আজ আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস

আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস–২০২৬ আজ বুধবার (১০ জুন) যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে বিশ্ব শান্তিরক্ষায় জীবন উৎসর্গকারী ও আহত শান্তিরক্ষীদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়।
রাজধানীর ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে আয়োজিত মূল অনুষ্ঠানে সকাল ১০টার দিকে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অনুষ্ঠানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে শাহাদাতবরণকারী বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের পরিবারের সদস্যদের সম্মাননা প্রদান করা হয়।
সুদানে জাতিসংঘের পতাকাতলে দায়িত্ব পালনকালে প্রাণ হারানো বাংলাদেশের ছয় শান্তিরক্ষীকে মরণোত্তর জাতিসংঘের মর্যাদাপূর্ণ ‘ড্যাগ হ্যামারশোল্ড মেডেল’ প্রদান করা হয়। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ সম্মাননা দেওয়া হয়।
গত শুক্রবার (৫ জুন) আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত স্মারক অনুষ্ঠানে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত সালাউদ্দিন নোমান চৌধুরীর হাতে পদকগুলো তুলে দেন।
পদকপ্রাপ্ত বাংলাদেশি ছয় শান্তিরক্ষী হলেন- কর্পোরাল মো. মাসুদ রানা, প্রাইভেট মো. জাহাঙ্গীর আলম, প্রাইভেট মো. সবুজ মিয়া, প্রাইভেট মো. মোমিনুল ইসলাম, প্রাইভেট শামীম রেজা এবং প্রাইভেট সান্তো মন্ডল।
২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর সুদানের কাদুগলির আবেই অঞ্চলে জাতিসংঘের অন্তর্বর্তী নিরাপত্তা বাহিনীতে (ইউএনআইএসএফএ) দায়িত্ব পালনকালে এক ড্রোন হামলায় তারা নিহত হন।
জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে সর্বোচ্চ আত্মত্যাগকারী সামরিক, পুলিশ ও বেসামরিক সদস্যদের মরণোত্তর ড্যাগ হ্যামারশোল্ড মেডেল প্রদান করা হয়।
দায়িত্ব পালনকালে প্রাণ হারানো শান্তিরক্ষীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাদের স্মরণে অনুষ্ঠানে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন জাতিসংঘ মহাসচিব। এ সময় এক মিনিট নীরবতাও পালন করা হয়।
দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে জাতীয় দৈনিকগুলোতে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এবং বাংলাদেশ বেতারে বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠান প্রচার করা হয়।
বাংলাদেশ পুলিশ দীর্ঘদিন ধরে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছে। ১৯৮৯ সালে নামিবিয়া মিশনের মাধ্যমে তাদের শান্তিরক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়।
এ পর্যন্ত বাংলাদেশ পুলিশের ১ হাজার ৯২৮ জন নারী সদস্যসহ মোট ২১ হাজার ৮২৮ জন শান্তিরক্ষী ২৫টি দেশের ২৭টি মিশনে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে ৮ জন নারী সদস্যসহ ৩৭ জন পুলিশ কর্মকর্তা বিভিন্ন জাতিসংঘ মিশনে কর্মরত রয়েছেন।
শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে এ পর্যন্ত বাংলাদেশ পুলিশের ২৫ জন সদস্য জীবন উৎসর্গ করেছেন এবং ১৫ জন আহত হয়েছেন।
বাংলাদেশ পুলিশের শান্তিরক্ষীরা স্থানীয় জনগণের আস্থা অর্জনের পাশাপাশি মানবিক সহায়তা কার্যক্রমেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। হাইতির ভূমিকম্পসহ বিভিন্ন দুর্যোগ ও সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে তাদের ভূমিকা আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছে।
প্রায় চার দশক ধরে বাংলাদেশ শান্তিরক্ষা মিশনে সক্রিয় অংশগ্রহণ অব্যাহত রেখেছে এবং বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় অঙ্গীকারবদ্ধ রয়েছে বলে জানানো হয়।
উল্লেখ্য, প্রতিবছর ২৯ মে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস পালিত হয়। তবে এ বছর সরকারি ছুটি থাকায় দিবসটি ১০ জুন উদযাপন করা হয়।
(ঢাকাটাইমস/১০ জুন/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন











































