রুদ্ধশ্বাস টাইব্রেকারে অস্ট্রেলিয়াকে ৪-২ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলোতে মিশর

দীর্ঘ ৯২ বছরের অপেক্ষার পর বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে স্মরণীয় এক জয় তুলে নিল মিশর। নির্ধারিত সময় ও অতিরিক্ত সময় শেষে ১-১ সমতায় থাকা ম্যাচে টাইব্রেকারে অস্ট্রেলিয়াকে ৪-২ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে হোসাম হাসানের শিষ্যরা।
শনিবার ৪ জুলাই আর্লিংটনে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে মিশর। এর ফলও পেয়ে যায় তারা ম্যাচের ১৩তম মিনিটে। ফ্রি-কিক থেকে পরিকল্পিত আক্রমণে মোহাম্মদ সালাহ ছোট পাস বাড়িয়ে দেন ইমাম আশুরের কাছে। প্রথম শট প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে ফিরে এলেও দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় দুর্দান্ত হেডে বল জালে পাঠিয়ে মিশরকে এগিয়ে দেন আশুর।
গোলের পর আরও কয়েকবার ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করেছিল আফ্রিকার দলটি। ২১তম মিনিটে জিকোর সামনে আসে দারুণ সুযোগ। তবে অস্ট্রেলিয়ার রক্ষণভাগ ভেদ করেও লক্ষ্যভ্রষ্ট হন তিনি। পরে অবশ্য সহকারী রেফারি অফসাইডের পতাকা তোলেন।
প্রথমার্ধে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা মিশর দ্বিতীয়ার্ধে ধাক্কা খায়। ৫৫তম মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে ভেসে আসা বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে আত্মঘাতী গোল করে বসেন মোহাম্মদ হানি। তার ভুলে সমতায় ফেরে অস্ট্রেলিয়া।
এই আত্মঘাতী গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপ ইতিহাসে একাধিক আত্মঘাতী গোল করা প্রথম ফুটবলার হিসেবে নাম লেখান হানি। একই সঙ্গে ২০২৬ বিশ্বকাপেও গড়ে ওঠে নতুন রেকর্ড। চলতি আসরে আত্মঘাতী গোলের সংখ্যা পৌঁছে যায় ৬৭-তে, যা বিশ্বকাপের একক আসরে সর্বোচ্চ।
সমতায় ফেরার পর ম্যাচে বাড়তে থাকে উত্তেজনা। নির্ধারিত সময়ের যোগ করা সময়ে অস্ট্রেলিয়া নিশ্চিত গোলের সুযোগ পেলেও দুর্দান্ত সেভে দলকে রক্ষা করেন মিশরের গোলরক্ষক পেট্রিক বিচ। রাবিয়ার শক্তিশালী হেড ক্রসবারের ওপর দিয়ে ঠেলে দেন তিনি।
৯০ মিনিট শেষে ১-১ সমতায় থাকা ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। অতিরিক্ত ৩০ মিনিটেও কোনো দল গোল করতে না পারায় ফল নির্ধারণের জন্য আশ্রয় নিতে হয় টাইব্রেকারের।
টাইব্রেকারে শুরুতেই চাপে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। প্রথম শট নিতে এসে হ্যারি শুটার বল উড়িয়ে মারেন বারের ওপর দিয়ে। অন্যদিকে মাহমুদ সাবের সফল স্পটে মিশর এগিয়ে যায়। এরপর জ্যাকসন আরবিন গোল করে অস্ট্রেলিয়াকে লড়াইয়ে ফেরানোর চেষ্টা করলেও মিশর নিজেদের ধারাবাহিকতা ধরে রাখে।
তৃতীয় শটে আওয়ার মাবিল গোল করলেও চতুর্থ শটে হেরিংটনের ব্যর্থতায় আবারও পিছিয়ে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। শেষ পর্যন্ত আবদেল মাগিদ সফলভাবে বল জালে জড়ালে উৎসবে মেতে ওঠে মিশর শিবির।
টাইব্রেকারে ৪-২ ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে মিশর। এই জয়ে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে নিজেদের ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় সাফল্য অর্জন করল আফ্রিকার প্রতিনিধিরা। এখন শেষ ষোলোর লড়াইয়ে আরও বড় চ্যালেঞ্জের অপেক্ষায় রয়েছে পিরামিডের দেশ।
(ঢাকাটাইমস/৪ জুলাই/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন












































