হরমুজে হেলিকপ্টার ভূপাতিতের জেরে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, তেহরানের হুঁশিয়ারি

হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন সামরিক হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার অভিযোগে ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, মঙ্গলবার থেকে এই হামলা শুরু হয়। ওয়াশিংটনের দাবি, ইরানের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ‘সমানুপাতিক জবাব’ হিসেবে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
সেন্টকম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানায়, মার্কিন বিমান বাহিনী ও নৌবাহিনীর যুদ্ধবিমান থেকে নির্ভুল গোলাবারুদ ব্যবহার করে হরমুজ প্রণালির নিকটবর্তী ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ভূমি নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র এবং নজরদারি রাডার স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে।
মার্কিন হামলার পর ইরানের পারস্য উপসাগরীয় উপকূলবর্তী অঞ্চল এবং হরমুজ প্রণালি সংলগ্ন এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, বন্দর আব্বাস, কিশম ও সিরিক এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
এর আগে সোমবার মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছে। পরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানি বাহিনী হেলিকপ্টারটি ভূপাতিত করেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, হেলিকপ্টারটি ওমান উপসাগরে গিয়ে পড়ে।
পরবর্তীতে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ইরানের শাহিদ ড্রোনের আঘাতে কয়েক মিলিয়ন ডলার মূল্যের হেলিকপ্টারটি ভূপাতিত হয়। তবে এটি ইচ্ছাকৃত হামলা ছিল নাকি দুর্ঘটনাবশত সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
হেলিকপ্টারটিতে থাকা দুই ক্রু সদস্য সমুদ্রে পড়ে গেলেও পরে সামুদ্রিক ড্রোনের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করা হয়। সামরিক অভিযানে ড্রোন ব্যবহার করে সেনা সদস্য উদ্ধারের এটিই প্রথম ঘটনা বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, হেলিকপ্টারের দুই পাইলটই সুস্থ আছেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, হেলিকপ্টারটি ইরান ভূপাতিত করেছে এবং এর জবাব দেওয়া হবে। তার এই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানে মার্কিন হামলা শুরু হয়।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন এই অভিযানে ইরানের প্রতিরক্ষা অবকাঠামো ও রাডার ব্যবস্থাকে প্রধান লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যে হামলা চালিয়েছে তার জবাব অবশ্যই দেওয়া হবে। যুদ্ধক্ষেত্রে পরাজয়ের পরও ওয়াশিংটন ইরানের দৃঢ় সংকল্পকে পরীক্ষা করতে চাইছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মার্কিনিদের উদ্দেশে আরাগচি বলেন, ‘যদি নিরাপদ থাকতে চান, তাহলে আমাদের অঞ্চল থেকে চলে যান।’
এ ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে সংঘাত আরও বিস্তৃত হতে পারে।
(ঢাকাটাইমস/১০ জুন/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন











































