেও সম্ভব করতে পারে এবং জীবনে নেমে আসা বিপদ ও সমস্যার থেকে মুক্তি দেয়। হজরত ইবনে ওমর (রা.) বর্ণনা করেন, পাঁচটি রাতে দোয়া কখনো বিফলে যায় না—এর মধ্যে ঈদুল ফিতরের রাতও অন্তর্ভুক্ত।
ঈদের আগের রাতের কিছু বিশেষ আমলও রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো ফিতরা বা সদকাতুল ফিতর আদায়। এটি রমজানের রোজার ভুল-ত্রুটি পরিপূর্ণ করার জন্য ওয়াজিব করা হয়েছে। আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রা.) ও আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী, ঈদের সালাতের আগে ফিতরা প্রদান করলে তা সদকাতুল ফিতর হিসেবে গ্রহণযোগ্য হবে। এ বছরের ফিতরা জনপ্রতি সর্বনিম্ন ১১০, সর্বোচ্চ ২৮০৫ টাকা।
কোনো ব্যক্তি (ঈদের দিন সুবহে সাদিকের সময়) নেছাব পরিমাণ (সাড়ে ৭ তোলা স্বর্ণ বা সাড়ে ৫২ তোলা রুপার সমপরিমাণ) মালের মালিক হলে ঈদের দিন সকালে তার ওপর নিজের, নাবালক সন্তানসহ নির্ভরশীলদের সাদকাতুল ফিতর আদায় করা ওয়াজিব হয়। ঈদের নামাজে যাওয়ার আগে ফিতরা আদায় করতে হয়।
নতুন চাঁদ দেখা এবং দোয়া পড়াও সুন্নাত। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নতুন চাঁদ দেখলে বিশেষ দোয়া পড়তেন, যার মাধ্যমে ঈমান, নিরাপত্তা, শান্তি ও ইসলামের বরকত কামনা করা হতো।
ঈদের রাতে নফল ইবাদতও গুরুত্বপূর্ণ। হাদিসে এসেছে, ঈদের রাত জেগে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ইবাদত করলে, এমন ব্যক্তি কিয়ামতের কঠিন দিনে অন্তর মরে না। এটি ঈদের রাতকে আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক মহাসুযোগ হিসেবে চিহ্নিত করে।
সর্বশেষে বলা যায়, ঈদের রাতে দোয়া ও নফল ইবাদত মুসলিম জীবনের স্পৃহা ও ধ্যানকে বাড়িয়ে দেয়। ফিতরা আদায়, নতুন চাঁদে দোয়া ও রাতভর ইবাদত ইসলামিক জীবনাচরণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
(ঢাকাটাইমস/১৯ মার্চ/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













