কুষ্টিয়ায় বিএনপির দুই নেতার পাল্টাপাল্টিতে উত্তপ্ত রাজনীতি

কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলা বিএনপির রাজনীতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। দুটি পক্ষ সমাবেশ ও সংবাদ সম্মেলনে পরস্পরের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলেছেন। একদিকে মিরপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক টিপু সুলতান ও গত নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী এবং অপর পক্ষে রয়েছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক শহীদুল ইসলাম। শহীদুল কুষ্টিয়া-২ (ভেড়ামারা-মিরপুর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্যও।
বর্তমান টানাপোড়েনের শুরু শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায় দেওয়া টিপু সুলতানের বক্তব্যকে ঘিরে।
ওই সমাবেশে টিপু সুলতান আপত্তিকর ও অসম্মানজনক বক্তব্য দিয়েছেন বলে অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন কুষ্টিয়া-২ (ভেড়ামারা-মিরপুর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য। সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক শহীদুল ইসলাম বলেন, টিপু সুলতানের বক্তব্য ছিল পরিকল্পিত। তিনি অবশ্য বলেন, ‘ওর (টিপু) মতো একজন নেতা কী বলল, তাতে বিএনপির ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না।’
একই আসনের বিএনপির মনোনীত সাবেক প্রার্থী ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী ও সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিনের নাম উল্লেখ করে শহীদুল ইসলাম হুঁশিয়ার করেন, দলের ভেতরে বিভক্তি বা গ্রুপিং সৃষ্টি হলে তা নির্বাচনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী এমন কিছু করবেন না, যা নির্বাচনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে শনিবার (৩০ মে) সমাবেশে উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও তিনি কেন টিপু সুলতানকে আপত্তিকর বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত রাখেননি, তা আমার জানা নেই।’
ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরীর উদ্দেশে শহীদুল ইসলাম বলেন, ভবিষ্যতে দলীয় মনোনয়ন ও নির্বাচনী সাফল্যের জন্য তৃণমূল নেতা-কর্মীদের সমর্থন অপরিহার্য। তাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করলে তা ভালো হবে না।
টিপু সুলতানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে শহীদুল ইসলাম বলেন, টিপু অতীতে বিভিন্ন মামলার আসামি ছিলেন এবং রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। নিজের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন শহীদুল।
তিনি নিজেও আতঙ্কিত এবং মিরপুরে যেতে হলে তাকে সতর্ক থাকতে হয়- এ কথা উল্লেখ করে শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘কারণ, এমন কোনো অপকর্ম নেই, যা টিপু সুলতান করতে পারেন না।’
গত রবিবার (৩১ মে) সন্ধ্যায় ভেড়ামারা উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তৌহিদুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সভাপতি আবু দাউদ, সদস্যসচিব শফিকুল ইসলাম ডাবলু, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম এবং চাঁদগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জানবার হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে শনিবার বিকেলে মিরপুর উপজেলা বিএনপির আয়োজনে দলীয় কার্যালয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও কুষ্টিয়া-২ আসনের সাবেক বিএনপি প্রার্থী ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী।
সেই সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে মিরপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক টিপু সুলতান দাবি করেন, জাতীয় নির্বাচনে ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরীর পরাজয়ের পেছনে অধ্যাপক শহীদুল ইসলামের ভূমিকা ছিল। নির্বাচনের সময় অর্থ লেনদেন ও ভোট কেনাবেচার ঘটনা ঘটেছে বলেও অভিযোগ করেন টিপু।
টিপু সুলতান তার বক্তব্যে অধ্যাপক শহীদুল ইসলাম সম্পর্কে বিভিন্ন মন্তব্য করেন, যা নিয়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সদস্যসচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে এক নেতার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে অপর নেতা সংবাদ সম্মেলন করেছেন। বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। দ্রুত উভয় পক্ষকে নিয়ে বসে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করা হবে।’
(ঢাকাটাইমস/২জুন/মোআ)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













































