বহুল আলোচিত ক্রিকেটার নাসির-তামিমার মামলার রায় আজ

ক্রিকেটার নাসির হোসেন ও তার স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মির বিরুদ্ধে বহুল আলোচিত মামলার রায় আজ বুধবার (১০ জুন) ঘোষণা করা হবে। আইনগতভাবে পূর্ববর্তী বৈবাহিক সম্পর্কের অবসান হওয়ার আগেই নতুন করে বিয়ের অভিযোগে দায়ের করা এ মামলার রায় ঘিরে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
ঢাকার অতিরিক্ত প্রধান মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক জশিতা ইসলাম এ মামলার রায় ঘোষণা করবেন। দীর্ঘ চার বছরেরও বেশি সময় ধরে বিচারিক প্রক্রিয়া চলার পর মামলাটি রায়ের পর্যায়ে পৌঁছেছে।
বাদীপক্ষের আইনজীবী ইসরাত হাসান দাবি করেছেন, সাক্ষ্য-প্রমাণের মাধ্যমে অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছেন তারা। তিনি বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং সর্বোচ্চ শাস্তির প্রত্যাশা করছেন।
তার ভাষ্য, আদালতের ওপর আস্থা রেখেই মামলা করা হয়েছিল। বিভিন্ন পর্যায়ে উচ্চ আদালতে রিভিশন আবেদন করা হলেও আসামিপক্ষ কাঙ্ক্ষিত ফল পায়নি। মামলায় ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যের মাধ্যমে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু বলেন, তাদের যুক্তিতর্কে আসামিদের খালাস পাওয়ার যথেষ্ট ভিত্তি তুলে ধরা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আদালত নাসির ও তামিমাকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেবেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বাদীপক্ষ বিভিন্নভাবে গণমাধ্যমে প্রচারণা চালিয়ে বিচারিক প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে, যা আদালত অবমাননার শামিল হতে পারে।
মামলার বাদী রাকিব হোসেনও রায়কে ঘিরে ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, রায়ের মাধ্যমে সমাজে একটি ইতিবাচক বার্তা যাবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা নিরুৎসাহিত হবে।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তামিমা সুলতানার সঙ্গে রাকিব হোসেনের বিয়ে হয়। তাদের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ওই বৈবাহিক সম্পর্ক বহাল থাকা অবস্থায় ২০২০ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি তামিমা ক্রিকেটার নাসির হোসেনকে বিয়ে করেন।
২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের বিয়ের ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি আলোচনায় আসে। পরে একই বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে মামলা দায়ের করেন রাকিব হোসেন।
তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর তদন্ত কর্মকর্তা শেখ মিজানুর রহমান নাসির হোসেন, তামিমা সুলতানা এবং তার মা সুমি আক্তারের বিরুদ্ধে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন। পরে সুমি আক্তারকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
২০২২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি আদালত অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে নাসির ও তামিমার বিচার শুরুর আদেশ দেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন আইনি প্রক্রিয়া শেষে মামলার বিচার চলতে থাকে। ২০২৩ সালের মার্চে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়ে ২০২৫ সালের এপ্রিল পর্যন্ত মোট ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়।
আত্মপক্ষ সমর্থনে তামিমা দাবি করেন, তিনি আইনগতভাবে আগের স্বামীকে তালাক দিয়েই নাসির হোসেনকে বিয়ে করেছেন।
মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত হলে নাসির হোসেনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪৯৭ ও ৪৯৮ ধারায় এবং তামিমা সুলতানার বিরুদ্ধে ৪৯৪, ৪৬৮ ও ৪৭১ ধারায় শাস্তির বিধান রয়েছে।
আইন অনুযায়ী, ৪৯৭ ধারায় সর্বোচ্চ পাঁচ বছর এবং ৪৯৮ ধারায় সর্বোচ্চ দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। অন্যদিকে ৪৯৪, ৪৬৮ ও ৪৭১ ধারার প্রতিটিতে সর্বোচ্চ সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।
বাদীপক্ষের আইনজীবীর দাবি, অভিযোগ প্রমাণিত হলে নাসিরের সর্বোচ্চ সাত বছর এবং তামিমার সর্বোচ্চ ২১ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। তবে আসামিপক্ষ নিজেদের নির্দোষ দাবি করে খালাসের আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।
আলোচিত এ মামলার রায়ের দিকে এখন নজর রয়েছে ক্রীড়াঙ্গনসহ দেশের বিভিন্ন মহলের।
(ঢাকাটাইমস/১০ জুন/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন











































