পবিত্র ঈদুল ফিতর কোন দেশে কবে, জানুন সব দেশে ঈদ একসাথে হয় না কেন

অনলাইন ডেস্ক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ১৯ মার্চ ২০২৬, ১০:১৩
অ- অ+

রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস রমজানের সিয়াম সাধনা শেষে শাওয়ালের একফালি উদিত চাঁদ যেন বিপুল খুশির বার্তা হয়ে ধরণিতে আনন্দের ফল্গুধারা বইয়ে দেয়। রমজান মাসে ফিতরা প্রদান, জাকাত আদায় ও শাওয়াল মাসের প্রথম দিন ঈদের নামাজের ভেতর দিয়ে এমন কিছু দায়িত্ব পালন করতে হয়, যার প্রভাব ব্যক্তি ও সামাজিক জীবনে সুদূরপ্রসারী। বন্ধুত্ব, ভ্রাতৃত্ব ও সহমর্মিতা প্রদর্শনের জন্য রমজানের শিক্ষা তাৎপর্যমণ্ডিত। বছরজুড়ে নানা প্রতিকূলতা, দুঃখ-বেদনা সব ভুলে ঈদের দিন মানুষ সবার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে মিলিত হয়। ঈদগাহে কোলাকুলি, সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও ভালোবাসার বন্ধনে সবাইকে নতুন করে আবদ্ধ করে।

পৃথিবীর বুকে চন্দ্র ওঠা ও অস্ত যাওয়ার ওপর কিছু ইবাদত বন্দেগি নির্ভর করে। আর কিছু ইবাদত বন্দেগী নির্ভর করে সূর্যের উদয় ও অস্ত যাওয়ার ওপর। যেমন আমরা ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়ি। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সম্পর্ক সূর্যের সময়ের সঙ্গে। আর রোজার সম্পর্ক চাঁদের সঙ্গে। ঈদের সম্পর্ক চাঁদ ওঠার সঙ্গে।

পবিত্র ঈদুল ফিতরের তারিখ ঘোষণা করেছে সৌদি আরব, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর ও অস্ট্রেলিয়া। তবে ভৌগোলিক অবস্থান ও বৈজ্ঞানিক গণনার ভিন্নতার কারণে তারিখে ভিন্নতা আছে। এটি চাঁদ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে নতুন মাসের শুরু নির্ধারণের ইসলামি ঐতিহ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

সৌদি আরব

সৌদি আরব জানিয়েছে বুধবার পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। যার ফলে দেশটিতে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে আগামী ২০ মার্চ।

তুরস্ক

তুরস্কের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২০ মার্চ দেশটিতে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন হবে। দেশটির জ্যোতির্বিজ্ঞানিদের হিসাব অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার তুরস্কের আকাশে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। সেই হিসেবে শুক্রবার হবে শাওয়াল মাসের প্রথম দিন বা ঈদ।

অস্ট্রেলিয়া

অস্ট্রেলিয়ায়ও ২০ মার্চ ঈদ উদযাপন করবেন মুসলমানরা। অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইমামস কাউন্সিল এ তথ্য জানিয়েছে। সংস্থাটির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অস্ট্রেলিয়া ও বিশ্বজুড়ে চাঁদ দেখার দায়িত্বে থাকা জ্যোতির্বিজ্ঞান পর্যবেক্ষণাগার এবং বিশেষায়িত বৈজ্ঞানিক সংস্থাগুলোর নির্দেশনা অনুসরণ করে অস্ট্রেলিয়ান ফতোয়া কাউন্সিল এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ফ্রান্স

পবিত্র ঈদুল ফিতরের তারিখ ঘোষণা করেছে ইউরোপের দেশ ফ্রান্স। ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী শুক্রবার (২০ মার্চ) পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। বুধবার (১৮ মার্চ) প্যারিসের গ্র্যান্ড মসজিদে আয়োজিত এক সভায় দেশটির প্রধান মুসলিম সংগঠনগুলো যৌথভাবে এই তারিখ ঘোষণা করেছে।

সিঙ্গাপুর

সিঙ্গাপুর জানিয়েছে, দেশটিতে শনিবার (২১ মার্চ) ঈদুল ফিতর পালিত হবে। তাদের বৈজ্ঞানিক তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সিঙ্গাপুরের আকাশে চাঁদ দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে দেশটিতে রমজান মাস ৩০ দিন পূর্ণ হবে এবং শনিবার ঈদ উদযাপন হবে।

কাতার

কাতার কাতার জানিয়েছে, বুধবার পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। যার ফলে দেশটিতে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে আগামী ২০ মার্চ।

সংযুক্ত আরব আমিরাত

সংযুক্ত আরব আমিরাত ঈদুল ফিতরের তারিখ ঘোষণা করেছে। দেশটি নিশ্চিত করেছে যে ৩০ দিনের রমজান মাস শেষ হয়েছে। (১৮ মার্চ) শাওয়ালের চাঁদ দেখতে না পাওয়ায় শুক্রবার ঈদুল ফিতর উদযাপন করা হবে।

বাহরাইন

বাহরাইন আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে যে শুক্রবার ( ২০ মার্চ) দেশটিতে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে।

সব দেশে ঈদ একসাথে হয় না কেন

ঈদুল ফিতর বা রমজানের ঈদ প্রতি বছর একই সময়ে না হওয়ার মূল কারণ হলো হিজরি ক্যালেন্ডার বা চন্দ্রচক্র। এটি ইংরেজি বছরের মতো সৌর বছর মেনে চলে না, বরং চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল। হিজরি মাস ২৯ বা ৩০ দিনে হওয়ায় প্রতি বছর ঈদ আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১০-১২ দিন এগিয়ে আসে।

পবিত্র ঈদুল ফিতর সারা বিশ্বে একই দিনে না হওয়ার পেছনে মূল কারণগুলো হলো:

চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীলতা: ইসলামি শরীয়াহ অনুযায়ী, শাওয়াল মাসের নতুন চাঁদ দেখার পর ঈদুল ফিতর নির্ধারিত হয়। চাঁদ স্থানীয়ভাবে দেখা যেতে হবে, অথবা বিশ্বব্যাপী চাঁদ দেখার নিয়ম মেনে চলতে হবে, যা নিয়ে মতভেদ রয়েছে।

ভৌগোলিক অবস্থান ও সময়ের পার্থক্য: বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে সময়ের পার্থক্যের কারণে চাঁদ দেখার সময় ভিন্ন হয়। অনেক সময় মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে চাঁদ দেখা গেলেও বাংলাদেশে তা দেখা যায় না, ফলে পরের দিন ঈদ হয়।

আবহাওয়া ও মেঘ: অনেক সময় মেঘ বা প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে নির্দিষ্ট স্থানে চাঁদ দেখা যায় না, কিন্তু পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে বা অন্য দেশে চাঁদ দেখা যায়।

হিজরি বর্ষপঞ্জি: হিজরি বছর সৌর বছরের চেয়ে কম হওয়ায় প্রতি বছর ঈদের দিন ১০-১১ দিন এগিয়ে আসে।

মূলত, স্থানীয়ভাবে চাঁদ দেখা যাওয়া বা না যাওয়া এবং ভৌগোলিক দূরত্বের কারণে বিশ্বের সব জায়গায় একই সময়ে ঈদ উদযাপন হয় না।

অন্যদিকে যারা সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানের ঈদ পালন করে তারা হচ্ছেন রাসুলের সুন্নাহ বিরোধী। রাসুলের সুন্নতকে অস্বীকার করে। ঈদের সঠিক দিন নির্ধারণ নিয়ে ইসলামে যে নীতি রয়েছে, তা হাদিসের ভিত্তিতে চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, "তোমরা চাঁদ দেখে রোজা রাখো এবং চাঁদ দেখে ঈদ করো। যদি আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকে, তবে শাবানের ৩০ দিন পূর্ণ করো।" (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৯০৯; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১০৮১)

এ হাদিস থেকে স্পষ্ট যে, ঈদের দিন নির্ধারণের মূল ভিত্তি হলো চাঁদ দেখা। এক দেশ বা এক জায়গার চাঁদ দেখার ভিত্তিতে সারা বিশ্বের জন্য এক দিন নির্ধারণ করা রাসূল (সা.)-এর সুন্নাহ নয়।

একবার ইবনে আব্বাস (রাঃ) এর কাছে কুফা থেকে একজন এসে বললেন, তাঁরা মদিনার এক দিন আগে চাঁদ দেখেছেন। তখন ইবনে আব্বাস (রাঃ) বললেন, "নবী (সা.)-আমাদেরকে চাঁদ দেখে রোজা রাখতে এবং চাঁদ দেখে ঈদ করতে বলেছেন। আমরা আমাদের চাঁদ দেখেছি, তোমরা তোমাদের চাঁদ দেখেছ।" (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১০৮৭)

এটি প্রমাণ করে যে, ভিন্ন স্থানে চাঁদ দেখার পার্থক্যের কারণে ঈদ ভিন্ন দিনে হতে পারে।

তবে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশের জন্য তাদের নিজ নিজ আকাশে চাঁদ দেখার ভিত্তিতেই ঈদ করা উচিত। সৌদি আরবের চাঁদ দেখার সাথে মিলিয়ে ঈদ করা রাসূল (সা.)-এর সুন্নাহ অনুযায়ী নয়।

(ঢাকাটাইমস/১৯ মার্চ/আরজেড)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
মাদকের বিরুদ্ধে কোনো ছাড় নেই, পুলিশও ছাড় পাবে না: খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি
বাবার দাফন শেষে রাতে চাকরি, সকালে পরীক্ষা; সেই ইকনের পড়াশোনার দায়িত্ব নিচ্ছেন শিক্ষামন্ত্রী
আতিফ আসলামের কনসার্টের ভেন্যু পরিবর্তন
পুলিশের ঊর্ধ্বতন ছয় কর্মকর্তাকে বদলি
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা