উইং কমান্ডার মুকিতকে নিয়ে ‘ভুল তথ্য ছড়ানোর’ অভিযোগ, পোস্টে যা বললেন জুলকারনাইন সায়ের

বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর কর্মকর্তা উইং কমান্ডার মুকিতকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো একটি পোস্টকে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার’ বলে দাবি করেছেন প্রবাসী অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন খান সায়ের।
শনিবার নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস আলী মোল্লা’র ফেসবুক পেজ থেকে প্রকাশিত একটি পোস্টে উইং কমান্ডার মুকিতের বদলি আদেশকে কেন্দ্র করে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও ‘ভিত্তিহীন আশঙ্কা’ ছড়ানো হয়েছে। একই পোস্টে উইং কমান্ডার রাজিবুল ইসলামকে নিয়েও বিভিন্ন অভিযোগ তোলেন তিনি।
শনিবার নিজের ফেসবুক পোস্টে জুলকারনাইন খান সায়ের এ অভিযোগ করেন। পোস্টে তিনি বলেন, সম্প্রতি প্রকাশিত বিমান বাহিনীর একটি বদলি আদেশে তিন কর্মকর্তার নাম ছিল। তারা হলেন— উইং কমান্ডার হোসেন মুহাম্মদ রাজিব (বিমান সদর থেকে লালমনিরহাট), উইং কমান্ডার রাজিবুল ইসলাম (লালমনিরহাট থেকে এটিআই, চট্টগ্রাম) এবং উইং কমান্ডার মুকিত (এটিআই, চট্টগ্রাম থেকে হেলিকপ্টার সিমুলেটর, ঢাকা)।
সায়েরের দাবি, ওই পোস্টে মূলত উইং কমান্ডার মুকিতকে টার্গেট করে দুটি ‘অসত্য দাবি’ করা হয়। সেখানে বলা হয়, তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের হেলিকপ্টার পাইলট ছিলেন এবং তাকে আবার ‘ভিভিআইপি পাইলট’ হিসেবে ১০১ ইউনিটে পোস্টিং দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বদলির সঙ্গে উগ্রবাদী সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানকে সম্পৃক্ত করে বিভিন্ন আশঙ্কাও প্রকাশ করা হয়।
জুলকারনাইন সায়ের তাঁর পোস্টে দাবি করেন, উইং কমান্ডার মুকিতকে ১০১ ইউনিটে ‘ভিভিআইপি পাইলট’ হিসেবে পোস্টিং দেওয়া হয়নি এবং তিনি কখনো শেখ হাসিনা বা আব্দুল হামিদের পাইলট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেননি। তাঁর ভাষ্য, মুকিতকে হেলিকপ্টার সিমুলেটর ইউনিটে (HSTI) কাজ করার জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যেখানে প্রকৃত উড্ডয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হয় না। বিমান বাহিনীতে এক ইউনিটে পোস্টিং দিয়ে অন্য ইউনিটে সংযুক্ত (অ্যাটাচ) রাখার চর্চা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
পোস্টে জুলকারনাইন খান সায়ের আরও প্রশ্ন তোলেন, কেন এই পোস্টিংকে ঘিরে ‘ভীতি’ তৈরি করা হলো এবং কারা এ থেকে লাভবান হওয়ার চেষ্টা করছে। তিনি দাবি করেন, উইং কমান্ডার মুকিতের স্থানে চট্টগ্রামে বদলি হওয়া উইং কমান্ডার রাজিবুল ইসলাম তার বর্তমান কর্মস্থল লালমনিরহাট ছাড়তে অনাগ্রহী ছিলেন।
উইং কমান্ডার রাজিবকে নিয়ে পোস্টে একাধিক গুরুতর অভিযোগও তোলেন সায়ের। তাঁর দাবি, রাজিব সাবেক বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল (অব.) শেখ আব্দুল হান্নানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন এবং ২০২২ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত তার সহকারী ব্যক্তিগত সচিব (এপিএস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। একই সঙ্গে সাবেক এমপি ইলিয়াস আলী মোল্লার সঙ্গে হান্নানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সায়েরের পোস্টে আরও বলা হয়, উইং কমান্ডার রাজিবের বিরুদ্ধে অপেশাদার আচরণ, রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার, নারীঘটিত কেলেঙ্কারিসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে, যা বিমান বাহিনীর অভ্যন্তরীণ তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তার বাড়ি গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে বলেও পোস্টে উল্লেখ করা হয়।
পোস্টে বলা হয়, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি নিজেকে দলটির সমর্থক কর্মকর্তা হিসেবে উপস্থাপন করতেন এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের আত্মীয় পরিচয় ব্যবহার করতেন। তার বিরুদ্ধে ভিভিআইপি নিরাপত্তা ছাড়পত্র ছাড়া শেখ হাসিনার হেলিকপ্টার ফ্লাইটে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার চেষ্টার অভিযোগও তোলা হয়।
জুলকারনাইন খান সায়ের তাঁর পোস্টে আরও দাবি করেন, ২০০৯ সালে রাজিবের প্রথম স্ত্রী শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগে তাকে তালাক দেন এবং নারী নির্যাতনের মামলা করেন। পাশাপাশি গৃহকর্মীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগও তোলা হয়। সাবেক বিমান বাহিনী প্রধানের নির্দেশে নারী সদস্য নিয়োগে প্রশ্নবিদ্ধ প্রক্রিয়া পরিচালনার অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধে রয়েছে বলে পোস্টে উল্লেখ করা হয়।
এ ছাড়া জমি দখল, ভয়ভীতি প্রদর্শন, আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন এবং বিভিন্ন আদালত ও থানায় অভিযোগ দায়েরের বিষয়ও পোস্টে তুলে ধরা হয়। কাশিয়ানী থানার সাবেক ওসির সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতার অভিযোগও করেন সায়ের।
পোস্টে আরও বলা হয়, ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে রাজিব বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরির চেষ্টা করেন এবং বর্তমানে বিএনপির নেতাদের সঙ্গেও যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা করছেন বলে প্রচার রয়েছে।
জুলকারনাইন খান সায়ের তাঁর পোস্টের শেষাংশে বলেন, উইং কমান্ডার রাজিবুল ইসলামের মতো ‘ধূর্ত, স্বার্থপর ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ’ ব্যক্তি সামরিক বাহিনীর জন্য নিরাপত্তা ঝুঁকি হতে পারেন। তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো বিবেচনায় নিয়ে তাকে চাকরিতে রাখা উচিত কি না, তা যথাযথ কর্তৃপক্ষের বিবেচনা করা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন












































