পারমাণবিক শক্তিতে বাংলাদেশ, চার গ্রাম ইউরেনিয়ামে জ্বলবে হাজারো বাতি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৪:০৯
অ- অ+

বাংলাদেশ পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত ধাপে পৌঁছে এক নতুন যুগে প্রবেশ করেছে। পাবনার পদ্মা নদীর তীরে অবস্থিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র-এর চুল্লিতে ইউরেনিয়াম জ্বালানি সংযোজন শুরু হওয়ায় দেশ এখন জীবাশ্ম জ্বালানির সীমাবদ্ধতা পেরিয়ে শক্তির এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ারে দাঁড়িয়ে।

এই প্রকল্পের সবচেয়ে বিস্ময়কর দিক হলো এর জ্বালানি দক্ষতা। যেখানে একটি সাধারণ যানবাহন চালাতে কয়েক লিটার ডিজেল প্রয়োজন হয়, সেখানে মাত্র সাড়ে ৪ গ্রাম ওজনের একটি ইউরেনিয়াম পেলেট প্রায় ৪১৭ লিটার ডিজেলের সমপরিমাণ শক্তি উৎপাদন করতে পারে।

পারমাণবিক জ্বালানির কার্যক্ষমতা প্রচলিত জ্বালানির তুলনায় বহুগুণ বেশি। বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি মাত্র ইউরেনিয়াম পেলেট থেকে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ পাওয়া যায়, তা উৎপাদনে প্রায় ৪০০ কেজি কয়লা বা ৩৬০ ঘনমিটার গ্যাসের প্রয়োজন হতো।

অন্যভাবে বলা যায়, এক কেজি পারমাণবিক জ্বালানি প্রায় ৬০ টন তেল বা ১০০ টন কয়লার সমান শক্তি সরবরাহ করতে সক্ষম।

এই শক্তির উৎস হলো নিউক্লিয়ার ফিশন—একটি নিয়ন্ত্রিত বিক্রিয়া, যেখানে ইউরেনিয়াম-২৩৫ বিভাজিত হয়ে বিপুল তাপ উৎপন্ন করে। সেই তাপে পানি বাষ্পে পরিণত হয় এবং টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।

পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তেজস্ক্রিয়তার আশঙ্কা থাকলেও রূপপুর প্রকল্পে রাখা হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

প্রথম ধাপে, ইউরেনিয়াম পেলেট এমনভাবে তৈরি করা হয় যাতে তেজস্ক্রিয়তা এর ভেতরেই আবদ্ধ থাকে।

দ্বিতীয় ধাপে, পেলেটগুলো জিরকোনিয়াম অ্যালয়ের তৈরি সিল করা ফুয়েল রডে রাখা হয়।

একাধিক ফুয়েল রড মিলে তৈরি হয় ফুয়েল অ্যাসেম্বলি, এবং প্রতিটি ১২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার চুল্লিতে স্থাপন করা হবে ১৬৩টি অ্যাসেম্বলি। এই বহুস্তর সুরক্ষা ব্যবস্থা তেজস্ক্রিয়তা বাইরে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কার্যত শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনে।

তেল, গ্যাস বা কয়লা পোড়ানোর ফলে যেখানে বিপুল কার্বন নিঃসরণ হয়, সেখানে পারমাণবিক শক্তি উৎপাদনে কার্বন নির্গমন অত্যন্ত কম। ফলে এটি পরিবেশবান্ধব ও দীর্ঘমেয়াদে নির্ভরযোগ্য জ্বালানি উৎস হিসেবে বিবেচিত।

এছাড়া ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানি পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করে আবারও শক্তি উৎপাদনে ব্যবহার করা সম্ভব, যা জ্বালানি ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করে তোলে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশ শুধু বিদ্যুতের ঘাটতি পূরণেই নয়, বরং সাশ্রয়ী ও কার্বনমুক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের বৈশ্বিক মানদণ্ডে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করছে।

জ্বালানি লোডিং কার্যক্রমের এই সূচনা উন্নত ও টেকসই বাংলাদেশের পথে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

(ঢাকাটাইমস/২৯ এপ্রিল/আরজেড)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
রাবি শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগে স্টেশন ঘেরাও, ট্রেনের যাত্রা বাতিল
প্রথম স্ত্রীসহ এমপি গাজী নজরুলকে গ্রেপ্তার দেখালো পুলিশ
প্রতিটি বারে হুটহাট অভিযান হবে, পারমিট ছাড়া মদ খেলেই গ্রেপ্তার: ডিসি ইলিয়াস কবির
নতুন দায়িত্বে দুই অতিরিক্ত আইজিপি