শোলাকিয়ায় ১৯৯তম ঈদ জামাত বৃহস্পতিবার, থাকছে কঠোর নিরাপত্তা

দেশের অন্যতম বৃহৎ ও ঐতিহ্যবাহী ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে। পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে এবার ১৯৯তম ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায়। লাখো মুসল্লির অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা।
মঙ্গলবার দুপুরে শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান এবং র্যাব-১৪-এর কর্মকর্তারা পৃথকভাবে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ঈদ জামাতে ইমামতি করবেন কিশোরগঞ্জ বড় বাজার জামে মসজিদের খতিব মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। বিকল্প ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন হয়বতনগর এ ইউ কামিল মাদ্রাসার প্রভাষক মাওলানা জুবায়ের ইবনে আব্দুল হাই।
নারীদের জন্যও পৃথক ঈদ জামাতের আয়োজন করা হয়েছে। সকাল ৮টায় সূর্যবালা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে ওই জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
নিরাপত্তার বিষয়ে জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন বলেন, ঈদগাহ মাঠ ও আশপাশের এলাকায় প্রায় ৬০০ পুলিশ সদস্য, দুই প্লাটুন বিজিবি এবং ৫৫ জন র্যাব সদস্য মোতায়েন থাকবে। মাঠে চারটি ওয়াচ টাওয়ার স্থাপন করা হয়েছে। পুরো এলাকাকে আটটি সেক্টরে ভাগ করে নিরাপত্তা দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে। এ ছাড়া নয়জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন।
তিনি জানান, পুরো এলাকায় ৬৪টি সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে থাকবে চেকপোস্ট। মুসল্লিদের যাতায়াত সহজ করতে ভৈরব ও ময়মনসিংহ থেকে বিশেষ ট্রেন চালানো হবে।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, নিরাপত্তার অংশ হিসেবে ৩২টি চেকপোস্ট, সাতটি আর্চওয়ে গেট ও ৫০টি মেটাল ডিটেক্টর বসানো হয়েছে। মুসল্লিদের শুধু জায়নামাজ সঙ্গে আনার অনুরোধ জানানো হয়েছে। টর্চলাইট, ম্যাচ বা দাহ্য বস্তু বহনে নিষেধাজ্ঞা থাকবে।
তিনি আরও বলেন, ড্রোন, ভিডিও ক্যামেরা ও সাদা পোশাকের গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে পুরো এলাকা পর্যবেক্ষণ করা হবে। বোম্ব ডিসপোজাল টিমও প্রস্তুত থাকবে।
র্যাব-১৪-এর স্কোয়াড্রন লিডার মো. আলী নোমান জানান, ওয়াচ টাওয়ারে স্নাইপার টিম মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি স্ট্রাইকিং ফোর্স ও রিজার্ভ ফোর্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
মুসল্লিদের সুবিধার্থে মাঠে অস্থায়ী অজুখানা, টয়লেট, ইউরিনাল ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। চিকিৎসাসেবার জন্য থাকবে মেডিকেল টিম ও অ্যাম্বুলেন্স। উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ৭ জুলাই ঈদুল ফিতরের জামাত চলাকালে শোলাকিয়া ঈদগাহের কাছে জঙ্গি হামলায় দুই পুলিশ সদস্যসহ চারজন নিহত হন। এরপর থেকে প্রতি বছরই ঈদ জামাতে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
জনশ্রুতি রয়েছে, ১৮২৮ সালে এ ঈদগাহে এক লাখ ২৫ হাজার মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করেছিলেন। ‘সোয়ালাখ’ মুসল্লির সেই ঘটনা থেকেই ‘শোলাকিয়া’ নামের উৎপত্তি।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন












































